বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত কয়েক মাস ধরে ক্রিকেটবিশ্ব দখল করে রেখেছে এসব আলোচনা। কোহলি নিজেও এই প্রসঙ্গে কথা বলে আলোচনা বাড়িয়েছেন। কোহলির কথার জবাব দিতে গিয়ে বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীও আলোচনার খোরাক জুগিয়েছেন ক্রিকেটমোদীদের। এবার সে আলোচনায় অংশ নিলেন প্রধান নির্বাচক চেতন শর্মা।

গতকাল আয়োজিত এক ভিডিও কনফারেন্সে বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব হারানোর প্রেক্ষাপট ও ওই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করা সাবেক এই পেসার।

default-image

চেতনের মতে, কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি বিশ্বকাপের আগে ওভাবে কোহলি অধিনায়কত্ব ছাড়বেন, ‘সভা যখন শুরু হলো, ওর ঘোষণা শুনে সবাই চমকে গিয়েছিল। কারণ সামনেই বিশ্বকাপ, এই সময় এমন খবর শুনলে স্বাভাবিক মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে? সভায় উপস্থিত সবাই ওকে সিদ্ধান্তটা নিয়ে আরেকবার ভাবতে বলেছিল। ওকে বলা হয়েছিল, আমরা এ ব্যাপারে বিশ্বকাপের পর কথা বলতে পারি। সব নির্বাচক ভেবেছিল বিরাটের সিদ্ধান্ত গোটা দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরাটকে বলা হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য হলেও সে যেন অধিনায়ক থাকে। ওই সভায় সব নির্বাচক, সকল আহ্বায়ক উপস্থিত ছিলেন। সবাই একই কথা বলেছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে কে ভিন্ন কথা বলবে?’

কিন্তু এত কিছুর পরও কোহলির সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি কেউ, ‘কিন্তু সে ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল। ওর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর দরকার ছিল। সবার উদ্দেশ্যই এক, ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতি। আমরা কোনো ধরনের বিতর্ক চাই না।’

চেতন শর্মা এরপর বলেন, ‘ঠিক এ কারণেই আমরা এটা নিয়ে বেশি কথা বাড়াইনি। আমাদের কাজ হলো দেশের জন্য সবচেয়ে যোগ্য খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা। এসব নিয়ে বিতর্ক যখন হয়, ক্রিকেটার হিসেবে আমাদেরই খারাপ লাগে। বিরাট যদি টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব নিয়ে ওর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনাকে তখন জানাতো, তখন কী আপনি ওকে বলতে পারতেন যে আমরা শুধু একজন বা দুজন অধিনায়ক চাই? বিশ্বকাপ তখন সামনে। আমাদের মাথায় একটা চিন্তাই ঘুরছিল। কোনোভাবেই যেন দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। তখন আমাদের পরিস্থিতি শান্ত করার চিন্তা করতে হয়েছে। আমরা তখন দ্বৈত অধিনায়কত্বের ব্যাপারে চিন্তা করার সময় ছিল না।’

অধিনায়কত্ব নিয়ে কোহলি আর নতুন অধিনায়ক রোহিত শর্মার মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে চেতন বলেছেন, ‘দুজনের মধ্যে সবকিছু ঠিক আছে। এ জন্যই আমি সব সময় বলি শোনা কথায় কান দিতে নেই। আমরা নির্বাচক হলেও সবার আগে ক্রিকেটার। ওদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। কখনো কখনো পত্রিকার খবর পড়ে হাসিই আসে। আমি বলছি আপনাদের, দুজনের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। তাঁদের দুজনকে নিয়েই ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা আছে। আপনারা আমার জায়গায় থাকলে ওদের একসঙ্গে দল হিসেবে কাজ করতে দেখলে অনেক আনন্দ পেতেন। ওদের নিয়ে মানুষ উল্টোপাল্টা কথা বলে, ব্যাপারটা কষ্টের। তাই, অনুগ্রহ করে সকল বিতর্ক ২০২১ সালেই ফেলে আসুন। আসুন কীভাবে একটা ভালো দল গঠন করা যায় সেটা নিয়ে কথা বলা যাক”

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন