শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচ শেষ হাসি হেসেছেন ভারতের খেলোয়াড়েরা।
শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচ শেষ হাসি হেসেছেন ভারতের খেলোয়াড়েরা। ছবি: এএফপি

র‌্যাঙ্কিংয়ের এক আর দুই নম্বর দলের লড়াইটা বুঝি এমনই হয়—কেহ কারে নাহি জিনে সমানে সমান! সত্যি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি টি–টোয়েন্টি সিরিজই দেখছে ক্রিকেট বিশ্ব। যে সিরিজে এক ম্যাচ জিতে এ সংস্করণের র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে থাকা ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় তো পরের ম্যাচে দুই নম্বরে থাকা ভারত আবার ধরে ফেলে তাদের। এভাবে ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়া আর ভারতের পিছিয়ে যাওয়ার সিরিজে কাল চতুর্থ ম্যাচ জিতে সমতায় ফিরেছে ভারত। সিরিজে এখন ২–২–এ সমতা।

সিরিজে যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে, এর ছাপ ছিল চতুর্থ ম্যাচটিতেও। শেষ ওভারে গড়ানো দমবন্ধ করা ম্যাচটিতে কোহলি ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আগের ম্যাচে ভারত অধিনায়কের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পরও হেরেছে ভারত। সিরিজে পিছিয়ে গিয়েছিল ২–১ ব্যবধানে। কালকের ম্যাচে কোহলি ব্যর্থ হলেও জিতেছে দল। সিরিজে সমতায় ফিরতে ম্যাচটি তারা জিতেছে ৮ রানে।

বিজ্ঞাপন
default-image

এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজটি নিজেদের করে নিতে কাল ১৮৬ রানের লক্ষ্য ছিল ২–১–এ এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের সামনে। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধুঁকেছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ইনিংসের প্রথম ওভারটিতেই মেডেন নিয়েছেন ভারতের ফাস্ট বোলার ভুবনেশ্বর কুমার। ২ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে শুধু ২ রানই তুলতে পারে তারা। তবে রানের চাকা ঘোরাতে শট খেলা শুরু করেন ওপেনার জেসন রয়। এক প্রান্তে তিনি রান করে গেলেও অন্য প্রান্তে জস বাটলার বা ডেভিড ম্যালানরা যেন থিতুই হতে পারছিলেন না। ৮ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৬০ রান।

নবম ওভারে আউট হয়ে ফেরেন জেসন রয়ও। আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ৬ চার ও এক ছয়ে ৪০ রান করেছেন ইংলিশ ওপেনার। ৬৬ রানে ৩ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের জয়ের সুযোগ দেখার মানুষ তখন খুব বেশি ছিল না। কিন্তু জনি বেয়ারস্টো আর বেন স্টোকস দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে আশা জাগিয়ে তোলেন ইংল্যান্ড শিবিরে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাত্র ৩৬ বলে ৬৫ রান তোলেন তাঁরা। জুটি ভাঙে ১৯ বলে ২৫ রান করে রাহুল চাহারের বলে বেয়ারস্টো আউট হয়ে গেলে। সেই সময় জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩১ বলে ৫৫ রান।

default-image

স্টোকসের সঙ্গে জুটি গড়েন অধিনায়ক এউইন মরগান। কিন্তু ১৭তম ওভারে ফিরে যান স্টোকস। ২৩ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে ৪৬ রান করেছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। তিনি আউট হওয়ার সময় জয়ের জন্য ২৩ বলে ৪৬ রান প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। ম্যাচটি তখন ঝুঁকে যায় ভারতের দিকে। কিন্তু জফরা আর্চার ও ক্রিস জর্ডান আশার বিপরীতে আশা দেখিয়ে ম্যাচটি নিয়ে যান শেষ ওভারে। ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৩ রান। আর্চার–জর্ডান এটা করতে পারবেন বলে খুব বেশি মানুষ হয়তো আশা করেনি।

তবে জর্ডান প্রথম বলে ১ রান করার পরের দুই বলে একটি চার ও একটি ছয় মেরে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন আর্চার। এরপর শার্দুল ঠাকুর টানা দুটি ওয়াইড বল করেন। এর ফলে শেষ তিন বলে ইংল্যান্ডকে জিততে হলে করতে হতো ১০ রান। সেটাকে তখন সহজসাধ্যই মনে হচ্ছিল। কিন্তু পরের বলে শার্দুলের একটা শর্ট বল থেকে মাত্র এক রানই নিতে পারেন আর্চার। কে জানে বলটি মারতে গিয়ে তাঁর ব্যাটের কানা ভেঙে না গেলে সেটি চার হতো কি না! পরের বলে অবশ্য জর্ডানকে তুলে নেন শার্দুল। সেই সঙ্গে সব আশা শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। ওভারের শেষ বলে কোনো রানই দেননি শার্দুল। ম্যাচটি ৮ রানে হেরে যায় ইংল্যান্ড! ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন শার্দুল। এর জন্য খরচ করেছেন ৪২ রান।

বিজ্ঞাপন
default-image

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে করেছে ১৮৫ রান। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে খেলতে নামা ভারত ২১ রানে হারায় রোহিত শর্মাকে। রান পাননি ওপেনার লোকেশ রাহুল ও অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। রাহুল ১৭ বলে ১৪ রান করে আউট হয়ে ফিরেছেন। আর কোহলি লেগ স্পিনার আদিল রশিদের গুললিতে লাইন মিস করে হন স্টাম্পড। এরপরও যে ভারত বড় রানের দিকে এগিয়ে গেল, সেটি ঈশান কিষানের চোটের কারণে একাদশে সুযোগ পাওয়া সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটের কল্যাণে। ৩১ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৫৭ রান করেছেন তিনি।

দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখতে ছোট, তবে ঝোড়ো দুটি ইনিংস খেলেছেন শ্রেয়াস আইয়ার ও ঋষভ পন্ত। আইয়ার ১৮ বলে করেছেন ৩৭ রান। ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৫টি চার ও ১টি ছয়। চারটি চারে পন্ত ২৩ বলে করেন ৩০ রান। এ ছাড়া শার্দুল ঠাকুর শেষ দিকে ৪ বলে খেলেছেন অপরাজিত ১০ রানের ইনিংস। ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন জফরা আর্চার, রান দিয়েছেন ৩৩।

default-image
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন