ভারতের স্পিনের সামনে দাঁড়াতে পারেনি জো রুটের ইংল্যান্ড
ভারতের স্পিনের সামনে দাঁড়াতে পারেনি জো রুটের ইংল্যান্ডছবি: বিসিসিআই

আহমেদাবাদ টেস্টের লড়াই হয়তো এখনো মাঠে দেখা যেত। আজ হতো ম্যাচের চতুর্থ দিন। কিন্তু ভয়ংকর স্পিন ‘মাইনফিল্ড’-এ টেস্টের নিষ্পত্তি হয়েছে দুই দিনের মধ্যে।

এরপরই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম উইকেটের মুণ্ডুপাত করছেন অনেকে। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন সরাসরি উইকেটের দিকে আঙুল তোলেননি। বরং এমন উইকেটেও কীভাবে ভালো ইনিংস খেলা যায়, সেই পথের দিশা দিয়েছেন ভারতের সাবেক এ অধিনায়ক। আর এই পথের দিশা দিতে গিয়ে ব্যাটসম্যানদের একটি কৌশলের দিকে আঙুল তুলেছেন আজহারউদ্দিন।

আজহারউদ্দিন এখন হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তবে সাবেক এ ব্যাটসম্যানকে ক্রিকেট মনে রেখেছে তাঁর চোখজুড়ানো কবজির মোচড়ে ব্যাটিংয়ের জন্য।

পায়ের কারুকাজে স্পিন অনায়াসে খেলতেন ৯৯ টেস্ট ও ৩৩৪ ওয়ানডে খেলা সাবেক এ ব্যাটসম্যান। ১৯৮৫ থেকে ২০০০—এ সময়ের মধ্যে আজহারউদ্দিনকেও নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের মতো উইকেটে খেলতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু প্রায় বেশির ভাগ সময়েই তাঁকে অতটা ভুগতে হয়নি, যতটা ভুগতে দেখা গেছে আহমেদাবাদে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টের ব্যাটসম্যানদের।

স্পিন খেলায় সিদ্ধহস্ত এই সাবেক এমন ‘র‌্যাঙ্ক টার্নার’ উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হবে, সেই পরামর্শ দিতে গিয়ে আঙুল তুলেছেন ব্যাটসম্যানদের কেডসের প্রতি।

আহমেদাবাদ টেস্ট নিয়ে কয়েকটি টুইট করেছেন ৫৮ বছর বয়সী আজহারউদ্দিন। ব্যাটসম্যানরা সাধারণত ব্যাটিংয়ের সময় স্পাইকের (কাঁটা) কেডস পরে মাঠে নামেন।

কেডসের তলায় এই কাঁটা উইকেটে পায়ের অবস্থানকে সুদৃঢ় রাখে এবং পা পিছলে যায় না বলেই প্রচলিত ধারণা। তবে কিছু ক্ষেত্রে অসুবিধাও হয়।

default-image

ধরুন, ব্যাটসম্যান সামনের পায়ে খেলতে পা-টা এগিয়ে নেওয়ায় বুঝলেন খানিকটা পেছানো দরকার—তখন উইকেটে গেড়ে বসা স্পাইক খুব দ্রুত পা তুলে আনার ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি করে। আর শরীরের ভরও চলে যায় সামনে, যেখান থেকে পেছনের পায়ে ফেরা বেশ কঠিন।

এদিকে স্পিন বল খেলার সিদ্ধ নিয়মে পায়ের দ্রুত নড়াচড়া ও সঠিক শট বাছাই খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্পাইক ব্যবহারের অসুবিধা হলো, পায়ের নড়াচড়া ঠিকমতো না হলে নির্ভুল ও নিরাপদ শট বাছাইও চ্যালেঞ্জ।

টুইটে আজহারউদ্দিন ঠিক এ কথাই বলেছেন, ‘আহমেদাবাদ টেস্টে ব্যাটসম্যানদের নিদারুণ ব্যর্থতা দেখে খারাপ লেগেছে। এ ধরনের শুকনা ও বড় বাঁক নেওয়া উইকেটে পায়ের কাজ ও শট বাছাই করাই ব্যাটিংয়ের চাবিকাঠি। আর এ ক্ষেত্রে স্পাইক পরে ব্যাটিং করা তেমন কাজে আসে না। (কেডসে) রাবারের তলা কিন্তু ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না।’

ব্যাটসম্যানরা সাধারণত দুধরনের স্পাইকওয়ালা কেডস ব্যবহার করেন। একটি ধাতবের, যা অনেক আগে থেকে প্রচলিত। রাবারে স্পাইকওয়ালা কেডস এসেছে বেশ পরে। এই স্পাইক উইকেটকে ক্ষতবিক্ষত করে না এবং ফুটওয়ার্কেও (পায়ের কাজ) ধাতব স্পাইকের সমান সুবিধা দেয়।

উপরন্তু, নমনীয় পায়ের কাজে ফুটওয়ার্ক সামনে-পেছনে করায় ধাতবের স্পাইকের চেয়ে রাবার স্পাইকে সুবিধা বেশি। কারণ, ধাতবের স্পাইক উইকেটে গেড়ে বসে, যা রাবারের স্পাইকের ক্ষেত্রে হয় না। এ ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, আহমেদাবাদ টেস্টের ২২ গজ এমনিতেই ছিল স্পিনবান্ধব, ব্যাটসম্যানরা সেখানে ধাতবের স্পাইক ব্যবহার করে উইকেটে আরও ক্ষত সৃষ্টি করায় খেলতে আরও অসুবিধা হয়েছে।

টেস্টে ২২ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া আজহারউদ্দিন এ নিয়ে আরও দুটি টুইট করেন। একটিতে তিনি লিখেছেন, ‘টেস্টে কঠিন উইকেটে আমি রাবারের সোল (তলা) পরা কিছু ব্যাটসম্যানদের অসাধারণ ইনিংস দেখেছি। হ্যাঁ, তর্ক হতে পারে যে (রাবারের তলাওয়ালা কেডস) দৌড়ানোর সময় ব্যাটসম্যানের পা পিছলে যেতে পারে। কিন্তু উইম্বলডন কিংবা টেনিসের সব খেলোয়াড়েরা কিন্তু রাবারের তলার কেডস পরেই খেলে থাকেন।’

বিজ্ঞাপন

আজহারউদ্দিনের এ যুক্তি অকাট্য। কেননা, হার্ড কোর্টের টেনিসে যেখানে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি, সেখানে শুধু রাবারের তলার জন্য খেলোয়াড়েরা পা স্লাইড করেও খেলতে পারেন। নোভাক জোকোভিচ তো এ কৌশল হরহামেশাই ব্যবহার করেন।

কিংবা ঘাসের কোর্ট উইম্বলডনেও এই ঝুঁকি থাকে। কিন্তু রাবারের তলায় ফোঁটা ফোঁটা স্পাইক পদার্থবিজ্ঞানের নীতি মেনে তা হতে দেয় না। বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে মোটরসাইকেলের চাকায় রাবারের টায়ারকে কল্পনায় আনা যায়। টায়ারের খাঁজকাটা বৈশিষ্ট্যের জন্য বৃষ্টির মাঝে পাকা রাস্তায়ও ব্রেক কষে গাড়ি থামানো যায় এতটুকু না পিছলে।

সে যা–ই হোক, রাবারের কেডস পরে ভারতের মাটিতে দুর্দান্ত সব ইনিংস খেলা কিছু ব্যাটসম্যানের নামও টুইটে বলেছেন আজহারউদ্দিন, ‘এ ক্ষেত্রে শুধু সুনীল গাভাস্কার, মহিন্দর অমরনাথ কিংবা দিলীপ ভেংসরকারের কথাই মনে পড়ছে না, স্যার ভিভ রিচার্ডস, মাইক গ্যাটিং, অ্যালান বোর্ডার, ক্লাইভ লয়েডদের মতো আরও কিছু সফরকারী ব্যাটসম্যান দারুণ কিছু ইনিংস খেলেছেন।’

আহমেদাবাদে দুই দলের চার ইনিংস মিলিয়ে ফিফটি ছিল মাত্র দুটি। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে জ্যাক ক্রলি ও ভারতের প্রথম ইনিংসে রোহিত শর্মা ফিফটি তুলে নেন। এ টেস্টে বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানই ধাতব স্পাইকের কেডস পরে খেলেছেন এবং স্পিনে মারাত্মক ভুগেছেন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন