ক্যাচে ম্যাচের জয়-পরাজয় উদাহরণসহ দেখিয়ে দিলেন স্মিথ

অবিশ্বাস্য সেই ক্যাচের পর স্মিথকে ঘিরে দলের উল্লাস। এএফপি
অবিশ্বাস্য সেই ক্যাচের পর স্মিথকে ঘিরে দলের উল্লাস। এএফপি

মিচেল মার্শের বলটি খুব বাজে ছিল। বিজে ওয়াটলিং কাটটা করেছিলেনও বেশ জোরের ওপর। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো স্টিভ স্মিথের কাঁধে যেন পাখা গজাল, প্রায় উড়ে গিয়ে বাঁ হাতে লুফে নিলেন ক্যাচ। হতভম্ব ওয়াটলিং ফিরলেন ড্রেসিংরুমে। ম্যাচটার গল্প আসলে তখনই লেখা হয়ে গেল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৬৮ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। 

একদিকে স্মিথ অমন দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন, আর সেই স্মিথেরই ক্যাচ ফেলেছেন সেই ওয়াটলিংই। স্মিথের রান তখন মাত্র ১৩, অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ১ উইকেটে ২৪। ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচটা ফেলে দিলেন কিউই কিপার। সেই স্মিথ যখন ওই বোল্টের বলে আউট হলেন ততক্ষণে আরও দেড় শ রান করে ফেলেছেন, দলকেও দিয়ে গেছেন ৩০০ ছাড়ানো স্কোর।
ক্যাচ শুধু স্মিথেরটাই ফেলেনি নিউজিল্যান্ড। তাদের হাত ফসকে বেঁচে গেছেন ট্রাভিস হেডও। স্মিথ-হেডের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১২৭ রান পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অথচ ৭ রানেই আউট হতে পারতেন হেড। ১১৫ রানেই পঞ্চম উইকেট হারাতে পারত অস্ট্রেলিয়া। এবার দোষী ফিল্ডারের নাম ম্যাট হেনরি। দুর্ভাগা বোলার এবার জিমি নিশাম। হেড পরে আউট হলেন ৫২ রানে।
কিউই ফিল্ডাররা এমন উদারহস্ত হওয়াতেই শেষ ১০ ওভারে ১১৩ রান তুলল অস্ট্রেলিয়া। প্রায় পুরো কৃতিত্ব অধিনায়ক স্মিথের। ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় ১৫৭ বলের ১৬৪ রানেই অস্ট্রেলিয়া পায় ৩২৪ রানের স্কোর।
তাড়া করতে নেমে এক মার্টিন গাপটিল ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই ভয় দেখাতে পারেননি স্বাগতিকদের। অধিকাংশ ব্যাটসম্যানই উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছেন। গাপটিলের ১০২ বলের ১১৪ রানের স্কোরটা তাই বিফলেই গেছে। ৩৪ বল বাকি থাকতেই অলআউট আগে ২৫৬ রান করতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড।
স্মিথ বুঝিয়ে দিলেন, ক্যাচ ধরা বা ফেলাই কীভাবে গড়ে দেয় ম্যাচের ফল। আর​ সেটা সবচেয়ে ভালো বুঝলেন ওয়াটলিং!