হতাশ কোহলি-মঈনরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন হায়দরাবাদের দুই ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসন ও হোল্ডারকে
হতাশ কোহলি-মঈনরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন হায়দরাবাদের দুই ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসন ও হোল্ডারকে ছবি: আইপিএল
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে আইপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইল ডেভিড ওয়ার্নারের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

লিগ পর্বের শেষ চার ম্যাচে চারটিতেই জয়। দারুণ ছন্দ নিয়েই আইপিএল প্লে-অফে জায়গা পেয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নারের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর গল্পটা একদম উল্টো। প্লে-অফের আগে লিগ পর্বের শেষ চার ম্যাচেই হেরেছে বিরাট কোহলির দল। আজ আবুধাবিতে প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচেও দুই দলের এই ধারাটা বজায় থাকল। বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে আইপিএলে টিকে রইল হায়দরাবাদ। প্লে-অফ থেকেই বিদায় নিয়ে আরও একবার হতাশায় ডুবতে হলো কোহলিকে।

default-image

আগে ব্যাট করে বেঙ্গালুরুর ছুড়ে দেওয়া ১৩২ রানের লক্ষ্যটা তাড়া করা খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু আবুধাবির মন্থর উইকেট সেটা হতে দেয়নি। ডেভিড ওয়ার্নার, মনিশ পান্ডে শুরুতে ভালো করেন। বেঙ্গালুরুর হয়ে নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন মোহাম্মদ সিরাজ। তবে হায়দরাবাদকে চাপে রাখেন বেঙ্গালুরুর দুই লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ও যুজবেন্দ্র চাহাল। দুই লেগ স্পিনারের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে মাঝের দিকের ওভারে খেই হারায় হায়দরাবাদ। ৬৭ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু প্লে-অফের চাপ সামলে খেলার মতো ব্যাটসম্যানরা তো আসলে হায়দরাবাদের বেঞ্চে বসা ছিলেন। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার মিলে বাকি পথটা পাড়ি দেন কোনো ঝুঁকি ছাড়াই। লেগ স্পিনারদের ওভার সামাল দিয়ে খেলেছেন। শেষের দিকে তরুণ পেসারদের বোলিংয়ে রান বের করেছেন। দেখে মনে হয়নি রান তাড়ার চাপে ভাঙবে দুই আন্তর্জাতিক অধিনায়কের জুটি। উইলিয়ামসন করেন ৪৪ বলে ৫০ রান। হোল্ডারের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের বড় জয় নিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকে হায়দরাবাদ। ৮ নভেম্বর দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলবে হায়দরাবাদ।

এর আগে ব্যাট করতে নামা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটিংয়ের ফাঁকফোকর ধরা পড়ে যায় হায়দরাবাদের বোলিংয়ে। ওপেনিংয়ে দেবদূত পাডিকেলের পর শুধু বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। বেঙ্গালুরুর লোয়ার মিডল অর্ডারে ম্যাচ জেতানোর মতো ব্যাটসম্যান নেই বললেই চলে। প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচে এসে বেঙ্গালুরুর সেই খুঁত গুলো চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিলেন হায়দরাবাদের বোলাররা।

ব্যাটিং অর্ডার লম্বা করতে লোয়ার অর্ডারে মঈন আলীকে নিয়ে আসে কোহলির দল। ওপেনিংয়ে টপ অর্ডার ভারী করতে ফিরিয়ে আনা হয় অ্যারন ফিঞ্চকে। তবু কাজ হয়নি। এবারের আইপিএলে প্রথমবারের মতো কোহলি গেলেন পাডিকালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে রান করা দুই ব্যাটসম্যানই আজ ব্যর্থ। জেসন হোল্ডার নতুন বলের সুবিধাটা নিয়ে আউট করেন বেঙ্গালুরুর দুই ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানকে।

default-image

হোল্ডারকে সঙ্গ দিয়েছেন সুইং বোলার সন্দীপ শর্মা। হোল্ডার-সন্দীপের দারুণ শুরুর পর ফিঞ্চ-ডি ভিলিয়ার্স মিলে মাঝের ওভারে জুটি গড়েন। কিন্তু এই দুই বিদেশি তারকাকে দ্রুত রানই করতে দেননি হায়দরাবাদের দুই স্পিনার রশিদ খান ও শাবাজ নাদিম। ৩২ রানে ফিঞ্চ আউট হন নাদিমের বাঁহাতি স্পিনে। ডি ভিলিয়ার্স ফিফটি করলেও রান হায়দরাবাদের নাগালের বাইরে যায়নি।

default-image

তবে ডেথ ওভারে যে কোনো কিছু করে বসতে পারতেন ডি ভিলিয়ার্স। সেটাও হতে দেননি হায়দরাবাদ বোলিংয়ের আরেক নায়ক টি নটরাজন। ডেথ ওভারে ইয়র্কার ব্যবহার করে সরাসরি বোল্ড করেন ৪৩ বলে ৫৬ করা ডি ভিলিয়ার্সকে। এরপর পুরো টুর্নামেন্টে যা হয়েছে আজও তাই হলো। ডি ভিলিয়ার্সের বিদায়ের পর ভেঙে পড়ে হায়দরাবাদের লোয়ার মিডল অর্ডার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে  ৭ উইকেটে বেঙ্গালুরু করে মাত্র ১৩১ রান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0