default-image

বড় বাঁচা বেঁচে যাচ্ছেন বিরাট কোহলি? চেন্নাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানাতে গিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে কোহলির আচরণ অনেকেরই ভালো লাগেনি। এখন পর্যন্ত অবশ্য সেটির জন্য ভারত অধিনায়ককে কোনো শাস্তিটাস্তি পেতে হয়নি। কিন্তু ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটারদের তা একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না।

ডেভিড গাওয়ার, নাসের হুসেইন, মাইকেল ভন—ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা কোহলির শাস্তি হওয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আগেই নিজেদের মত জানিয়েছেন। সে তালিকায় যোগ হলো ডেভিড লয়েডের নামও। ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়া লয়েড ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মেইলে নিজের কলামে লিখেছেন, আম্পায়ারকে মাঠে ‘সমালোচনা, ছোট করে দেখানো, ভয় দেখানো ও হাসাহাসি করায়’ কোহলির অন্তত পরের তিন টেস্টে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত ছিল।

চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ বিকেলের ঘটনা। দিনের শেষ হতে তখন আর দুই ওভার বাকি। অক্ষর প্যাটেলের বলে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটের বিপক্ষে ক্যাচ আউটের আবেদন করে ভারত। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউতে ধরা পড়ে ক্যাচ ছিল না, বল লেগেছে রুটের প্যাডে। তা প্যাডে যেহেতু লেগেছে, তৃতীয় আম্পায়ার তাই এলবিডব্লু হয়েছে কি না, সেটিও দেখেন। সেখানে দেখা যায়, বল স্টাম্পে লাগত বটে। কিন্তু বল প্যাডে লাগার সময় সেটির পঞ্চাশ ভাগ স্টাম্পের বাইরে ছিল বলে তৃতীয় আম্পায়ার জানিয়ে দেন, ‘আম্পায়ার্স কল’ যেহেতু নট আউট, তাই এখানে আউট দেওয়া যাচ্ছে না।

default-image
বিজ্ঞাপন

এতেই খেপে যান কোহলি। আম্পায়ারের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয় তাঁর। কথা বলতে ভারত অধিনায়কের মেজাজ দেখানো আর কী! নিজের অসন্তোষ জানিয়ে দেন ভারত অধিনায়ক। অন্য খেলোয়াড়েরা নিজেদের জায়গায় ফিরে যাওয়ার সময়ও আম্পায়ারের সঙ্গে কথা চলছিল কোহলির।

এটি নিয়েই লয়েডের কথা, অন্য কোনো খেলা হলে কোহলিকে তখনই মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হতো। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টে কোহলির খেলা উচিত নয় বলেও জানিয়ে দেন লয়েড। ‘বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে তাহলে কোনো শৃঙ্খলাজনিত শাস্তির সিদ্ধান্ত হচ্ছে না? আমার এসব দেখে হাসি পায়, হতাশও লাগে। ক্রিকেট এত প্রাচীনপন্থী হয়ে আছে! একটা জাতীয় দলের অধিনায়ক মাঠে একজন কর্মকর্তাকে সমালোচনা করে, ছোট করে দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে, হাসির পাত্র বানিয়েও বেঁচে যাচ্ছেন! দ্বিতীয় টেস্টে দিব্যি খেলে গেছেন ওই খেলোয়াড়! অন্য কোনো খেলা হলে তাঁকে তখনই মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হতো। আহমেদাবাদে আগামী সপ্তাহে কোহলির খেলতে পারা উচিত নয়’—ডেইলি মেইলে লিখেছেন লয়েড।

default-image

ম্যাচ রেফারি ও সাবেক ভারতীয় পেসার জাভাগল শ্রীনাথের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা ছিল লয়েডের কলামে, ‘এমন অপরাধের ক্ষেত্রে হলুদ আর লাল কার্ড চালু করেই মানুষকে অপরাধের মাত্রা বুঝিয়ে দেওয়া যেত। এটা সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো—যেটির মানে হতো ও (কোহলি) পরের তিন টেস্টে নিষিদ্ধ হতো! ম্যাচ রেফারি জাভাগল শ্রীনাথ সুন্দর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি, এটা অবিশ্বাস্য। সাড়ে তিন দিন পেরিয়ে গেল, তিনি এখনো কিছুই করেননি।’

শুধু কোহলিরই নয়, দ্বিতীয় টেস্টে চেন্নাইয়ের পিচেরও চাঁছাছোলা সমালোচনা করেছেন লয়েড। তাঁর চোখে পিচ নামের এই কলঙ্ক নিয়ে আইসিসি কেন কোনো কথা বলছে না, সে প্রশ্নও রেখেছেন লয়েড। ৭৩ বছর বয়সী ইংলিশ অবশ্য পিচ কতটা স্পিনসহায়ক হলো না হলো, তা নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই বলেই জানাচ্ছেন, ‘স্পিনসহায়ক পিচ নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পিচ তো পিচের মতো হতে হবে! দুটি টেস্ট খেলা হলো একই মাঠে, ১৫ গজ দূরের দুই পিচে। কিন্তু এর একটি (প্রথম টেস্টে) ঠিকভাবে প্রস্তুত করা ছিল, অন্যটি ছিল না।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন