রাত পোহালেই শেষ হবে দীর্ঘ অপেক্ষা। গত বছর মার্চের পর বাংলাদেশ ফিরবে টেস্ট ক্রিকেটে। ওয়ানডে সিরিজে প্রত্যাশিত ধবলধোলাইয়ের পর টেস্ট ক্রিকেটেও একই দাপট দেখাতে চাইবে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে লাল বলের খেলায় ঘুরে দাঁড়াতে। চট্টগ্রাম টেস্ট সামনে রেখে গতকাল বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো কথা বলেছেন বিভিন্ন প্রসঙ্গে—
default-image

টেস্টের প্রস্তুতি যেমন হলো

প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে। চট্টগ্রামে এই সপ্তাহটা ভালো কেটেছে আমাদের। প্রায় এক বছর বিরতি শেষে টেস্ট না খেলা চ্যালেঞ্জের। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী, কারণ ভালো অনুশীলন করেছি। ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিয়েছি। ছেলেরা টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতে খুবই উদগ্রীব। আমরা এই সংস্করণে উন্নতি করতে চাই, নিজেদের মতো করে খেলতে চাই।

সাকিব কতটা ফিট

সাকিব যদিও তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পেরিয়ে এসেছে, কিন্তু সে এখনো শতভাগ সুস্থ নয়। এখনো এক দিন আছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী, সে প্রথম টেস্টের জন্য প্রস্তুত থাকবে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে, নেটে বোলিং-ব্যাটিং করেছে। খুব বেশি অস্বস্তি বোধ করেনি। সব মিলিয়ে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী যে, সে চট্টগ্রাম টেস্টে খেলবে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে দোটানা

তিন থেকে ছয়ে কারা ব্যাট করবে, সেটা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা আছে আমাদের। কিন্তু ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী কে হবে, সেটা নিয়ে আরও আলোচনা করব আমরা। সাইফ হাসান সর্বশেষ টেস্টে খেলেছিল। আবার সাদমান ইসলাম চোটে পড়ার আগে ওই জায়গায় খেলেছে। এই বিষয়েই নির্বাচকদের সঙ্গে আরও আলোচনা করব আমরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তি

ওয়েস্ট ইন্ডিজ গর্বিত ক্রিকেট জাতি। ওরা গত বছরে কিছু টেস্ট খেলেছে, যা আমরা খেলিনি। তাদের হালকাভাবে নিলে বিপদ হবে। ওদের দলে দারুণ কিছু ক্রিকেটার আছে। ক্রেইগ ব্র্যাফেট ধারাবাহিক পারফর্ম করা ক্রিকেটার। শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রোচ বিশ্বমানের বোলার। যেকোনো কন্ডিশনে ওরা শক্তিশালী দল। আমাদের তাই খুবই ভালো খেলতে হবে।

গতি নাকি ঘূর্ণিতে আস্থা

বিষয়টি কঠিন। কারণ, আমাদের দলে বেশ কয়েকজন দারুণ তরুণ পেসার আছে। ওদিকে চট্টগ্রামের উইকেট স্পিনারদের হয়ে কথা বলছে, যা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আমাদের শক্তির জায়গা অনুযায়ী খেলব। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমরা পেসার বের করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যেটা আমরা ওয়ানডেতে দেখিয়েছি। নির্বাচকদের সঙ্গে বসে পেস এবং স্পিন মিলিয়ে একটি আদর্শ বোলিং লাইনআপের ব্যাপারে কথা বলব। একাদশ কেমন হবে, সেটি নিশ্চিত করব কাল (আজ) উইকেট ও কন্ডিশন দেখে।

মুমিনুলের অধিনায়কত্ব

অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুলের উন্নতির জন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এমন কয়েকজন খেলোয়াড় আছে, যারা ১০-১২ বছর ধরে খেলছে। তামিম, মুশফিক, সাকিব। তাদের সমর্থন অধিনায়কের জন্য সবচেয়ে জরুরি। অধিনায়ককে বিভিন্ন উপায় বলে দেওয়া, পথ দেখানো, বিশেষ করে যখন ম্যাচের পরিস্থিতি খুব কঠিন থাকে, তখন এসব পরামর্শ কাজে লাগে। আমি তার সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পেয়েছি। সে চুপচাপ একজন মানুষ কিন্তু সংকল্পবদ্ধ একজন ক্রিকেটার। ব্যাটিংয়ের সময় সে নিজের সবটুকু দেয়। সে মাত্র শুরু করল। অধিনায়ক হিসেবে পায়ের নিচে মাটি খুঁজে নিতে এবং নিজেকে গড়ে তুলতে সময় লাগবে।

বিজ্ঞাপন

আবার টেস্টে ফেরার রোমাঞ্চ

পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত-অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার টেস্টগুলো দেখেছি। টেস্ট ক্রিকেট বেঁচে আছে। সম্প্রতি দারুণ কিছু টেস্ট হয়েছে। আশা করছি আমরা এই ধারাটি ধরে রাখতে পারব এবং রোমাঞ্চকর টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারব। এই টেস্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হোক, এটাই চাইব। প্রতিপক্ষ অবশ্যই নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যাতে ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি।

দলের কাছে প্রত্যাশা

প্রতি ম্যাচেই ছেলেরা ভালো পারফর্ম করতে চায়। আমি এই সিরিজে ভিন্ন কিছু আশা করছি না। এটি বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠে আরেকটি বড় সিরিজ। আমি আমাদের খেলোয়াড়দের কাছে ভালো পারফরম্যান্স আশা করছি, যেমনটি অন্য যেকোনো দলের সঙ্গে খেলা হলেই করি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন