পোর্ট এলিজাবেথ টেস্ট জিততে ৪১৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে কাল ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করা মুমিনুলদের সামনে আজ চোখ রাঙাচ্ছে হার। কারণ, সেন্ট জর্জেস পার্কে চতুর্থ ইনিংসে ৩০০ রান তাড়া করেও জয়ের নজির নেই। ১৯৯৭ সালে এ মাঠে সর্বোচ্চ ২৭০ রান তাড়া করে জিতেছে মার্ক টেলরের অস্ট্রেলিয়া। আর বাংলাদেশও টেস্টে ২১৫ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে এর আগে কখনো জেতেনি।

এ মাঠে ৯৬.২ ওভার ব্যাট করে ড্রয়ের নজির আছে। ২০০১ সালে জয়ের জন্য ৩৯৫ রানের লক্ষ্যে চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল ভারত। ৩ উইকেটে ২০৬ রান তুলে পঞ্চম ও শেষ দিনে ড্র করেছিল সৌরভ গাঙ্গুলীর দল। কিন্তু হাতে দুই দিন থাকায় বাংলাদেশের সামনে ড্রয়ের পথও খোলা নেই। হার নয় জিত—পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে এই দুইয়ের যেকোনো একটি দেখতে হবে মুমিনুলের দলকে। আপাতত হার–জিতের কথা না ভেবে দিনটা কাটিয়ে দিতে পারলে কাল যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।

দুই দিনে পুরো সময় খেলা হলে ১৮০ ওভার তো খেলা হবেই, বাংলাদেশের এত ওভার ব্যাটিংয়ের কীর্তি এর আগে ছিল শুধু একবার। ২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯৬ ওভার ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭৬.২ ওভার ব্যাটিং এ বছর নিউজিল্যান্ডে নতুন ইতিহাস লেখা মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে।

তবে এ দুটি ইনিংসই ছিল ওই টেস্টগুলোতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ওভার ব্যাটিংয়ের কীর্তিটা ২০০৫ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে সেবার টেস্ট ড্র করেছিল বাংলাদেশ।

এই টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭৪.২ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। সেন্ট জর্জেস পার্কের উইকেটে কালই বড় বাঁক পেয়েছেন দুই প্রোটিয়া স্পিনার সাইমন হারমার ও কেশব মহারাজ। তিনটি উইকেটের ২টি মহারাজের, ১টি হারমারের।

স্বাভাবিকভাবেই আজ এই দুই স্পিনারের বাঁক সামলানোর কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। সে পরীক্ষায় পাস করতে হলে আজকের দিনটা পার করতেই হবে। কচ্ছপকামড় দিয়ে পড়ে থাকতে হবে উইকেটে।

টেস্টে গোটা এক দিনে সাধারণত ৯০ ওভারের খেলা হয়। দুই টেস্টের এই সিরিজে প্রথম টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে শুধু ৯০ ওভারের বেশি ব্যাট করতে পেরেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টের এ মাঠে চতুর্থ ইনিংসে সর্বশেষ কোনো দল ন্যূনতম ৯০ ওভার ব্যাট করেছে ২০১৬ সালে।

জয়ের জন্য ৪৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৬.৩ ওভার ব্যাট করে ২৮১ রানে অলআউট হয়েছিল শ্রীলঙ্কা।