দল হারছে, তাই কোহলির অধিনায়কত্ব নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
দল হারছে, তাই কোহলির অধিনায়কত্ব নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।ছবি: এএফপি

ব্যাপারটা অনুমিতই। সে জন্যই ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্বকে উত্তপ্ত উনুনের সঙ্গেও তুলনা করা চলে। বিরাট কোহলি যেমন সেই তপ্ত উনুনের তাপ টের পাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই ওয়ানডে সিরিজ খোয়ানোর পর কোহলি যে স্বস্তিতে থাকবেন, এটা কেউ ভাবছে না।

সাবেকদের কথা বাদ দিন। কোহলির ওপর সমালোচনায় ঝাঁপাচ্ছেন ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরাও। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ-কথা সে-কথা তো আছেই। দেদার চলছে তাঁকে নিয়ে নিষ্ঠুর সব রসিকতা। এর মধ্যে ভারত অধিনায়ক আবার প্রথম সন্তানের জন্ম উদ্‌যাপন করতে প্রথম টেস্ট খেলেই দেশে ফিরতে যাচ্ছেন। টেস্ট বাদ দিয়ে তাঁর পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে এমনিতেই আছে যথেষ্ট বিতর্ক।

সিডনিতে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ভারতীয় বোলিং পড়েছে প্রশ্নের মুখে। প্রতিপক্ষ যদি দুই ম্যাচেই ৩৭০ রানের বেশি তুলে ফেলে, তাহলে বোলিং তো প্রশ্নের মুখে পড়বেই। প্রথম ম্যাচে ৩৭৪ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৮৯—ব্যাটসম্যানরা আর কী করবেন, ম্যাচ দুটি যে শুরুতেই হেরে বসেছে ভারত।

বিজ্ঞাপন
default-image

বোলিং নিয়ে ভারতীয়রা এখন গর্ব করে বলেই এই সমালোচনা। বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে এত প্রশ্ন। কিন্তু কেবলই কি বোলিং! প্রশ্নের মুখে পড়েছে কোহলির অধিনায়কত্ব। তাঁর বোলিং পরিবর্তন নিয়ে তীব্র সমালোচনার বাণ ছুড়েছেন সাবেক সতীর্থ গৌতম গম্ভীর।

তাঁর প্রশ্ন, দলের সেরা বোলারকে শুরুতেই ২ ওভার করিয়ে কোহলি কেন বসিয়ে দিলেন, ‘শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে হবে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচে ভাবনাটা হওয়া উচিত এমনই। সাধারণত ওয়ানডে ম্যাচে কোনো বোলারের ১০ ওভার তিনটি ভিন্ন স্পেলে করা হয়। শুরুতেই বোলার যদি ছন্দে থাকে, তাহলে অন্তত ৪ ওভার করিয়ে নেওয়াটাই আদর্শ। কিন্তু সিডনিতে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে কোহলি দলের সেরা বোলারকে ২ ওভার বোলিং করিয়েই থামিয়ে দিলেন। আমার কাছে তো মনে হয় কোহলি ভুলেই গিয়েছিলেন, তিনি ওয়ানডে খেলছেন নাকি টি-টোয়েন্টি!’

default-image

কোহলির বিরুদ্ধে সমালোচনাটা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সবশেষ আইপিএলে এটি যথেষ্ট ডালপালা মেলেছে। বিশেষ করে রোহিত শর্মার অধিনায়কত্ব ও পারফরম্যান্সের সঙ্গে কোহলির অধিনায়কত্বকে মিলিয়ে সমালোচনাটা এখন বেশ জেরবার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুটি ওয়ানডে হেরে সিরিজ হারানোর পর আবার নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা উঠেছে। অনেকেই বলছেন, ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব দ্রুতই তুলে দেওয়া হোক রোহিতের হাতে।

কোহলি অবশ্য দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে মান রেখেছেন কিছুটা। প্রথম ম্যাচে জীবন পেয়েও তিনি ২১ রানের বেশি করতে পারেননি। কাল দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেছেন ৮৯ রানের ইনিংস। তবে ইনিংসটা বড় হলে কিংবা তিনি সেঞ্চুরি পেলেও যে খুব বেশি লাভ হতো, সেটি বলা যাচ্ছে না। ৩৮৯ রান তাড়া করা তো আর সহজ কথা নয়। বোলারদের অবস্থা ছিল তথৈবচ। মোহাম্মদ শামি, যশপ্রীত বুমরা, নবদীপ সাইনি, যুজবেন্দ্র চাহাল—খরুচে ছিলেন প্রায় সবাই। সাত বোলার ব্যবহার করেও অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথদের থামাতে পারেননি কোহলি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন