ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার
ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারফাইল ছবি: টুইটার

কখনো কখনো মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে কোনো ঘটনা। ছোট্ট একটা সিদ্ধান্ত, কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা গড়ে দিতে পারে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

‘ইশ, ওই কাজটা যদি করতে পারতাম’ বা ‘একটাবার যদি সুযোগ পেতাম’—এমন কথা অহরহ শোনা যায় মানুষের মুখে। মাঝেমধ্যে মানুষের জীবনে এমন কিছু সৌভাগ্যের মুহূর্ত আসে, যা হয়ে যায় একটা সফল পথচলার মূল।

ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের জীবনেও এমন দুটি মুহূর্ত আছে, যে সৌভাগ্যের দেখা না পেলে ক্রিকেট দুনিয়া হয়তো সুনীল গাভাস্কারকেই পেত না!ভারতীয় ক্রিকেট-কিংবদন্তি এ মুহূর্তে উদ্‌যাপন করছেন তাঁর ক্রিকেট অভিষেকের সুবর্ণজয়ন্তী।

৫০ বছর আগে, ১৯৭১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্ধর্ষ দলের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল তাঁর, ক্যারিবীয় মাটিতে। সেখানে ইতিহাস গড়েই নিজে ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালীন ইতিহাসের অংশ হয়েছেন। সেই সফরে ক্যারিবীয় গ্রেট স্যার গারফিল্ড সোবার্সের বদান্যতাও গাভাস্কারের ক্রিকেট জীবন গড়ে দিতে বড় অবদান রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

সেই সফরে দুর্দান্ত ফিল্ডার সোবার্স গাভাস্কারের দুটি ক্যাচ ছেড়েছিলেন। যে দুটি ক্যাচ না ছাড়লে হয়তো ভারতীয় ক্রিকেট দলে গাভাস্কার দীর্ঘায়িত করতে পারতেন না নিজের পথচলা।

বুধবার মুম্বাইয়ে একটা অনুষ্ঠানে এ কথাই বলেছেন টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া ‘লিটল মাস্টার’। তাঁর মতে, সোবার্স তাঁকে মাঠে যে দুটি জীবন দিয়েছিলেন, সে দুটি তাঁর জন্য জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার, ‘নিঃসন্দেহে সোবার্স আমাকে যে দুটি জীবন দিয়েছিলেন সে দুটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। কারণ, ওই দুটি জীবন না পেলে আমি হয়তো ভারতীয় দল থেকেই বাদ পড়ে যেতাম।’

default-image

ঘটনাটা খুলে বলেছেন গাভাস্কার, ‘আমার অভিষেক টেস্টের ঘটনা প্রথমটি। আমি ওই মুহূর্তে ১২ রানে ব্যাটিং করছিলাম। অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বল ড্রাইভ করার পর সেটি সোজা চলে যায় সোবার্সের দিকে। কিন্তু তিনি ক্যাচটি ফেলে দেন। ওই ক্যাচটি ধরলে আমি ১২ রানে আউট হয়ে যেতাম। আমি হয়তো দল থেকেই বাদ পড়ে যেতাম। জীবন পেয়ে আমি হাফ সেঞ্চুরি করি। সেটি আমাকে পরের টেস্টে সুযোগ করে দেয়।’

দ্বিতীয় ঘটনাটি পরের টেস্টে, ‘দ্বিতীয় টেস্টেও সোবার্স আমাকে ৬ রানে জীবন দেন। আমার জোরে খেলা একটি বল দ্রুতগতিতে ধেয়ে যায় পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা সোবার্সের দিকে। কিন্তু কোনো কারণে তিনি বলটি দেরিতে দেখেছিলেন। সেটি সোজা গিয়ে আঘাত করে তাঁর শরীরে। তিনি আহত হন এবং স্বাভাবিকভাবেই ক্যাচটি ধরতে পারেননি। আমি ৬ রানের মাথায় জীবন পেয়ে সেদিন সেঞ্চুরি করেছিলাম। ভারতীয় দলে জায়গাটাও পাকা করে ফেলতে পেরেছিলাম।’

১৯৭১ সালের ৬ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে অভিষেক হয়েছিল গাভাস্কারের। পাঁচ ম্যাচের সে সিরিজেই প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্টে হারায় ভারত, প্রথমবারের মতো পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতার স্বাদ। শুধু তা-ই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই টেস্ট সিরিজে ৭৭৪ রান তুলে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন 'লিটল মাস্টার'—গ্যারি সোবার্স, রোহান কানহাই, ক্লাইভ লয়েডদের মতো কিংবদন্তিদের টপকে। সে সিরিজে আবার সোবার্সই ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক। বিপক্ষ দলের অধিনায়কের কাছ থেকেই এত বড় ‘বদান্যতা’, গাভাস্কার তো আপ্লুত হবেনই!

default-image

১৯৮৭ সালে তিনি ক্রিকেটকে বিদায় জানান। তিনি ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়াতে ‘মিনি বিশ্বকাপ’খ্যাত বেনসন অ্যান্ড হেজেজ ওয়ার্ল্ড সিরিজ জেতে ভারত। ১২৫ টেস্ট খেলা গাভাস্কার ক্যারিয়ারে ১০ হাজার ১২২ রান করেছেন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন