রাজস্থানের বিপক্ষে কলকাতার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন রাহুল ত্রিপাঠি।
রাজস্থানের বিপক্ষে কলকাতার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন রাহুল ত্রিপাঠি। ছবি: বিসিসিআই

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের পিচে কী ছিল? ব্যাটিংয়ের জন্য খুব কি বাজে উইকেট ছিল এটা? কাল আইপিএলে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৬ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর এমন প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা কলকাতা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১৩৩ রান তুলতে পেরেছে। ১৩৪ রানের লক্ষ্যে ৭ বল হাতে রেখে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়েই পৌঁছে গেছে রাজস্থান। এমন একটি হারের পর কলকাতার ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগানকে মুখোমুখি হতে হয়েছে নানা প্রশ্নের।

ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে মরগান কোনো রাখঢাক না রেখেই ম্যাচ হারার দায় চাপিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের কাঁধে। কলকাতার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ম্যাচ জয়ের কোনো তাগিদই দেখতে পাচ্ছেন না ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক। পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয় কলকাতার। ২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সবচেয়ে নিচের দল এখন তারাই

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজস্থানের বিপক্ষে ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে একটু বিরক্তই মনে হলো কলকাতার অধিনায়ক মরগানকে, ‘ব্যাটিংই আমাদের ডুবিয়েছে। ইনিংসজুড়ে আমাদের ভালো করার তাগিদের অভাব ছিল। শুরু থেকেই আমরা ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছি। প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপেই ফেলতে পারিনি আমরা। রাজস্থান পিচের সঙ্গে আমাদের চেয়ে ভালো মানিয়ে নিতে পেরেছে।’

ব্যাটিংয়ে আরও ভালো করলে ম্যাচটা কলকাতা জিতলেও জিততে পারত বলে মনে করেন মরগান। ম্যাচ শেষে সেই আক্ষেপই ধরা পড়েছে তাঁর কণ্ঠে, ‘আমরা সম্ভবত ৪০টি রান কম করেছি। আর টি-টোয়েন্টিতে ৪০ রান অনেক।’ কলকাতার দুই ওপেনার রাজস্থানের তিন বাঁহাতি সিমারের বিপক্ষে বাউন্ডারি পেতে রীতিমতো লড়াই করেছেন। ভারতের দুই পেসার জয়দেব উনাদকাট, চেতন সাকারিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান খুব গোছানো বোলিং করেছেন শুরুর দিকে। এ তিন পেসারের সামনে জবুথবু কলকাতার ব্যাটসম্যানরা পাওয়ার প্লে থেকে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৫ রানই তুলতে পেরেছেন।

default-image

ব্যাটসম্যানদের দায় দিলেও মরগান উইকেট যে কঠিন ছিল, সেটি বলতেও ভোলেননি, ‘আজ (গতকাল) উইকেট খুব একটা ভালো ছিল না। কিন্তু ওয়াংখেড়ের উইকেট তো এ রকমই হওয়ার কথা। এটা ঠিক যে এই উইকেটে ব্যাটিং করা একটা চ্যালেঞ্জ।’ এরপর তিনি ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্বের কথা বলেছেন, ‘যখনই আমরা বোলারদের আক্রমণ করে খেলতে গেছি, উইকেট হারিয়েছি।’

শুরুতে উনাদকাট, সাকারিয়া আর মোস্তাফিজ যেমন কলকাতার ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন, মাঝে এসে দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস কলকাতার ব্যাটসম্যানদের দিশেহারা করে দিয়েছেন। ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রাজস্থানের দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার। মরগানকে অবশ্য কোনো বোলার আউট করতে পারেননি। ইংল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কোনো বলের মুখোমুখি না হয়ে কোনো রান না করে ফিরেছেন রানআউট হয়ে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সব মিলিয়ে ব্যাটিং নিয়ে আরও কাজ করার জায়গা দেখছেন কলকাতার অধিনায়ক মরগান, ‘এই হার আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে আরও অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে জয়ের তাগিদ নিয়ে বা ভালো কিছু করার তাগিদ নিয়ে খেলতে হবে। আমরা চাই ছেলেরা মনের আনন্দে স্বাভাবিক ক্রিকেটটাই খেলুক। দুর্ভাগ্যক্রমে তেমন ক্রিকেট আজ (গতকাল) আমরা খেলতে পারিনি।’

কলকাতার পক্ষে কাল সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা রাহুল ত্রিপাঠি। ২৬ বলে ১ চার ও ২ ছয়ে ৩৬ রান করে তিনি আউট হয়েছেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজের বলে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিকের। ক্রিস মরিসের বলে চেতন সাকারিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ২৪ বলে ২৫ রান করেছেন তিনি। ওপেনার নিতীশ রানা ২৫ বলে করেছেন ২২ রান। এ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র দুজন—শুভমান গিল ১১ ও আন্দ্রে রাসেল ১০!

ব্যাটসম্যানরা নিজেদের মধ্যে সঠিক রসায়ন খুঁজে না পেলে সাত বছর আগে সবশেষ আইপিএল জেতা কলকাতার শিরোপা-অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন