default-image

আগের দিনের ৪২২ রানের লিড, কাল সকালে নেমেই ঘণ্টা খানেকের মধ্যে চেতেশ্বর পূজারা ও মুরালি বিজয়ের উইকেট। মেলবোর্নে তৃতীয় দিনটা শুরু হয়েছিল একেবারে স্টিভেন স্মিথের মনের মতো। তখন কে জানত, বিরাট কোহলি আর অজিঙ্কা রাহানে অন্য কিছু ভেবে রেখেছেন!
দুজনের জুটি সকালের বাকি সময়টা পার করে দুপুর গড়িয়ে মেলবোর্নে প্রায় সন্ধ্যা নামাল। স্কোরবোর্ডে জমা করল চতুর্থ উইকেটে এমসিজির রেকর্ড ২৬২ রান। জোড়া সেঞ্চুরিতে ফলোঅনের শঙ্কা কাটিয়ে ভারতও ততক্ষণে নিরাপদে। শেষের দিকে দ্রুত ৪টি উইকেট পড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তা-ই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৬৮ রানে পিছিয়ে থাকায় সিরিজে টানা তৃতীয় পরাজয়ের শঙ্কা থেকে মুক্তি পায়নি ভারত।
আগের দিন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। কাল ক্যারিয়ার-সেরা ১৬৯ রানের ইনিংস খেললেন ভারতের সহ-অধিনায়কও। সিরিজে এ পর্যন্ত স্মিথের রান ৫৬৭, কোহলির ৪৪৫। দুজনেরই তিনটি করে সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সিরিজের ফল যা-ই হোক, বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির জন্য লড়াইটাকে এরই মধ্যে ‘স্মিথ-কোহলি সিরিজ’ বানিয়ে ফেলেছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। প্রায় চার ঘণ্টা ক্রিজে কোহলির সঙ্গী রাহানেও খেলেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস (১৪৭)। ২০০৪ সালে শচীন টেন্ডুলকার-ভিভিএস লক্ষ্মণের পর এই প্রথম এশিয়ার বাইরে ভারতের কোনো জুটি ২৫০-এর বেশি রান তুলল। মেলবোর্নে চতুর্থ উইকেট জুটির আগের রেকর্ডটা ছিল ১৯৪ রানের, বছর দুয়েক আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাইকেল ক্লার্ক ও শেন ওয়াটসনের।
ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের অন্যতম নায়ক মিচেল জনসনকে কাল যেন পেয়ে বসেছিলেন কোহলি-রাহানে। জনসনের পরপর দুই ওভারে তিনটি করে চার মেরেছেন কোহলি ও রাহানে। অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডারদের সঙ্গে কোহলির বাগ্বিতণ্ডায় মাঝে মাঝেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মাঠের পরিবেশ। জনসনকেই একটু বেশি হতাশ মনে হয়েছে। স্টাম্পে বল মারতে গিয়ে একবার তো কোহলির গায়েই মেরে দিয়েছেন! দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে এটা নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন কোহলি, ‘জনসন আমার গায়ে বল মারায় খুব বিরক্ত হয়েছিলাম। ওকে বলেছিলাম, নিশানা ঠিক নেই তোমার। স্টাম্পে লাগানোর চেষ্টা করো, আমার গায়ে নয়। আমি ওর হতাশাটা বুঝতে পারছিলাম। ওর কাজ হচ্ছে বল করা, উইকেট নেওয়া। কিন্তু আজ সারা দিন সে ওভারপ্রতি চার রানের বেশি দিয়েছে।’ অস্ট্রেলিয়ানদের স্লেজিংটাই নাকি তাঁর সেরাটা বের করে এনেছে, ‘ওরা আমাকে বখাটে ছেলে বলছিল। আমি বলেছি, হয়তো আমি তা-ই। আমি জানি, তোমরা আমাকে অপছন্দ করো, আর এ ব্যাপারটাই আমার পছন্দ।’ দিনের শেষ ওভারে কোহলির উইকেটটা অবশ্য জনসনই নিয়েছেন। তবে একটি মাত্র উইকেট নিতে ২৯.২ ওভারে দিতে হয়েছে ১৩৩ রান। সর্বশেষ জনসন এত খরুচে বোলিং করেছেন চার বছর আগে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে (০/১০৪)।
কোহলি ও রাহানে দুজনই অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডারদের সাহায্য পেয়েছেন। ৭০ রানে রাহানের ফিরতি ক্যাচ ফেলেছেন নাথান লায়ন। ৮৮ রানে কোহলিকে প্রথম স্লিপে শেন ওয়াটসন। লায়নের বলে অভিষিক্ত লোকেশ রাহুলের ক্যাচ ফেলেছেন পিটার সিডল। অস্ট্রেলিয়ার এমন ব্যতিক্রমী বাজে ফিল্ডিংয়ের দিনে উজ্জ্বল হয়ে আছে দিনের শুরুতে ও শেষে ব্র্যাড হাডিনের নেওয়া পূজারা ও কোহলির দুর্দান্ত ক্যাচ দুটি। স্টার স্পোর্টস, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন