default-image

অধিনায়ক হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। এরই অন্যতম কীভাবে টস জিততে হয়। মুদ্রা নিক্ষেপ ব্যাপারটা পুরোপুরি ভাগ্যের হাতে হলেও ধোনি কী করে যেন সেই ভাগ্যটাকেও বেশ বশ মানিয়ে রেখেছেন। ধোনির টস-ভাগ্য আজও কাজে দিল বলেই প্রথমে ব্যাট করার সুযোগটা পেল ভারত।
ক্রিকেটে টসটা গুরুত্বপূর্ণ বলেই নয়, এবারের আসরের প্রথম দিনে দুটো ম্যাচই জিতেছে প্রথমে ব্যাট করা দল। দক্ষিণ আফ্রিকাও প্রথমে ব্যাট করে আজ বড় সংগ্রহ পেয়েছে। পরিসংখ্যানও বলছে, এর আগে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান পাঁচ দ্বৈরথে টস আর প্রথমে ব্যাট করা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল। পাঁচ ম্যাচের চারটিই জিতেছে টসে জেতা আর প্রথমে ব্যাট করা দলই! ধোনির টস জেতাটাও আজ মনস্তাত্ত্বিক খেল হয়ে উঠতে পারে বৈকি!
সেই মনস্তাত্ত্বিক চাপের কাজটা ভারত আজ আরও ভালোমতো সেরে রাখল পাকিস্তানের কাঁধে ৩০১ রানের লক্ষ্য চাপিয়ে দিয়ে। বিশ্বকাপে এত রান তাড়া করে কখনোই জেতেনি পাকিস্তান। ১৯৯২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজি​ল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৩ রান তাড়া করাই তাদের এখন পর্যন্ত রেকর্ড। শুধু তাই নয়, সব দল মিলিয়েও বিশ্বকাপে ৩০০-র বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে মাত্র পাঁচটি। প্রতিপক্ষ ভারত বলে কাজটা পাকিস্তানের জন্য আরও কঠিন।
বিরাট কোহলির ১০৭, সুরেশ রায়নার ৭৪ আর শিখর ধাওয়ানের ৭৩ রানে ভারত কাঁটায় কাঁটায় ৭ উইকেটে ৩০০ রান তুলেছে। বিশ্বকাপে এই প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন ভারতের কেউ। কোহলিই মূল কারিগর। ৩৪ রানে ভারত প্রথম উইকেট হারানোর পর কোহলি প্রথমে ধাওয়ানের সঙ্গে ১২৯, এরপর রায়নার সঙ্গে গড়েন ১১০ রানের জুটি। এর আগে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সেঞ্চুরি জুটিই ছিল মাত্র দুটি। আজ এক ম্যাচেই হলো দুটি। শুধু তাই নয়, এই দুটো জুটি রানের দিক দিয়ে পেছনে ফেলেছে টেন্ডুলকার-কাইফ (১০২) আর টেন্ডুলকার-শেবাগ (১০১) জুটি দুটোকে।
ভারতের স্কোর আরও বড় হতে পারত। শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলাররা দুর্দান্ত বোলিং করেছে। দুই ওভার মিলিয়ে টানা তিন বলে তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছে পাকিস্তান। সবচেয়ে দুর্দান্ত ছিলেন সোহেল খান। ৫৫ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। শেষ দিকে বোলারদের এই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানো পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়েও কতটা উজ্জীবিত করে সেটাই দেখার।

ভারতকে প্রথমে ম্্যাচে ফিরিয়েছেন যে দুজন, সেই কোহলি-ধাওয়ানের ফর্ম নিয়ে কম কথা হয়নি। ধাওয়ান গত ত্রিদেশীয় সিরিজে চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৪৯ রান। ‘নতুন টেন্ডুলকার’ কোহলির অবস্থা ছিল আরও খারাপ। একবারও দুই অঙ্কের ইনিংস খেলতে না পারা কোহলি চার ইনিংসে করেছেন মোটে ২৪! ঠিক সময়েই জ্বলে উঠলেন দুজন। এর চেয়ে ভালো সময়ে ফর্মে ফেরা হতো না। কোহলি বিশ্বকাপে তাঁর দ্বিতীয় আর সব মিলে ওয়ানডে ২২ নম্বর সেঞ্চুরি পেলেন।
সবকিছুই এখন ভারতের পক্ষে চলছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কখনো জিততে না পারার চাপের বৃত্তটা পাকিস্তান ভাঙতে পারে কি না, সেটাই দেখার। প্রথমে ব্যাট করতে পারাটা ভারতকে সাহায্য করতে পারে অবশ্যই। এমন স্নায়ুচাপের ম্যাচে রান তাড়া করা সব সময়ই কঠিন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন