default-image

তিনি দলে নেই, তবে দলের সঙ্গেই আছেন। যে দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে ছিলেন এত দিন, সেই সম্পর্ক তো এখনই শেষ হওয়ার নয়! জাতীয় দল আর ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে বিশ্বকাপ দলের সবাইকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের ১৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের ধারাবাহিক লেখা
বয়সে সানি আমার চেয়ে একটু ছোট। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বয়সে তো অনেক ছোট। কিন্তু ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বয়স কিন্তু কাছাকাছি! প্রায় সমসাময়িকই বলা চলে আমাদের। জাতীয় দলে মাত্রই কদিন আগে এল সানি, কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে তো প্রায় ১৩-১৪ বছর ধরে! এত দিন ধরে যে ক্রিকেটকে ধ্যানজ্ঞান করে খেলে গেল, সেটার পুরস্কার অবশেষে পেল। সানি খেলছে বিশ্বকাপে!
সানিকে আমি, আমরা চিনি সেই শুরু থেকেই। ক্রিকেট দিয়ে চেনার আগে নজরে পড়েছে ক্রিকেট-পাগল মায়ের কারণে। সানির মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় ক্রিকেটার হবে, জাতীয় দলে খেলবে। এখন হয়তো হাজারো বাবা-মায়ের স্বপ্ন এটি। নিজেরাই সন্তানকে নিয়ে আসেন মাঠে, একাডেমিতে। কিন্তু আমি বলছি প্রায় দেড় যুগ আগের কথা। ক্রিকেটের তখনো এমন সুদিন আসেনি যে বাবা-মায়েরা সন্তানের ভবিষ্যৎ হিসেবে ক্রিকেটকে ভাববেন। কিন্তু সেই সময়েও প্রতিদিন আমিনবাজার থেকে ছেলেকে ধানমন্ডির একাডেমিতে নিয়ে আসতেন সানির মা। পুরো সময় বসে থাকতেন। আবার নিয়ে যেতেন। দিনের পর দিন এভাবে অক্লান্ত শ্রম, ত্যাগ-তিতিক্ষা দিয়ে ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে চেয়েছেন আন্টি। আমরা সবাই চিনতাম আন্টিকে, উনিও আমাদের চিনতেন। কথা হতো। সেই ত্যাগী মায়ের স্বপ্নপূরণ হয়েছে আজ।

default-image

ঘরোয়া ক্রিকেটে সানি কখনোই হয়তো চোখধাঁধানো কিছু করেনি। তবে নিয়মিত পারফরমার ছিল বরাবরই। তার পরও সানির জাতীয় দলে আসতে অনেক সময় লেগে গেল। তখনো রফিক ভাই খেলছিলেন, আমি ছিলাম, সাকিব এসে গেল। সময়মতো ভাগ্য পাশে থাকারও প্রয়োজন পড়ে ক্রিকেটে। সব মিলিয়ে হয়নি। কত কত ক্রিকেটার আছে, সুযোগ পাওনা থাকলেও জাতীয় দলে কখনো খেলতে পারে না। সেদিক থেকে সানি ভাগ্যবান। দেরিতে হলেও খেলছে। এবং বিশ্বকাপ খেলছে। ওর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পাওয়া এটি। সানি অবশ্যই আমার সঙ্গে একমত হবে।
ওর জন্য সবচেয়ে ভালো হয়েছে, এমন সময়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে যখন উইকেটের মধ্যেই আছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে টানা দুই ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় এত বেশি উইকেট পাওয়া কঠিন হবে। আমি ওকে বলব আগে রান না দেওয়ার দিকে মন দিতে। বরাবরই সানি সীমিত ওভারের ক্রিকেটের খুব ভালো বোলার। টার্ন বেশি নেই, সেভাবে লুপও নেই। তবে আছে লাইন-লেংথ। এমনিতে এটা মৌলিক ব্যাপার, সব বোলারেরই লাইন-লেংথে বল রাখতে হয়। তবে সানির নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি। সঙ্গে আছে গতিবৈচিত্র্য। বিশ্বকাপে এই শক্তির জায়গাটাই ওকে কাজে লাগাতে হবে। কিপটে হয়ে উঠতে হবে। এক পাশ থেকে রান আটকে রাখতে হবে। আর বোলিংয়েও জুটি গড়তে হবে। যদি দুই পাশ থেকেই রান আটকে রাখা যায়, তাহলে উইকেট মিলবেই।
সানির একটা ব্যাপার হলো, যখনই যে পর্যায়ের ক্রিকেটে যে পরিস্থিতিতে খেলেছে, ভালো করেছে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে ভালো করা কঠিন হবে অবশ্যই, বিশেষ করে চারজন ফিল্ডার যখন বাইরে। কিন্তু ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে দ্রুত। আশা করি বিশ্বকাপে ভালো করেই ফিরবে, দলে ওর জায়গা হবে আরও সংহত।
অনেক সাধনায় পাওয়া এই সুযোগ, স্বপ্নের আঙিনায় বিচরণ নিশ্চয়ই দ্রুতই শেষ করতে চাইবে না!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন