default-image

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ বেশ বিরক্ত ছিলেন ব্যাপারটা নিয়ে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইনও। সেটি গোপন করার চেষ্টাও কখনো করেননি দুজন। সৌরভ গাঙ্গুলী কেন টসে দেরি করে আসেন, তাঁদের দাঁড় করিয়ে রাখেন অনেকক্ষণ—এ নিয়ে ওয়াহ-হুসেইনকে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেকবারই।

কিন্তু গাঙ্গুলীর তখনো এসব নিয়ে পরোয়া ছিল না, হয়তো এখনো নেই। ক্রিকেট তো ব্যাট-বলের পাশাপাশি মনেরও খেলা, খেলা শুরুর আগেই হয়তো অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের অধিনায়ককে একটা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা থেকেই অমন করতেন গাঙ্গুলী। কিন্তু দেরি করার সময়টাতে কী করতেন ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক? ভারতের সাবেক পেসার ইরফান পাঠান জানালেন, টসের সময় পার হয়ে গেলেও ‘দাদা’ হয়তো ড্রেসিংরুমে বসে নিজের ক্যাপ এপাশ-ওপাশ করে ঠিক করতেন, জুতা-সোয়েটার পরতেন। এমনকি দলের অন্যরা তাঁকে টসের সময়ের কথা মনে করিয়ে দিলেও গাঙ্গুলীর নিজের ‘মনস্তাত্ত্বিক খেলা’য় তাতে তেমন হেরফের হতো না!

গাঙ্গুলীর অধীনেই অস্ট্রেলিয়ায় ২০০৩-০৪ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি দিয়ে ভারতীয় দলে অভিষেক পাঠানের। সেই সফরের একটা স্মৃতির কথাই খেলার চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠান ‘ক্রিকেট কানেক্টেড’-এ বলছিলেন পাঠান, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমার প্রথম সফরে তিনি (গাঙ্গুলী) যখন স্টিভ ওয়াহকে টসের সময় দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, সেটা আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমি তখন ড্রেসিংরুমে ছিলাম। মনে আছে, যখন টসের সময় হতো, দাদা ঘড়ির দিকে তাকাতেন। দলের ম্যানেজার তখন তাঁকে মনে করিয়ে দিতেন এখন টসের জন্য বের হতে হবে।’

কিন্তু গাঙ্গুলী শুনতেন? পাঠানের কথা শুনে তেমনটা মনে হবে না। ২০০৪ সিডনি টেস্টের কথা। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে স্টিভ ওয়াহর শেষ টেস্ট ছিল সেটি। পাঠান জানালেন, ওই টেস্টের শুরুতে এমনকি শচীন টেন্ডুলকারও বলেকয়ে ঠিক সময়ে গাঙ্গুলীকে টসে পাঠাতে পারেননি!

‘সিডনি টেস্টের সময়, মনে আছে, শচীন ভাই এসে বলছিলেন, ‘‘দাদা, তোমার এখন যাওয়া উচিত। টসের সময় হয়ে গেছে।’’ কিন্তু দাদা আস্তে-ধীরে সময় নিয়ে আয়েশ করে জুতা পরলেন, সোয়েটার পরলেন, ক্যাপটা নাড়াচাড়া করে ঠিক করলেন’ - বলছিলেন পাঠান। টেস্টের আগে, টসের সময়ে, যেখানে স্টিভ ওয়াহ এসে দাঁড়িয়ে আছেন, সবদিক থেকে তাড়া আসছে তাঁর যাওয়ার - সেই মুহূর্তেও গাঙ্গুলীর অমন নির্ভার-নিষ্কম্প ভাব মুগ্ধ করেছে বটে পাঠানকে, ‘যখন একজন মানুষের কোনো কাজে দেরি হয়ে যায়, তাঁর চোখেমুখে চাপটা বোঝা যায়। কিন্তু দাদা কখনো তাড়াহুড়ো করতেনই না!’

গাঙ্গুলীর কারিশমার একটি দিকই হয়তো সেটি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন