বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সবশেষ খবর অনুযায়ী অবশ্য জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশ দল এখনো কোভিডমুক্তই আছে। এখানে এসে এ পর্যন্ত চারবার নমুনা পরীক্ষা করিয়ে চারবারই সবাই নেগেটিভ হয়েছেন। সর্বশেষ পরীক্ষা হয়েছে গত পরশু।

হারারেতে বাংলাদেশ দলের ঠিকানা ক্রেস্টা লজ। বিশাল এক হোটেল। হোটেলের আবার দুটো শাখা। একটিতে আছে শুধু বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ে দল। সেখানেও আবার ‘কমন এরিয়া’গুলোতে পার্টিশন দিয়ে দুই দলের সীমানা ভাগ করা। সাধারণ অতিথিদের জন্য বরাদ্দ হোটেলের অন্য শাখা। জৈব সুরক্ষাবলয়ে কোনো দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেই সাধারণ অতিথিদের দেখাসাক্ষাতের কোনো সুযোগ নেই।

default-image

ক্রিকেটাররাও চাইলেই তাঁদের গণ্ডি থেকে বের হতে পারেন না। হোটেল-বাস-মাঠ-বাস-হোটেল—এই হলো হারারেতে তাঁদের জগৎ। তবে মন্দের ভালো বলতে হোটেলটা অনেক বড় ও খোলামেলা। পরিবেশও নাকি মনোমুগ্ধকর।

অন্যান্য জায়গায় যেমন জৈব সুরক্ষাবলয় মানে রুমবন্দী জীবন, এখানে তা নয়। খেলোয়াড়দের নিজেদের অংশেই খোলামেলা জায়গা থাকায় যার যখন ইচ্ছা বাইরে এসে হাঁটাহাঁটি করতে পারছেন। সকালের নাশতাও হয় বাইরেই। তাঁবু খাটিয়ে এক পাশে আলাদা জিম বানিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য। সব মিলিয়ে ‘বন্দি’জীবনের মধ্যেও কিছুটা মুক্তির আলো-বাতাস আছে।

default-image

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে টিম লিডার হিসেবে এবার এসেছেন বিসিবির পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম। হোটেল বন্দিজীবন যদিও তাঁর ভালো লাগছে না, একেবারে রুমে বসে থাকতে হচ্ছে না বলে তবু কিছুটা স্বস্তিতে আছেন তিনি। তবে তামিম ইকবালের এই জীবন মানতেও কষ্ট।

দেশের বাইরে গেলে অন্যদের তুলনায় তামিমেরই একটু বেশি বাইরে যাওয়ার শখ থাকে। ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে যাওয়া বা অবসরে কোথাও থেকে ঘুরে আসা। করোনাকালের ক্রিকেটে এসবই নিষিদ্ধের তালিকায়। তামিম সেদিন দুঃখ করে বলছিলেন, ‘এটা খেলার জন্য আদর্শ নয়। মাঠে যাই আর হোটেলে ফিরে এসে বসে থাকি—এটা তো আদর্শ হতে পারে না! এভাবে খেলা আসলেই কঠিন। কিন্তু এখন তো নিয়মই হয়ে গেছে যে ক্রিকেট খেলতে হলে এভাবে খেলতে হবে।’

default-image

ক্রিকেটাররা তবু তো খেলতে পারছেন। করোনা মহামারি অনেকের জীবিকাই বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক অবশ্য সে জন্য নিজেদের সৌভাগ্যবানও ভাবেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা তবু অন্তত খেলতে পারছি। যে কাজটা আমরা করতে পছন্দ করি, সেটা করতে পারছি। অনেকেই তা পারছে না। অনেক কিছুই তো এখন বন্ধ হয়ে আছে!’

আজ বিষয়টা নিয়ে কথা হচ্ছিল বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গেও। প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু তাকাসিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা ছয় সাংবাদিককে ক্যারিবীয় কোচ জানাচ্ছিলেন তাঁর জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকার অভিজ্ঞতা, ‘কোনো সন্দেহ নেই এই জীবনটা অনেক কঠিন। আপনাকে অনেক দিন ধরে বাড়ি থেকে, পরিবার থেকে বাইরে থাকতে হচ্ছে। আমার কাছে এটা কঠিন মনে হয় এবং আমার ধারণা, সবারই একই অভিজ্ঞতা। আমরা চেষ্টা করি এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে। তবে সেটা মোটেও সহজ নয়।’

default-image

পৃথিবীর আর সব দেশের মতো জিম্বাবুয়েতেও করোনার প্রভাব একই রকম। ছোটখাটো অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজে অনেক দিন ধরেই তালা। অফিস-আদালত, দোকানপাট চলে সীমিত পরিসরে। বিকেল সাড়ে তিনটায় সব বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ছয়টার পর কারফিউ। তখন রাস্তায় বের হলে গাড়ি নিয়ে বের হতে হবে, তা-ও পথে পড়তে হতে পারে পুলিশি জিজ্ঞাসার মুখে।

রেস্টুরেন্টগুলো বিকেল পর্যন্ত খোলা থাকলেও বসে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই কোথাও। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। আর সুপারশপগুলোতে বাংলাদেশের মতোই অবস্থা। বন্ধ হওয়ার সময় যত কাছে আসতে থাকে, ভিড়ও তত বাড়তে থাকে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবের মধ্যেই থাকা দ্য সেঞ্চুরিয়ন রেস্টুরেন্টে অবশ্য বসে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে আগের মতো একেবারে মাঠের পাশেই পাতা কাঠের টুল-টেবিলগুলোতে গিয়ে এখন আর বসা যায় না। ভারী পলিথিনের পর্দা দিয়ে সে জায়গাটিকেও নিয়ে নেওয়া হয়েছে মাঠের জৈব সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে। সফরে এসেও ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ নেই সাংবাদিকদের। মিডিয়া ম্যানেজারের পাঠানো ভিডিও আর ফোনই ভরসা।


ক্রিকেটটা এখন কাছে থেকেও কতই না দূরে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন