হায়দরাবাদের জয় নিশ্চিত করে জেসন হোল্ডার ও আব্দুল সামাদের উদ্‌যাপন।
হায়দরাবাদের জয় নিশ্চিত করে জেসন হোল্ডার ও আব্দুল সামাদের উদ্‌যাপন।ছবি: আইপিএল

শেষ চারে ওঠার সমীকরণটা দুই সপ্তাহ আগেও কী সহজ ছিল! মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, দিল্লি ক্যাপিট্যালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এক পা দিয়েই রেখেছিল আইপিএলের প্লে-অফে। চতুর্থ দল কে হবে সেটা নিয়েই তখন যা একটু প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু কে জানত লিগ পর্বের শেষ সপ্তাহে এসে শুধুমাত্র মুম্বাই শেষ চার নিশ্চিত করবে!

চেন্নাই সুপার কিংস ছাড়া যে কেউই এখন দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে যেতে পারে। আজ শারজায় বেঙ্গালুরু ও সানরাইজারার্স হায়দরাবাদের অল্প রানের ম্যাচে হায়দরাবাদ ৫ উইকেটে জেতার পর তাদের সম্ভাবনাটা আরও বেড়েছে।

মুম্বাই ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এর মধ্যেই প্লে অফ নিশ্চিত করেছে। সমান ১৪ পয়েন্ট দিল্লি ক্যাপিট্যালস ও বেঙ্গালুরুর। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, রাজস্থান রয়্যালস, কলকাতা নাইট রাইডার্স—তিন দলই ১২ পয়েন্টের মালিক। তিন দলেরই একটি করে ম্যাচ বাকি।

বিজ্ঞাপন

হায়দরাবাদ আজ বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে সেই ১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্টের ভিড়ে যোগ দিল। তবে হায়দরবাদের সুবিধা তাদের রান রেট। বাকি সব ১২ পয়েন্টের দলের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নারদের রান রেট সবচেয়ে ভালো (+.৫৫৫)। তাই দল জেতায় পয়েন্ট তালিকায় সাত নম্বর থেকে এক লাফে চারে উঠে এসেছে ওয়ার্নাররা। শেষ ম্যাচে মুম্বাইকে হারালে রান রেট দিয়েই শেষ চার নিশ্চিত হতে পারে ২০১৬ আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের।

default-image

টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য হায়দরাবাদের বোলারদের ধন্যবাদ দিতে চাইবেন কোচ ট্রেভর বেলিস। আগে ব্যাট করা বেঙ্গালুরুকে শারজার মতো মাঠে মাত্র ১২০ রানে থামিয়েছে হায়দরাবাদ। মন্থর হয়ে আসা উইকেটের পুরো সুযোগটা নিয়েছেস জেসন হোল্ডার, রশিদ খানরা। প্রতিপক্ষে কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সের মতো ব্যাটসম্যানদের টিকতে দেয়নি হায়দরাবাদের বোলিং আক্রমণ।

সন্দীপ শর্মা ও হোল্ডার নিয়মিত উইকেট নিয়েছেন এক প্রান্ত থেকে। আরেক প্রান্ত থেকে রান থামিয়ে রাখেন নটরাজন, রশিদ খানরা। শর্মা ও হোল্ডার দুটি করে উইকেট নেন। কিন্তু নটরাজন ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচা করেন। আবার একটি উইকেটও নেন। রশিদ তাঁর ৪ ওভারে ২৪ রানে নেন একটি উইকেট। পাঁচ বোলারের মধ্যে একটু খরুচে ছিলেন শাহবাজ নাদিম। ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন তিনিও।

বেঙ্গালুরুর হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন জশ ফিলিপস, তা-ও ৩১ বলে ৩২ রান। কোহলি ৭ বলে ৭ ও ডি ভিলিয়ার্স ২৪ বলে ২৪ রান করেছেন। ফিলিপ ছাড়া দলে এক শ-র বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন শুধু পাঁচে নামা ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁর ২১ রানের ইনিংস এসেছে ১৮ বলে।

ছোট্ট লক্ষ্য তাড়া করতে বেশি ঘাম ঝরেনি হায়দরাবাদের। ওয়ার্নার ৫ বলে ৮ রান করে আউট হন। কিন্তু আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা ঋদ্ধিমান সাহা আজও ভালো খেলেছেন। হায়দরাবাদ ওপেনার সাহার ৩৯ রানের ইনিংসটি বেঙ্গালুরুর হার প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। মনীশ পান্ডে (২৬) ও হোল্ডার (১০ বলে অপরাজিত ২৬) শেষে দ্রুত কিছু রান যোগ করে ম্যাচ শেষ করে আসেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0