ম্যাচ জিতে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে দিল্লি। হেরে গিয়েও কোহলি খুশি দল এলিমিনেটর নিশ্চিত করায়।
ম্যাচ জিতে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে দিল্লি। হেরে গিয়েও কোহলি খুশি দল এলিমিনেটর নিশ্চিত করায়। ছবি: আইপিএল

জিতলে নিশ্চিত প্রথম প্লে-অফে খেলা, হারলে অনিশ্চিত এলিমিনেটর খেলাও। এমন সমীকরণ সামনে নিয়েই আজ আবুধাবিতে খেলতে নেমেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে সেই ম্যাচে শেষ হাসিটা দিল্লি ক্যাপিটালসই। বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করেছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল। আগামী বৃহস্পতিবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে খেলবে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করা দলটি।

জিততে পারলে সরাসরিই কোয়ালিফায়ারে খেলার সুযোগ পেত বেঙ্গালুরু। হেরে গেলেও সমান ১৪ পয়েন্ট পাওয়া কলকাতা নাইট রাইডার্সের চেয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় এলিমিনেটরে খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে দলটি। আগামীকাল শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে হারালে বাদ পড়ে যাবে কলকাতা।

বিজ্ঞাপন

টস হেরে ব্যাটিং পেয়ে ৭ উইকেটে ১৫২ রান তোলে বেঙ্গালুরু। স্কোরটা ১৯ ওভারেই পেরিয়ে যায় দিল্লি। রান তাড়ায় তেড়েফুঁড়ে শুরু করে প্রথম ১০ বলে ১৯ রান তুলে ফেলে দলটি। ১১তম বলে দলকে ১৯ রানে রেখে ফিরে যান ওপেনার পৃথ্বী শ। ৬ বলে ৯ রান করা পৃথ্বী ফিরেছেন বেঙ্গালুরু পেসার মোহাম্মদ সিরাজের দারুণ এক বলে।

default-image

এর পরের গল্পটা পুরোপুরিই দিল্লির। দ্বিতীয় উইকেটে অজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে ১০.৫ ওভারে ৮৮ রানের জুটি গড়েই কোহলিদের ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেন শিখর ধাওয়ান। ৪১ বলে ৬টি চারে ৫৪ রান করে ফিরেছেন দিল্লি ওপেনার। এবারের আইপিএলে ধাওয়ানের এটি পঞ্চম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস।

রাহানে টিকে ছিলেন ১৮তম ওভার পর্যন্ত। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংস সর্বোচ্চ ৬০ রান করে ফিরেছেন ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। এ মৌসুমে ছয় ম্যাচ খেলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানের এটিই প্রথম ফিফটি। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে রাহানে যখন আউট হলেন ১৬ বলে ১৭ রান দরকার ছিল দিল্লির।

অতটা সময় অপেক্ষা করেনি রাজধানীর দলটি। ঋষভ পন্ত (৭ বলে অপরাজিত ৮) ও মার্কাস স্টয়নিস (৫ বলে অপরাজিত ১০) দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান এক ওভার হাতে রেখেই।

এর আগে কোহলিদের শুরুটা মোটেও টি-টোয়েন্টিসুলভ ছিল না। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা যখন অস্ট্রেলীয় ওপেনার জশ ফিলিপেকে ফেরালেন বেঙ্গালুরুর রান মাত্র ২৫।

এরপর আরেক ওপেনার দেবদূত পাড়িক্কালকে নিয়ে ৫৭ রানে জুটি গড়েন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। রান তোলায় তখনো গতি আসেনি বেঙ্গালুরুর ইনিংসে। ২৪ বলে ২৯ রান করে কোহলি যখন রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ডিপ মিডউইকেটে মার্কাস স্টয়নিসের ক্যাচ হলেন দলের রান ১২.৩ ওভারে ৮২।

বিজ্ঞাপন

বেঙ্গালুরুর স্কোরটা যে এখান থেকে ১৫০ পেরোল তাতে বড় অবদান এবি ডি ভিলিয়ার্সের। রানআউট হওয়ার আগে ২১ বলে ৪৫ রান করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ১টি চার ও ২টি ছক্কায়। ডি ভিলিয়ার্স ফিরেছেন শেষ ওভারে দলকে ১৪৬ রানে রেখে।

default-image

বেঙ্গালুরুর ইনিংসে সর্বোচ্চ রান অবশ্য পাড়িক্কালের। এবারের আইপিএলে নিজের পঞ্চম ফিফটি করে পাড়িক্কাল ফিরেছেন ঠিক ৫০ রান করেই। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৪১ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৫টি চার। এবারের আইপিএলে ১৪ ম্যাচে ৪৭২ রান ২০ বছর বয়সী পাড়িক্কালের। তাঁর চেয়ে বেশি রান আছে শুধু কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের লোকেশ রাহুল (৬৭০) ও দিল্লি ক্যাপিটালসের শিখর ধাওয়ানের (৫২৫)।

দিল্লির দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলার আনরিখ নর্কিয়া ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। আরেক প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার রাবাদা ৩০ রান খরচায় নিয়েছেন ২ উইকেট।

মন্তব্য পড়ুন 0