কোহলির প্রশংসা করলে পাকিস্তানিরা কেন রাগে, বোঝেন না শোয়েব
কোহলির প্রশংসা করলে পাকিস্তানিরা কেন রাগে, বোঝেন না শোয়েবছবি: রয়টার্স

যা বলেন খোলাখুলিই বলেন শোয়েব আখতার। পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার কারও প্রশংসা করলেও সরাসরি করেন, সমালোচনা করার সময়ও রেহাই দেন না কাউকে। মাত্রই ইংল্যান্ড সফর শেষ করা পাকিস্তান ক্রিকেট দলও যেমন রেহাই পায়নি শোয়েবের কথার হুল থেকে। আবার একই সময়ে প্রতিবেশী ভারতের ক্রিকেটারদের বিশেষ করে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করেননি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার।

আমি কেন ভারতীয় খেলোয়াড়দের ও বিরাট কোহলির প্রশংসা করতে পারব না? এই সময়ে পাকিস্তানে কিংবা পুরো বিশ্বে কোহলির কাছাকাছি আর কে আছে?
শোয়েব আখতার
বিজ্ঞাপন

আর তা করতে গিয়েই প্রায়ই নিজের দেশের মানুষের সমালোচনা শিকার হন শোয়েব। এবারও যেমন হলেন। পাকিস্তানের কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন শোয়েব কেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রশংসা ও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সমালোচনা করেন সব সময়।

এই প্রশ্নে চটেছেন ৪৬টি টেস্ট খেলা শোয়েব। ক্রিকেট পাকিস্তান নামের এক ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই সব সমালোচকদের সমালোচনা করেছেন ৪৫ বছর বয়সী সাবেক ফাস্ট বোলার। শোয়েব বলেছেন তাঁকে সমালোচনার শূলে না চড়িয়ে ওই সব সমালোচকদের উচিত বিরাট কোহলিকে এই সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেনে নেওয়া।

default-image

কেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শোয়েব, ‘আমি কেন ভারতীয় খেলোয়াড়দের ও বিরাট কোহলির প্রশংসা করতে পারব না? এই সময়ে পাকিস্তানে কিংবা পুরো বিশ্বে কোহলির কাছাকাছি আর কে আছে? আমি বুঝি না মানুষ কেন রাগ করেছে। তাঁদের উচিত আগে পরিসংখ্যান দেখে পরে আমার সমালোচনা করা। সে ভারতীয় বলে তাঁরা কি মনে শুধু বিদ্বেষ পুষে রাখতে চায়। এ কারণে কি প্রশংসাও করে না?’

কোহলির প্রশংসা করার কারণও জানালেন শোয়েব, ‘এই মুহূর্তে কোহলির ৭০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। এই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর কার এত সেঞ্চুরি আছে? সে ভারতের হয়ে কতগুলো সিরিজ জিতেছে? আমি কি তাঁর প্রশংসা করব না?’

default-image
বিজ্ঞাপন

সমালোচকেরা কী যুক্তিতে তাঁর সমালোচনা করেন সেটিই যেন বুঝতে পারেন না শোয়েব, ‘খুব অদ্ভুত একটা ব্যাপার। আমরা চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সে (কোহলি) বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটসম্যান। সে ও রোহিত শর্মা সব সময় ভালো খেলে। কেন তাঁদের প্রশংসা করব না? একটা সময় ছিল ভারতীয়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের মতো হতে চাইত কিন্তু এখন তো ব্যাপারটা উল্টো হয়ে গেছে।’

শোয়েব কথা বলেছেন ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ব্যর্থতা নিয়েও। বললেন নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলার মাশুল দিতে হয়েছে পাকিস্তানকে, ‘টেস্ট সিরিজটা তো পাকিস্তান এক সেশনে হেরেছে, প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংটা ডুবিয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে জেঁকে বসা নেতিবাচক মানসিকতা দলটার ক্ষতি করছে। আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে কিন্তু তাঁদের আগ্রাসী মনোভাবের অভাব আছে, বিশেষ করে বোলারদের।’

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আসাদ শফিকের সমালোচনাও করেছেন শোয়েব, ‘আসাদ শফিককে মাঠে উদ্‌ভ্রান্ত মনে হয়েছে। কী করতে হবে সেটিই যেন ভুলে গিয়েছিল সে। সে যতবার ব্যাটিংয়ে নেমেছে মনে হয়েছে প্রথম টেস্ট খেলছে। এতগুলো টেস্ট খেলে ফেলার পরও তাকে তারকা বানাতে পারলাম না।’

পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচকের মানসিকতার পরিবর্তনও চান শোয়েব, ‘আমাকে তো কেউ প্রধান নির্বাচক হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়নি। তবে সেটি আমি হই আর অন্য যেই হোন না কেন প্রধান নির্বাচকের মানসিকতার পরিবর্তন খুব জরুরিভাবে দরকার। দলের ভালোর জন্য ওই লোক ও প্রধান কোচের একই রকম মানসিকতার হওয়া দরকার।’

শোয়েবের দাবি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ নাকি তাঁকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে দেখতে চায়, ‘আমি জানি সাধারণ মানুষ আমাকে খেলোয়াড় নির্বাচনের দায়িত্বে দেখতে চায়। তারা এমন একটা মানুষকে চায় যে কিনা অকপট ও ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পারফরম্যান্স দাবি করবেন।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন