default-image
>ভারত-নিউজিল্যান্ড প্রথম সেমির মধ্যেই ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বললেন বাংলাদেশের কথা। তাঁর চোখে যে সাকিবই সেরা সেটি মনে করিয়ে দিলেন তিনি।

প্রেসবক্স না ক্রিকেটের হল অব ফেম! যেদিকেই তাকানো যায় কিংবদন্তি আর রথী-মহারথী।বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল আর রেডিওর হয়ে ধারাভাষ্য দিতেই সেখানে তারা। ক্লাইভ লয়েড করিডরের সোফায় বসে ফোনে কথা বলছেন। দুই পা এগোতে দেখা কপিল দেব আর স্টিভ ওয়াহর সঙ্গে। কফির আড্ডায় মেতেছেন এক সময়ের দুই বিশ্ব কাঁপানো অধিনায়ক।

ওটা মাইকেল ভন না! কাছে যাওয়ার আগেই ধারাভাষ্য কক্ষে ঢুকে গেলেন। একটু অপেক্ষা করা যাক। যদি আবার বের হন। নাহ্, ভন আর বেরই হলেন না। তবে বেরিয়ে এলেন সুনীল গাভাস্কার। কলকাতার তিন সাংবাদিককে এক সঙ্গে দেখে বলে উঠলেন, ‘সব যে দেখি বাঙালি!’

শেন ওয়ার্নের সঙ্গে দেখা প্রেসবক্সের নিচে। যথারীতি হাতে সিগারেট, চোখ মোবাইলে। সম্ভবত কাউকে টেক্সট করছিলেন। লিফটে ওঠার সময় ছবি তোলার অজুহাতে কাছে গেলে দু দণ্ড দাঁড়ালেন। তবে এরপর আর এক সেকেন্ডও নয়। কথা বললেই যেন বিরাট কোনো বিপদ হয়ে যাবে।

কথা বলার জন্য একমাত্র কপিল দেবকেই পাওয়া গেল। নিউজিল্যান্ডের একটি রেডিও এবং ভারতীয় কয়েকজন সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিয়ে ধারাভাষ্য কক্ষে ঢুকে গেলেও পরে বাংলাদেশ নিয়ে আলাদা কথা বলতে চাইলে রাজি হলেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে রীতিমতো চমৎকৃত ভারতকে ১৯৮৩-এর বিশ্বকাপ এনে দেওয়া অধিনায়ক। উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের, ‘সাকিব তো অসাধারণ খেলেছে। ব্যাটসম্যান হিসেবে সে এক নম্বর হওয়ার প্রতিযোগিতা করছে, এটা বিরাট ব্যাপার। আর বোলিংয়ে তো ও সব সময়ই ভালো। আমি বলব অলরাউন্ডার হিসেবেই সাকিব বিশ্বকাপটা দারুণ খেলে গেছে। ও বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার মতোই ক্রিকেটার।’

কপিল দেব নিজে ছিলেন ফাস্ট বোলার। মোস্তাফিজুর রহমানের প্রসঙ্গটা তাই আলাদা করেই এল, ‘আমার মনে হয় মোস্তাফিজকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। আরও ধারাবাহিক হতে হবে। আসলে বাংলাদেশের সবাইকেই সেটি করতে হবে।’ সে জন্য দলে নতুন অধিনায়কের প্রয়োজন দেখছেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক, ‘আমি মনে করি তাদের একজন নতুন অধিনায়ক দরকার, যে দলটার দেখাশোনা করতে পারবে।’

কপিল দেব যখন কথা বলছেন, ওল্ড ট্রাফোর্ডে তখনো বৃষ্টি শুরু হয়নি। মাঠে চলছিল ভারত-নিউজিল্যান্ড প্রথম সেমিফাইনাল। কথার ফাঁকে একবার বললেন, এখনকার সময়ের ক্রিকেটের খোঁজ খবর খুব একটা নাকি রাখেন না। কিন্তু কথা বলতে বলতেই বারবার উঁকি দিচ্ছিলেন মাঠের দিকে। আর মিস করছিলেন মোহাম্মদ শামিকে, ‘আমি বুঝলাম না, এই কন্ডিশনে ভারত শামিকে খেলালো না কেন!’
কপিল দেবদের খেলার খোঁজ-খবর রাখতে হয় না। ক্রিকেট তাদের রক্তে।

* কপিল দেবের বিস্তারিত সাক্ষাৎকার পড়ুন কাল ছাপা কাগজে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন