বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবাদত হোসেনের বলে নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার টম ব্লান্ডেল (১১ রান) বোল্ড হতেই দিনের খেলার শেষ টেনে দেন আম্পায়াররা। দিনের খেলার তখন ৮৮তম ওভারের তৃতীয় বল।

এবাদত হোসেনের বলে নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার টম ব্লান্ডেল (১১ রান) বোল্ড হতেই দিনের খেলার শেষ টেনে দেন আম্পায়াররা। দিনের খেলার তখন ৮৮তম ওভারের তৃতীয় বল।

এর আগে ৮০তম ওভারে বাংলাদেশ নতুন বল নেওয়ার ঠিক আগের ওভারেই শেষ হয় কনওয়ের ইনিংস। বলতে গেলে এমন দারুণ একটা ইনিংসের পর উইকেট বিলিয়েই দিয়ে এসেছেন কনওয়ে। লেগ স্টাম্পের ওপর মুমিনুল হকের লেংথ বলে খেলতে গিয়েছিলেন কনওয়ে, বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে যায় লিটন দাসের হাতে।

মুমিনুলের উইকেট পাওয়া, কনওয়ের ওভাবে আউট হওয়া...বলতে গেলে বাংলাদেশের দিকেই ভাগ্যের পাল্লা ভারি ছিল। না হলে উইকেট বুঝতে দৃশ্যত ভুল করা, মাত্র চারজন—তাও আবার অনভিজ্ঞ—বোলার নিয়ে নামা বাংলাদেশের জন্য আজ আরও দুঃস্বপ্নই হয়তো অপেক্ষায় ছিল!

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতে এক ক্রিকেটপ্রেমী লিখছিলেন, ‘এখানে অতিথি অনেক দল যে ফাঁদে পা দেয়, বাংলাদেশও সেই একই ফাঁদে পড়েছে। সবুজ পিচটা এত ভুল বোঝায়!’

কীভাবে? মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের সবুজ পিচে বল পেসারদের যা সহায়তা করে, সেটি প্রথম এক থেকে দেড় ঘণ্টায়ই করে। আজ তাসকিন-শরীফুলরাও টেস্টের প্রথম ঘণ্টায় দারুণ বোলিং করেছেন। কিন্তু মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের সূত্র মেনে পিচ এরপর ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বলছে, বাংলাদেশকেও তাতে ভুগতে হয়েছে।

default-image

দিনের প্রথম এক ঘণ্টা দারুণ কেটেছে বাংলাদেশের। তাসকিনের বলে গতি ও সুইং নজর কেড়েছে, শরীফুল ও তাসকিন দুজনের লাইন-লেংথে নিয়ন্ত্রণ ছিল ভালো। এর মধ্যে চতুর্থ ওভারেই নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক টম ল্যাথামকে ফেরান শরীফুল। নিউজিল্যান্ডের রান তখন মাত্র ১। নতুন বছরের প্রথম দিনে শুরু টেস্টের শুরুটা স্বপ্নের মতোই হলো বাংলাদেশের!

কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়াংয়ের জুটি স্বপ্নের মতো শুরুকে ফ্যাকাশে করে দিল! দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৮ রানের জুটি গড়েছেন দুজন। অর্ধশতক পেরোনো ইয়াং (৫২) রানআউট হয়ে গেলেও কনওয়ে ছুটছিলেন শতকের দিকে।

ইয়াংয়ের পর কনওয়ে সঙ্গী হিসেবে পেলেন এই সিরিজ দিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ টানতে যাওয়া রস টেলরকে। স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকের করতালির মধ্য দিয়ে মাঠে নামা টেলর খুব বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি, ৬৪ বলে ৩১ রান করে শরীফুলের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গেও ঠিক ৫০ রানের জুটি গড়ে ফেলা কনওয়ে তখনো অবিচল!

১৮৬ বলে ১৪ চার আর ১ ছক্কায় শতকে পৌঁছালেন, এরপরও দারুণ আস্থার প্রতীক হয়ে ছিল তাঁর ব্যাট। আজও তবে দ্বিশতকই—এমন শঙ্কা যখন উঁকি দিচ্ছে, তখনই মুমিনুলের বলে আউট হয়ে গেলেন! দলের রান তখন ৪ উইকেটে ২২৭। নতুন বলের বাকি আর পাঁচ বল। বাংলাদেশ তাতে নতুন উদ্যম পেল। সেটিরই পুরস্কার হয়তো ৮৮তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্লান্ডেলের উইকেট।

default-image

দিনজুড়ে বাংলাদেশের উইকেটগুলো অবশ্য অনেকটা পুরস্কারের মতোই! কনওয়ে আউট হলেন লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে খেলতে গিয়ে। তার আগে ইয়াং আউট হলেন কনওয়ের সঙ্গে রান নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল–বোঝাবুঝিতে।

এই আউটগুলোর আগে প্রথমে ইয়াং, পরে টেলরের সঙ্গে কনওয়ের জুটি দুটিই বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনাও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছিল। পিচটা পড়তেই কি ভুল করলেন মুমিনুলরা? মূলত, টেস্টে গত কিছুদিনে নিয়মিত হতে থাকা তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁর সঙ্গী দুই তরুণ পেসার শরীফুল ও ইবাদত। অনভিজ্ঞ এই পেস আক্রমণের সঙ্গে একমাত্র স্পিনার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই চারজন কতটা কী করতে পারবেন, সে নিয়ে সংশয় তো আছেই। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের ইনিংস এভাবে এগোতে থাকলে চার বোলারের ধকল বেড়ে যাবে অনেক—এই শঙ্কাও ছিল।

নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেট হারানোর পর প্রথম এক ঘণ্টা বাংলাদেশের বোলারদের দাপটের মুখে দুই ব্যাটসম্যান কনওয়ে ও ইয়াং দেখেশুনে সময়টা পার করেছেন। এরপর বলের সুইং আর বাউন্স কমেছে, পিচ শুকিয়েছে। বাংলাদেশের বোলিং তাতে ধার হারিয়েছে। নিউজিল্যান্ড পাল্টা–দাপট দেখিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট নিতে পেরে একটু স্বস্তিতেই দিনটা শেষ হলো বাংলাদেশের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন