default-image

ভারতের মানুষ এই প্রসঙ্গে যেন দুটি ভাগে বিভক্ত। কারও কথা, সুনীল গাভাস্কার নারী বিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন বিরাট কোহলির স্ত্রী আনুশকা শর্মাকে ঘিরে। আবার কেউ বলছেন, ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি আসলে তেমন কিছু বলেনইনি, তাঁর কথা ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। কিন্তু আসলে গাভাস্কার কী বলেছিলেন? তাঁর নিজের দাবি, কোহলির ব্যর্থতার পেছনে আনুশকাকে দায়ী করে তো কিছু বলেনইনি, নারী বিদ্বেষী কিছুও বলেননি।

আইপিএলে কাল দিনটাই বেশ বাজে কেটেছে কোহলির। ফিল্ডিংয়ে দুটি সহজ ক্যাচ হাত ফসকেছে, ব্যাট হাতে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ। প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ১৪ রান করা কোহলি কাল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে করেছেন মাত্র ১ রান। পাঞ্জাবের ২০৬ রানের জবাবে কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু অলআউট মাত্র ১০৯ রানে। তা কোহলি আউট হওয়ার সময় ধারাভাষ্যকক্ষে ছিলেন গাভাস্কার। হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিতে থাকা গাভাস্কার কী বলেছেন, তা নিয়ে দুরকম শোনা যাচ্ছে। তবে তাঁর মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বেশ।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, গাভাস্কার বলেছেন, ‘বিরাট লকডাউনে শুধু আনুশকার বলে অনুশীলন করেছে।’ অর্থাৎ, আনুশকার সঙ্গে ক্রিকেট খেললে পারফরম্যান্স এমন হওয়ারই কথা। মন্তব্যটিতে নারী বিদ্বেষ স্পষ্ট। তারওপর কোহলির ব্যর্থতার জন্য এখানে প্রচ্ছন্নভাবে আনুশকাকে দোষারোপ করা হয়েছে। তা নিয়ে বিতর্ক ছড়াতে সময় লাগেনি। এর আগে আরও অনেকেই কোহলির পারফরম্যান্সের সঙ্গে আনুশকাকে জড়িয়ে মন্তব্য করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গাভাস্কারের মন্তব্য শুনে আনুশকাও বেশ রেগেছেন। গাভাস্কারকে উদ্দেশ করে ইনস্টাগ্রামে বলেছেন, ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তির মন্তব্য কুরুচিপূর্ণ।

কিন্তু আসলেই কি গাভাস্কার কথাটা এভাবে বলেছেন? কী বলেছেন? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছে। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে লেখা, গাভাস্কার সে সময় বলেছেন, ‘লকডাউনে তো ও শুধু আনুশকার বোলিংয়ে অনুশীলন করেছে, সেটির ভিডিও দেখেছি (লকডাউনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায় আনুশকা-কোহলি নিজেদের ছাদে টেনিস বলে ক্রিকেট খেলছেন)। অতটুকু অনুশীলনে আর কী-ই বা হয়।’ অর্থাৎ, গাভাস্কার লকডাউনের সময়ে কোহলির ক্রিকেট অনুশীলনের অভাবের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিজের মন্তব্য ঘিরে এত বিতর্কে চমকে যাওয়া গাভাস্কার মন্তব্যের ব্যাখ্যায়ও তেমনই দাবি করেছেন। আনুশকাকে কোনোভাবেই দোষ দেননি জানিয়ে ইন্ডিয়া টুডে-তে গাভাস্কার বলেছেন, ‘প্রথমত আমি বলতে চাই, আমি ওকে (আনুশকা) কখন দোষারোপ করলাম? ওকে তো দোষারোপ করিনি। আমি শুধু এতটুকুই বলেছি যে, ওই ভিডিওতে দেখা গেছে সে বিরাটকে বোলিং করেছে। লকডাউনের সময়ে বিরাট এর বাইরে আর কারও বলে অনুশীলন করার সুযোগ পায়নি। ওটা টেনিস বলের ক্রিকেট ছিল। লকডাউনে মানুষ সময় কাটাতে যে ক্রিকেট খেলে, সেটা। এই তো! এখানে বিরাটের ব্যর্থতার জন্য ওকে কোথায় দোষারোপ করলাম?’

তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘নারী বিদ্বেষী মন্তব্য করার’ অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন গাভাস্কার। সব সময় খেলোয়াড়দের স্ত্রীদের পক্ষে সরব ছিলেন জানিয়ে গাভাস্কার বললেন, ‘আমিই সেই মানুষ যে কিনা বিদেশে সিরিজের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে কথা বলি। আমিই সেই মানুষ যে সব সময় বলি যে, ক্রিকেট খেলাও ৯ টা-৫টা চাকরির মতো, যেটির শেষে একজন ক্রিকেটার বাড়িতে তাঁর স্ত্রীর কাছে ফেরে। সে হিসেবে একজন ক্রিকেটার কেন বিদেশে সিরিজের সময় তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে যেতে পারবে না!’

বিজ্ঞাপন

মন্তব্যটা কোন প্রসঙ্গে করেছেন, সেটিরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন গাভাস্কার, ‘ধারাভাষ্য থেকে শুনতেই পাবেন, লকডাউনের সময় ক্রিকেটারদের যে সত্যিকারের ক্রিকেট অনুশীলনের সুযোগ ছিলই না, সেটি নিয়ে বলছিল আকাশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কয়েকজন ক্রিকেটারের ব্যাটিংয়ে সেটা বোঝাও গেছে। রোহিত (প্রথম ম্যাচে) সেভাবে ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি, দ্বিতীয় ম্যাচে রানে ফিরেছে। এমএসডি (ধোনি) প্রথম ম্যাচে বলে-ব্যাটে করতে পারেনি সেভাবে।’

কোহলির ব্যাটিংয়েও প্রস্তুতির অভাব বোঝাতেই আনুশকার সঙ্গে ওই ম্যাচের কথা এনেছেন বলে দাবি গাভাস্কারের, ‘...আনুশকা ওকে বোলিং করেছিল। এ কারণেই আমি বলেছি, (লকডাউনে) অতটুকু বোলিংয়ের বিপক্ষেই খেলতে পেরেছে ও (কোহলি)। এর বাইরে কোনো শব্দ তো ব্যবহার করিনি। এখানে ওকে (আনুশকা) দোষ কোথায় দিলাম? নারী বিদ্বেষী-ই বা কোথায় হলাম? আমি নারী বিদ্বেষী কিছু বলিনি। এখন আমার মন্তব্য সেভাবে বুঝলে আমার কী করার থাকতে পারে?’

মন্তব্য পড়ুন 0