default-image

ম্যাচ শেষে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না জেসন হোল্ডারকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ‘অ আ ক খ’ পড়ে ওঠার আগেই কাঁধে এসে পড়েছে দলের নেতৃত্ব। এমনিতেই বিতর্কজর্জর দল, তার ওপর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সহযোগী দেশের কাছে হার। দুই কাঁধে এখন নিশ্চয়ই দুটি পাহাড় অনুভব করছেন হোল্ডার! ম্যাচ শেষে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনেও না এসে পাঠিয়েছেন ড্যারেন স্যামিকে।
আয়ারল্যান্ডের কালকের জয়ে খুব বড় অবদান নেই উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের। তবে দলটির নেতা তো তিনি! প্রায় সাত বছর ধরে অধিনায়ক। সাক্ষী অনেক স্মরণীয় জয়ের। তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি স্মরণীয় জয়। পোর্টারফিল্ড জানতেন, ‘অঘটন’জাতীয় কোনো প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনে উঠবেই। উত্তরও সাজানো ছিল, ‘আমি তো এখানে অঘটনের কিছু দেখছি না! ম্যাচটি জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচেও লক্ষ্য জয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তা-ই। সব ম্যাচে জয়ই লক্ষ্য থাকে আমাদের।’
অনেকে ভাবতে পারেন, সহযোগী দেশগুলোর জন্য একটি বড় দলকে হারানোই বিশ্বকাপে অনেক বড় পাওয়া। কিন্তু পোর্টারফিল্ড জয়ের উচ্ছ্বাসে না ভেসে তাকাচ্ছেন সামনে, ‘ওরা তিন শ করার পরও জানতাম লক্ষ্যটা আমাদের নাগালেই আছে। দারুণ পেশাদারিতে খেলে সেটা আমরা করে দেখিয়েছি। পরের ম্যাচগুলোর জন্য এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। আমার বিশ্বাস, আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠব।’
প্রথম ম্যাচের পরই পোর্টারফিল্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ভাবনায় অবাক হতে পারেন। কালকের জয়ের পর সেটি কিন্তু এখন খুবই সম্ভব! আয়ারল্যান্ড যদি এখন প্রত্যাশামতো হারাতে পারে জিম্বাবুয়ে ও আরব আমিরাতকে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি হারে সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের কাছে, অন্য কোনো বড় অঘটন না ঘটলে শেষ আটে খেলতেই পারে আইরিশরা!
ক্যারিবিয়ানরা যেমন শুনতে পাচ্ছে বিপদঘণ্টা। সংবাদ সম্মেলনে এসে স্যামি তাই ডাক দিলেন জেগে ওঠার, ‘এভাবে খেলতে থাকলে আমরা খুব বেশি দিন বিশ্বকাপে টিকতে পারব না নিশ্চিত। কোনো কিছু যখন পক্ষে আসে না, নিজেদের অনুপ্রাণিত করাও কঠিন। তার পরও বিশ্বাস হারালে চলবে না। কোনো না কোনো জায়গা থেকে আমাদের অনুপ্রেরণা খুঁজতে হবে এবং সেটাও খুব দ্রুত।’
নইলে দ্রুতই বাড়ির পথ ধরতে হবে একসময়ের প্রবল প্রতাপশালী দলটিকে! এএফপি, রয়টার্স, ক্রিকইনফো।
বিশ্বকাপে তিন শ রান তাড়া করে জয়
লক্ষ্য ম্যাচ ভেন্যু সাল
৩২৯/৭ (৪৯.১) ৩২৮ আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড বেঙ্গালুরু ২০১১
৩১৩/৭ (৪৯.২) ৩১৩ শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ে নিউ প্লিমাউথ ১৯৯২
৩০৭/৪ (৪৭.৪) ৩০৭ আয়ারল্যান্ড-হল্যান্ড কলকাতা ২০১১
৩০৭/৬ (৪৫.৫) ৩০৫ আয়ারল্যান্ড-ও. ইন্ডিজ নেলসন ২০১৫
৩০১/৯ (৪৯.৫) ৩০১ ইংল্যান্ড-ও. ইন্ডিজ ব্রিজটাউন ২০০৭
সংখ্যায় সংখ্যায়
৩ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০০ করলেই অবধারিত হার। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত তিনবার আইরিশদের বিপক্ষে ৩০০ রানের বেশি করেছে প্রতিপক্ষ, তিনবারই তাড়া করে জিতেছে আইরিশরা। বিশ্বকাপে ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের ঘটনাই মাত্র পাঁচটি।

এবার প্রথম ৫ ম্যাচেই ছয়বার ৩০০ রান দেখল বিশ্বকাপ। প্রথম সাত বিশ্বকাপের একটিও এত তিন শ রানের ইনিংস দেখেনি। সবচেয়ে বেশি ১৭ বার ৩০০ হয়েছে ২০১১ বিশ্বকাপে।
১৯৮
শেষ ২০ ওভারে ১৯৮ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গত ১৪ বছরে দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

২০০৭ সালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ, ২০১১ সালে ইংল্যান্ড, এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে চারবার টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে জিতল আয়ারল্যান্ড। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে কেনিয়াও চারবার জিতেছে টেস্ট খেলুড়েদের বিপক্ষে। ২০০৩ সালে নিউজিল্যান্ডের ছেড়ে দেওয়া ম্যাচটা ধরলে অবশ্য সংখ্যাটা ৫ হয়ে যায়।
৮৯
বিশ্বকাপে সাত নম্বরে ব্যাট করে সর্বোচ্চ রান এখন ড্যারেন স্যামির। স্যামি ভেঙেছেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের শহীদ মেহবুবের (৭৭) গড়া রেকর্ড।

ছয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন লেন্ডল সিমন্স।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন