বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সেরা চার দল যাবে প্লে-অফে, ৪ নম্বরে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্সের পয়েন্ট ১১ ম্যাচে ১০। ৫ নম্বরে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের পয়েন্টও কলকাতার সমান—১১ ম্যাচে ১০। গ্রুপ পর্বে বাকি তিন ম্যাচ জিতলেও তাই মোস্তাফিজদের প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত নয়। ভাগ্যটা তাঁদের ঝুলে গেল অন্যদের জয়-হারের সমীকরণের সঙ্গে।

মোস্তাফিজ আজ একেবারে খারাপ করেননি। নিজের প্রথম ওভারটাতেই যা লাইন-লেংথ ঠিক করতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার। সেই ওভারে ১২ রান দিলেও শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজ ম্যাচ শেষ করেছেন ৩ ওভারে ২০ রান দেওয়ার বিনিময়ে ২ উইকেট নিয়ে।

রাজস্থানের আর কোনো বোলারই উইকেট পাননি। বল হাতে রাজস্থানকে মূলত ডুবিয়েছেন ক্রিস মরিস ও কার্তিক ত্যাগি। মরিস ৪ ওভারে দিয়েছেন ৫০ রান, ত্যাগি ২ ওভারে ২৩।

বেঙ্গালুরুর হয়ে ওপেনিংয়ে নামা বিরাট কোহলি ও দেবদূত পাড়িক্কালকে স্বস্তিতে থাকতে না দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই কিনা রাজস্থান অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন প্রথম চার ওভার করিয়েছেন চার ভিন্ন বোলারকে দিয়ে। মোস্তাফিজ বোলিংয়ে আসেন চতুর্থ ওভারে।

ছয়টি বলেই পাড়িক্কাল ছিলেন স্ট্রাইকে। বাঁহাতি ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে কীভাবে বল করবেন, সেটি যেন শুরুতে বুঝে উঠতে পারেননি মোস্তাফিজ। প্রথম বলে ২ রান নেওয়া পাড়িক্কাল তৃতীয় ও পঞ্চম বলে মারেন চার, ষষ্ঠ বলে লেগ বাইয়ে আসে আরও দুই রান।

default-image

কিন্তু ইনিংসের পঞ্চম ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসেই বদলা নেন মোস্তাফিজ। এবারও স্ট্রাইকে পাড়িক্কাল, প্রথম বলে কোনো রান হয়নি। দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজ বোল্ড করে দিলেন পাড়িক্কালকে। ৪৮ রানে ভাঙে বেঙ্গালুরুর উদ্বোধনী জুটি। পাড়িক্কাল ১৭ বলে করেন ২২ রান। সেই ওভারে ভারত ও কোহলি মিলে আরও ৬ রান নেন। ষষ্ঠ বলে ৩ রান নেওয়া কোহলিকে আগের বলেই দারুণ ডেলিভারিতে পরাস্ত করেছিলেন মোস্তাফিজ!

মোস্তাফিজকে এরপর বোলিংয়ে আনা হয় ১৬তম ওভারে, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ রাজস্থানের হাত থেকে প্রায় বেরিয়েই গেছে। সে সময় ৩০ বলে মাত্র ২৭ রান দরকার বেঙ্গালুরুর, হাতে ৮ উইকেট। ক্রিজে তখন ৩২ বলে ৪২ রান নিয়ে ব্যাট করতে থাকা ভারতের সঙ্গী ২১ বলে ২৬ রান করে ফেলা ম্যাক্সওয়েল। মোস্তাফিজের প্রথম পাঁচ বলে চারটি সিঙ্গেলে আসে চার রান। শেষ বলে ভারতকে ফেরান মোস্তাফিজ, ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ভারত। ৫০ বলে ৪৪ রান করেছেন তিনি

কিন্তু মোস্তাফিজ যা-ও একটু চাপ তৈরি করে দিয়েছিলেন, পরের ওভারে মরিসের বলে সব চাপ হাওয়া হয়ে গেল ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটে। প্রথম বলে ছক্কা, এরপর আরও ৩ চারে সেই ওভারে ২২ রান নেন ম্যাক্সওয়েল।

default-image

ওভারের শেষ বলে চার মেরে ৫০ রানও পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার (৩০ বলে)। আর ওভার শেষে বেঙ্গালুরুর লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮ বলে ১ রান! রিয়ান পরাগের পরের ওভারের প্রথম বলে চার মেরে সমীকরণ মিলিয়ে দেন ডি ভিলিয়ার্স।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১১ ওভারে রাজস্থানের রান ছিল ১ উইকেটে ১০০। সেখান থেকে ২০ ওভার শেষে স্কোর ৯ উইকেটে ১৪৯ রান! নাটকীয় ধসই বটে! পথ হারাল রাজস্থান র‌য়্যালস।

যশস্বী জয়সোয়াল ও এভিন লুইসের ওপেনিং জুটিতেই রাজস্থান তোলে ৭৭ রান। ২২ বলে ৩১ রান করেছেন জয়সোয়াল, লুইস থেমেছেন ৩৭ বলে ৫৮ রান করে। তবে লুইসের বিদায়ের পরই খেই হারায় রাজস্থান। দুই ওপেনারের পর দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন আর দুজন—অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন (১৯) ও ক্রিস মরিস (১৪)।

বেঙ্গালুরুর দুই স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল ও শাহবাজ আহমেদ ৬ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন পেসার হার্শাল প্যাটেল, সব কটিই ইনিংসের শেষ ওভারে। ১টি করে উইকেট ড্যান ক্রিস্টিয়ান ও জর্জ গার্টনের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন