বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড থেকে নির্দেশিকা আসে—ক্রিকেটারদের সবাইকে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য হাঁটু গেড়ে বসতে হবে ম্যাচের আগে। এর কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ড্রেসিংরুমে গিয়ে জানতে পারেন, ডি কক বোর্ডের এই নির্দেশ মেনে খেলতে রাজি নন। তখন আর আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের সময় নেই। ম্যাচ শুরু হয় বলে!

দক্ষিণ আফ্রিকার সেন রেডিওতে এ ঘটনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোহানেসবার্গের ক্রীড়াসাংবাদিক লুনজানি জামা বলেছেন, ‘কুইনির (ডি কক) কাছে এটা আপত্তিকর মনে হয়েছে যে খেলোয়াড়দের এমন একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের জন্য কোনো পছন্দ রাখা হয়নি।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের সবাই হাঁটু গেড়ে বসলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ভঙ্গিতে দেখা গিয়েছিল। এর আগেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে হাঁটু গেড়ে, মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে বা দাঁড়িয়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। ডি কক অবশ্য এর কোনোটাই কখনো করেননি।

default-image

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের যুক্তি হচ্ছে আন্দোলনটা যেহেতু একই লক্ষ্যে, সবাই একইভাবে প্রতিবাদে যোগ দিলেই সেটার প্রকাশ আরও জোরালো হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই আন্দোলনে নিজেদের একাত্মতার প্রকাশ জোরালো হওয়া আরও জরুরি। কারণ, দেশটির ইতিহাসই বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের। বর্ণবাদের চর্চা করেই একসময় ২২ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা সারা জীবন এই বর্ণবাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করে গেছেন।

default-image

কিন্তু সেই দেশের একজন হয়ে ডি কক কেন এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিচ্ছেন না? লুনজানি জামা যেটা বলেছেন, তার অর্থ হচ্ছে এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই ডি ককের।

জামার দাবি, ‘যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ডি কক বর্ণবাদী কি না কিংবা “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” আন্দোলনের বিরোধী কি না, আমি বলব, সন্দেহাতীতভাবে না। কারণ, আমি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। বছরের পর বছর নিজের আশপাশের কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় ও কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের জীবন উন্নত করতে সে কী কাজ করে যাচ্ছে, সেটা আমি জানি। এ সবকিছুই সে করছে “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার আগ থেকেই।’

default-image

ডি ককের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে জামা আরও বলেছেন, ২৮ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানের মূল আপত্তিটা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নিয়মে। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার নিয়ে তিনি যতটা সচেতন, ততটাই সচেতন নিজের মৌলিক অধিকার নিয়ে। সেই অধিকারটা হচ্ছে কীভাবে প্রতিবাদ জানাব, সেই সিদ্ধান্ত নিজের মতো করে নিতে পারা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ড বাধ্যতামূলক নিয়ম করে ডি ককের সামনে আর সেই সুযোগ রাখেনি।

সে জন্যই জামা বলছেন, ‘এ রকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড আরেকটু ভালো সময় বেছে নিতে পারত, যেখানে কেউ দ্বিমত করলে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে আসা যেত। বিশ্বকাপে জিততেই হবে—এমন একটা ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত এটা নয়।’

জামা যা–ই বলুন না কেন, ডি কককে কিন্তু এ রকম একটা অবস্থান নেওয়ার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে তো বলেই দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে হয়তো আর কখনোই দেখা যাবে না ২৮ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানকে।

আসলে কী হয়, সেটা দেখার অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন