মুশফিক অপরাজিত ৪৩ রানে।
মুশফিক অপরাজিত ৪৩ রানে।ছবি: এএফপি

শেষ পর্যন্ত দিনের খেলার সমাপ্তিই টানতে হলো। আলোর স্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা বাংলাদেশের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাসের সঙ্গে আলাপ করে খেলা বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু আলোর উন্নতি না হওয়ায় দিনের খেলা আর মাঠে গড়ায়নি। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৭৪। কাল তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হবে ১৫ মিনিট আগেই।

পাল্লেকেলে টেস্টে বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানেই দেখছে। তবে আজ শ্রীলঙ্কান বোলারদের মুমিনুল-নাজমুলরা ভোগালেও দিনের অনেকটা সময় আঁটসাঁট বোলিং কিন্তু তাঁরা ঠিকই করেছেন। বাংলাদেশের রানের চাকার গতি কমিয়ে দেওয়ার কৃতিত্বও তাঁদের দিতে হবে। বিশেষ করে পেসাররা আজ তেমন রানই দেননি। দ্রুত দু–তিন উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারত লঙ্কানরা। তবে এ ক্ষেত্রে মুমিনুল-নাজমুলদের পর মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাসের প্রত্যয় সে ধরনের কিছু হতে দেয়নি।

default-image

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, ৪৭৪ রানে থেমে থাকা বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহটা কত দূর টানতে পারে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে তৃতীয় ও চতুর্থ ইনিংসে হুড়মুড় করে ব্যাটিং ভেঙে পড়ার যে ইতিহাস বাংলাদেশের আছে, তাতে বাংলাদেশ অবশ্যই চাইবে সংগ্রহটাকে আরও বাড়িয়ে নিতে। আগামীকাল একটু গতি বাড়িয়ে মধ্যাহ্নবিরতি পর্যন্ত যদি ব্যাট করা যায়, তাহলে সংগ্রহটা ৬৫০ ছাড়িয়েও এগিয়ে যাওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন

মুশফিক-লিটনের জুটিতে এখন পর্যন্ত এসেছে ৫০ রান। মুমিনুলের বিদায়ের পর মুশফিক ইনিংসটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও তিনি একবার আউটের হাত থেকে বেঁচে গেছেন ডিআরএসের কল্যাণে। লাহিরু কুমারার বলে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু রিভিউতে দেখা যায়, বল মুশফিকের ব্যাটের ভেতরের কোনায় লেগে প্যাডে আঘাত করেছে। দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে মুশফিক ১০৭ বল খেলে ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। লিটন ২৫ রান করে টিকে ছিলেন ৩৯ বলে।

এর আগে মুমিনুলের ইনিংস থামে ১২৭ রানে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে লাহিরু থিরিমান্নের হাতে ধরা পড়েন তিনি। খেলেছেন ৩০৪ বল। ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ১১টি চারে।

default-image

মুমিনুল আর নাজমুল গতকাল প্রথম দিন শেষ করেছিলেন ১৫০ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে। আজ দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে এই জুটি থেমেছে ২৪২ রানে। নাজমুলের চোয়ালবদ্ধ ইনিংসের সমাপ্তিটা ঘটেছে যেভাবে, সেটিকে কিছুটা ‘অ্যান্টিক্লাইমেক্স’ই বলা চলে। দুই দিন ধরে ইনিংসটাকে যেভাবে গুছিয়েছিলেন, তার শেষটা ঠিক তেমনভাবে হয়নি। লাহিরু কুমারার বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়েছেন নাজমুল। শটটা একটু আগেভাগেই খেলে ফেলেছিলেন তিনি। তারপরও নাজমুল দারুণ একটা ইনিংসই খেলেই আউট হয়েছেন ৩৭৮ বল খেলে। তাঁর ইনিংসটি ছিল ১৬৩ রানের। ১৭টি বাউন্ডারি আর ১টি ছক্কায় সাজানো তাঁর সেই ইনিংস। নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি বড় করে সেটির উদ্‌যাপনটা ভালোই হলো নাজমুলের।

default-image

মুমিনুল শ্রীলঙ্কান বোলারদের সামনে ছিলেন ‘দেয়াল’ হয়ে। নাজমুলের বিদায়ের পর তাঁর সঙ্গী হন মুশফিকুর রহিম। কাল ৬৪ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম দিন শেষ করেছিলেন। কিন্তু নিজের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে একটা পরিসংখ্যানগত সুনাম মুমিনুলের বরাবরই ছিল। নিজের ১১তম টেস্ট সেঞ্চুরিটা করে ফেলতে ২২৪ বল খেলেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরিটি যেকোনো বিচারেই মুমিনুলের জন্য বিশেষ কিছু। অধিনায়কত্বের ভার কাঁধে ওঠার পর থেকে টেস্টে ভরাডুবিই বেশির ভাগ সময় সঙ্গী হয়েছে তাঁর। এ ছাড়া দেশের মাঠ ছাড়া সেঞ্চুরি করতে পারেন না—এমন একটা ‘দুর্নাম’ও নামের পাশে এঁটে গিয়েছিল। পাল্লেকেলেতে সেঞ্চুরি করে সেই দুর্নাম দূর করলেন। নিজের অধিনায়কত্বে টেস্টে একটা ভালো মুহূর্তও পেলেন। ক্রিকেটের বড় সংস্করণে নিজেদের প্রমাণ করারও তো একটা ব্যাপার ছিল।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন