default-image
>করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্থগিত হয়েছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বৈঠক। এতে প্রশ্নের মুখে পড়ল এ বছর এশিয়া কাপের ঠিক সময়মতো মাঠে গড়ানো

করোনাভাইরাস মহামারি হয়ে ওঠায় থেমে গেছে বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গন। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও থেমে গেছে। এ ছাড়াও নানা দেশের ঘরোয়া সব টুর্নামেন্টেও পড়েছে স্থগিতের যতিচিহ্ন। শুধু এশিয়া কাপ নিয়েই এত দিনে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনার আতঙ্কে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াও হয়নি। এ বছর এশিয়া কাপের ভেন্যু ঠিক করতে বৈঠকে বসার কথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি)। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে বৈঠকটি স্থগিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এশিয়া কাপ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে তো?

এবার এশিয়া কাপ আয়োজনের স্বত্ব পাকিস্তানের। কিন্তু ভারত আগেই বলে দিয়েছে, এশিয়া কাপ খেলতে পাকিস্তানে তারা কোনো খেলোয়াড় পাঠাবে না। দুই দেশের মধ্যে বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তার কথা ভেবেই বিসিসিআইয়ের এ সিদ্ধান্ত। এরপরই জটিলতার শুরু হয়। মাঝে একবার গুঞ্জন উঠেছিল, ২০২০ এশিয়া কাপ বাংলাদেশেও হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়ার কথাও উঠেছিল।

এ নিয়ে চলতি মাসের শুরুতে দুবাইয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল এসিসির। কিন্তু করোনা আতঙ্কে সে বৈঠক পিছিয়ে যায়। এবার আইসিসির বৈঠকের পাশাপাশি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ সেরে নিতে চেয়েছিল এসিসি। কিন্তু করোনা আতঙ্কে আবারও স্থগিত হয়েছে এই বৈঠক। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এখন ভিডিও লিংকের মাধ্যমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী এর আগে সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানে যাবে না ভারতীয় ক্রিকেট দল। তবে এশিয়া কাপ নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে হলে খেলবে ভারত। এরপরই ভেন্যু ঠিক করার ব্যাপারে জোর গুরুত্ব দিয়ে বৈঠক ডেকেছিল এসিসি। এবার এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরে। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হবে এ টুর্নামেন্ট।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এসিসির নির্বাহী পর্ষদের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভেন্যু বেছে নিলেও পাকিস্তান অনুরোধ করবে, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচগুলো যেন তাদের মাটিতে খেলানো হয়। এ নিয়ে এক সূত্রের বক্তব্য, ‘ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানে। ঘরে এশিয়া কাপের কিছু ম্যাচ আয়োজন করে উপকৃত হতে চায় পাকিস্তান।’

এখানে আরও হিসেব-নিকেশ আছে। করোনা আতঙ্কে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় সিরিজ স্থগিত হয়েছে। যেমন, বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফর, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের ওয়ানডে সিরিজ। এখন এসব দেশের ক্রিকেট বোর্ড যদি বিপদ কেটে যাওয়ার পর স্থগিত হওয়া এসব সিরিজ খেলতে চায় তাহলে এশিয়া কাপ মাঠে না গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। বিসিসিআই যেমন এখন শুধু আইপিএল মাঠে গড়ানো নিয়েই ভাবছে। করোনা আতঙ্ক কাটলে ঘরোয়া এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা করবে

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0