বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েডের ইনিংসটি এল দলের বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই। বীরদের জন্ম হয় আসলে এমন পরিস্থিতিতেই। ৯৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য তখনো দরকার ৪৬ বলে ৮১ রান। ফিরে গেছেন মেরে খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ‘খ্যাতি’ থাকা প্রায় সবাই। উইকেটে মার্কাস স্টয়নিস আর ম্যাথু ওয়েড—দুজনের কারোরই ‘ম্যাচ উইনার’ হওয়ার খ্যাতি নেই খুব একটা।

ঠিক সে সময়ই স্টয়নিস আর ওয়েডের জুটিতে এল ৪১ বলে ৮১। স্টয়নিস প্রথমে আক্রমণের ভার নিলেন, দলকে অনেকটা পথ এগিয়ে দিলেন। ওয়েড দুর্দান্ত মুহূর্তটা আনলেন ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে, একেবারে দরকারের মুহূর্তে। শাহিন শাহ আফ্রিদির করা ১৯তম ওভারে পরপর তিনটি ছক্কা! ব্যস, ম্যাচ সেখানেই অস্ট্রেলিয়ার।

ওয়েড অস্ট্রেলীয় দলে নিজের জায়গা নিয়ে লড়ছিলেন। একই জায়গায় তাঁর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী কমপক্ষে তিনটি—অ্যালেক্স ক্যারি, পিটার হ্যান্ডসকম্ব আর টিম পেইন। এমনকি স্কোয়াডে থাকা জশ ইংলিশকেও অনেকে ওয়েডের জায়গায় একাদশে নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়েড পিটার নেভিলের কাছে জায়গা হারিয়েছিলেন একেবারে শেষ মুহূর্তে।

default-image

১৭ বলে ৪১ রানের বীরত্ব, বিশেষ করে ১৯তম ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে পরপর তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে অস্ট্রেলিয়াকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার পর ওয়েড কথার ঝাঁপি খুলে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর শেষ ম্যাচ মনে করেই খেলেছিলেন তিনি, ‘আমি এই ম্যাচের আগে খুবই নার্ভাস ছিলাম। ভেবেছিলাম, এটিই হয়তো অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আমার শেষ ম্যাচ। এ ম্যাচে খুব করেই চেয়েছিলাম নিজে ভালো কিছু করতে। দলের জয়টা তো আছেই।’

২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই মাইক হাসি সেন্ট লুসিয়ায় ২৪ বলে ৬০ করে অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে তুলেছিলেন। ওয়েডের ইনিংসটাও তো কম যায় না। তাঁর ইনিংসও অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছে। কে জানে এই ইনিংসই হয়তো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার আরেক শুভ যাত্রার সূচনা।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন