বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আজ এ দাবি তোলা হয়েছে। ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথেই শোনা যাচ্ছিল, সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব কোহলির হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। অধিনায়ককে নিয়ে নাকি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ‘অসন্তুষ্ট।’ যদিও বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধামাল এ খবর উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিনই কোহলি টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন বিশ্বকাপ শেষেই সরে যাবেন।

এ সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। কেন শুধু টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানো? আর এর মানে কি বোর্ড ও কোহলির মধ্যে সম্পর্ক ভালো না এখন? বোর্ডের এক সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস ধরেই এ নিয়ে কথা হচ্ছে। গত জুনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ভারত হেরে যাওয়ার পর আলোচনাটা গতি পেয়েছে। কোহলির ঘোষণার পর বোর্ডের সচিব জয় শাহ স্বীকার করেছেন, কোহলির সঙ্গে ব্যাপারটি নিয়ে গত কয়েক মাসে আলোচনা চলছিল তাঁর।
বিশেষজ্ঞরা কোহলির এ ঘোষণার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় এক ক্রীড়াযজ্ঞের ঠিক আগমুহূর্তে কেন কোহলি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন?

default-image

সূত্র জানাচ্ছে, কোহলির বিরুদ্ধে দলের মধ্যে বিদ্রোহ কয়েক মাস আগেই শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কোহলির ওপর বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। ওদিকে কোহলি নিজে ফর্ম হারিয়ে বসেছেন। তিন সংস্করণেই গত দুই বছরে কোনো সেঞ্চুরি নেই তাঁর। সে সঙ্গে ম্যাচে কোহলির নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তও ভুল হচ্ছিল। আর সেটা দলের অন্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে প্রভাব রাখতে শুরু করেছিল। এক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বিসিসিআই সচিবের কাছে কোহলির বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছেন। কোহলির আচরণে নাকি ‘হীনম্মন্যতা’য় ভুগছিলেন ওই ক্রিকেটার।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর ওই ক্রিকেটার ‘কোনো চেষ্টা দেখাননি’ জানিয়ে কোহলি নাকি অভিযোগ করেছিলেন। সূত্রমতে, বিদ্রোহী ক্রিকেটারদের একজন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বারবার অশ্বিনকে বসিয়ে রাখার পেছনে নাকি দুজনের সম্পর্কের অবনতি ভূমিকা রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলার পরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অশ্বিনকে খেলাননি কোহলি। চতুর্থ টেস্টের আগে কোচ রবি শাস্ত্রী অশ্বিনকে খেলানোর কথা বলেছেন। কিন্তু কোহলি তাতে কান দেননি।

default-image

ওদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পরামর্শক হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিসিআই। এ ব্যাপারে নাকি কোহলির সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। আর টেস্ট দলেই সুযোগ না পাওয়া অশ্বিনকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে রেখে নির্বাচকেরাও কোহলির ইচ্ছাকে যে আর প্রাধান্য দিচ্ছেন না, সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন।

ওদিকে শোনা যাচ্ছিল, শাস্ত্রী নাকি কোহলিকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের পদ থেকে সরে যেতে বলেছেন। তবে কোহলি শুধু টি-টোয়েন্টি থেকে সরেছেন। সূত্র বলছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ওয়ানডের দায়িত্ব থেকেও কোহলিকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এবং সে জায়গায় মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে সাফল্য দেখানো রোহিত শর্মা দায়িত্ব পাবেন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন