বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।ফাইল ছবি: প্রথম আলো

বেশ কয়েক বছর ধরেই আইপিএল শিরোপার স্বাদ পাচ্ছে না কলকাতা নাইট রাইডার্স। গত দুই মৌসুমে তো প্লে অফেই উঠতে পারেনি। গতবার রানরেটের খাঁড়ায় পড়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল কলকাতার এই ফ্র্যাঞ্চাইজির।

সাবেক সফল অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর বিদায় নেওয়ার পর থেকেই একটা পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দলটি। মাঝেমধ্যেই নিজেদের শক্তির জানান দিলেও তা শিরোপা জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। কয়েক বছর ধরে অধরা থাকা এই শিরোপার স্বাদ পেতেই এবার সাকিবকে আবারও দলে ফিরিয়েছে কলকাতা। কিন্তু এবার সাকিবের ভূমিকাটা কেমন হবে?

আসুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক আইপিএলের চতুর্দশ আসরে নিজেদের তৃতীয় শিরোপার খোঁজে নামতে যাওয়া কলকাতা নাইট রাইডার্সের খুঁটিনাটি।

বিজ্ঞাপন

সম্পূর্ণ স্কোয়াড:

ব্যাটসম্যান: এউইন মরগান, শুভমান গিল, নিতিশ রানা, রাহুল ত্রিপাঠি, করুণ নায়ার, গুরকিরাত সিং মান।

পেসার: প্যাট কামিন্স, লকি ফার্গুসন, প্রসিধ কৃষ্ণ, কমলেশ নাগরকোটি, শিবম মাভি, সন্দ্বীপ বারিয়র, বৈভব অরোরা।

স্পিনার: হরভজন সিং, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, পবন নেগি।

অলরাউন্ডার: সাকিব আল হাসান, আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারাইন, বেন কাটিং, ভেঙ্কটেশ আইয়ার।

উইকেটকিপার: দীনেশ কার্তিক, টিম সাইফার্ট, শেল্ডন জ্যাকসন।

শক্তি:
গতবার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এউইন মরগান দলে থাকা সত্ত্বেও দীনেশ কার্তিকের ওপর নেতৃত্বভার দিয়েছিল কলকাতা। মৌসুমের মাঝপথে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সেই মরগানের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়।

এবার তাই অধিনায়কত্ব নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, শুরু থেকেই একজন নিশ্চিত অধিনায়কের অধীনে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি, যে অধিনায়কের বিশ্বকাপ জেতার মতো মস্তিষ্ক রয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে কলকাতার একটি ইতিবাচক দিক।

দেশীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে শুবমান গিল, কার্তিক, হরভজন সিং, কুলদীপ যাদব কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য অভিষিক্ত প্রসিধ কৃষ্ণরা থাকলেও কলকাতার শক্তির সবচেয়ে বড় জায়গা তাদের বিদেশি খেলোয়াড়। মরগান তো আছেনই, আছেন কলকাতার ঘরের ছেলে হয়ে যাওয়া দুই ক্যারিবীয় আন্দ্রে রাসেল ও সুনীল নারাইন।

পেস বোলিং বিভাগে প্যাট কামিন্সের পাশাপাশি লকি ফার্গুসনকেও রাখা হয়েছে। ২০১৯ আইপিএলে ব্যাটে আলো ছড়ানো রাসেল গতবার তেমন কিছুই করতে পারেননি, যে কারণে ভুগেছিল কলকাতা।

এবার রাসেলের বিকল্প হিসেবে ২০১৬ আইপিএল ফাইনালের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার বেন কাটিংকে আনা হয়েছে। ওদিকে নিয়মিত প্রশ্নবিদ্ধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে আইসিসির আতশি কাচের নিচে আসা সুনীল নারাইনও গতবার নিজের ঝলক দেখাতে পারেননি। বোলিং অ্যাকশনে পরিবর্তন আনার পর তাঁর কার্যকারিতা কমেছে অনেকাংশে।

যে কারণে এবার সাকিব আল হাসানের দিকে আবারও ঝুঁকেছে কলকাতা। এর আগে সাকিব যখন কলকাতায় ছিলেন, তখনো মূল একাদশে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের জায়গায় নারাইনের সঙ্গে লড়াই করতে হতো তাঁকে। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হবে না। কিন্তু নারাইনের প্রশ্নবিদ্ধ অ্যাকশন আর ক্ষয়িষ্ণু বোলিং সাকিবকেই এগিয়ে রাখছে।

বিজ্ঞাপন

পেস আক্রমণ নিঃসন্দেহে কলকাতার স্বস্তির একটা দিক। মূল পেসার হিসেবে প্যাট কামিন্স খেলবেন, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। একটু বাড়তি গতিতে যদি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা থাকে, সে ক্ষেত্রে একাদশে জায়গা পেয়ে যেতে পারেন কিউই পেসার লকি ফার্গুসনও। দেশীয় পেসারদের মধ্যে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে অন্য যেকারও চেয়ে এগিয়ে থাকবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজেই আলো ছড়ানো প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।

নারাইনের অ্যাকশন-কাণ্ড, আর কুলদীপ যাদবের ফর্মহীনতার কারণে গতবার কলকাতার স্পিন আক্রমণ বলতে গেলে একাই সামলেছেন বরুণ চক্রবর্তী। সঙ্গে হাত ঘুরাতে দেখা গিয়েছিল নিতিশ রানাকেও। এবার কাগজে-কলমে সে দুর্বলতা কাটিয়েছে কলকাতা। ডানহাতি স্পিনার হরভজন সিং ও বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার পবন নেগিকে দলে নিয়ে স্পিন আক্রমণে বৈচিত্র্য এনেছে দলটা। সঙ্গে এবার সাকিব তো আছেনই।

দুর্বলতা
কলকাতার আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ব্যাটিং অর্ডারে সঠিক রসায়ন খুঁজে না পাওয়া। কয় নম্বরে কে ব্যাট করবেন, এটা এখনো নিশ্চিত হয়নি দলটির। ওপেনার হিসেবে ক্রিস লিন চলে যাওয়ার পর গত মৌসুমে শুবমান গিল, সুনীল নারাইন, রাহুল ত্রিপাঠি, নিতিশ রানাকে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে টপ অর্ডারের বিভিন্ন পজিশনে খেলানো হয়েছে। ফলে, কার ভূমিকা কী, সেটা হয়তো ব্যাটসম্যানরাও ঠিকমতো জানেন না।

২০১৯ মৌসুমে আন্দ্রে রাসেল এতটাই বিধ্বংসী ছিলেন যে তাঁর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করা শুরু করে কলকাতা। যে সমস্যাটা এখনো আছে। গত মৌসুমে অনেকবার দেখা গেছে, টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারেননি, ফলে সব চাপ এসে পড়ে রাসেলের ওপর। আর রাসেল ব্যর্থ হলেই সব শেষ!

এই রাসেল-নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে শিরোপা-স্বপ্ন দেখে লাভ নেই কলকাতার। শুবমান গিল অত্যন্ত প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হলেও শুরুর দিকে পাওয়ার প্লেতে ইনিংস গড়তে গিয়ে অনেক বাড়তি বল খেলে ফেলেন, যেটা পরে কলকাতার ব্যাটসম্যানদের বাড়তি চাপ দেয়।

প্রথম কয়েক মৌসুমে সুনীল নারাইনের মতো একজন পিঞ্চ হিটারকে ওপেনিংয়ে নামিয়ে খেলানোর ফাটকাটা কাজে দিলেও তাতে আর কাজ হচ্ছে না। প্রতিপক্ষ বুঝে গেছে, গতিশীল পেসারদের বাউন্স সামলাতে খাবি খান এই ক্যারিবীয়। ফলে, এই এক দুর্বলতাকে পুঁজি করে যেকোনো প্রতিপক্ষই ইনিংসের শুরুতে নারাইনকে ফিরিয়ে দিতে পারে। নারাইনের এই দুর্বলতা মূল একাদশে তাঁর অবস্থান আরও নড়বড়ে করে দিয়েছে, আর সুবিধা করে দিচ্ছে সাকিবকে।

সম্ভাব্য একাদশ: শুবমান গিল, রাহুল ত্রিপাঠি, নিতিশ রানা, এউইন মরগান, আন্দ্রে রাসেল, দীনেশ কার্তিক, সাকিব আল হাসান, হরভজন সিং, বরুণ চক্রবর্তী, প্যাট কামিন্স, প্রসিধ কৃষ্ণ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন