২০২১ সালের আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও পিএসএলে খেলেছিলেন স্টেইন। সে সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘না, আমি অবসর নিইনি।’ পিএসলেই শেষ স্বীকৃত ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি, ক্যারিয়ারের শেষও হয়ে থাকল মুলতানের বিপক্ষে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলা ম্যাচটাই। শেষ হয়ে গেল দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ার।

রক ব্যান্ড কাউন্টিং ক্রোস-এর এ লং ডিসেম্বর গানের লাইন উদ্ধ্বৃত করে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন স্টেইন। লিখেছেন, ‘অনুশীলন, ম্যাচ, ভ্রমণ, জয়, পরাজয়, পায়ে টেপ পেঁচানো, জেট ল্যাগ, আনন্দ, ভাতৃত্বের ২০ বছর। অনেক অনেক স্মৃতি। ধন্যবাদ দেওয়ার মতো অনেক বেশি মানুষ। আমি তাই আমার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ কাউন্টিং ক্রোসের ওপরে সব বলার ভার তুলে দিলাম।’

default-image

এরপর লিখেছেন, ‘সবচেয়ে ভালোবাসি যে খেলাটা, সেটা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ অবসর নিলাম। অম্লমধুর অভিজ্ঞতা, তবে কৃতজ্ঞ আমি।’ পরিবার, সমর্থক, সাংবাদিক, সতীর্থ টুইটারে—সবাইকে অসাধারণ এ ভ্রমণে সঙ্গী হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল স্টেইনের। এ সংস্করণে ৯৩ ম্যাচে ৪৯৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শন পোলকের পর দ্বিতীয় দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার হিসেবে টেস্টে ৪০০ উইকেট পেয়েছিলেন স্টেইন, পরে পোলককে টপকেও গেছেন। টেস্ট ইতিহাসে কমপক্ষে ৩০০ উইকেট নেওয়া বোলারের মাঝে সবচেয়ে ভালো স্ট্রাইক রেটও স্টেইনেরই (৪২.৩)।

default-image

গতির কারণে স্টেইনকে ডাকা হতো ‘স্টেইন-গান’ নামে। ফাস্ট বোলিংয়ের একটা প্রজন্মের অন্যতম আকর্ষণের নাম ছিলেন তিনি। শুধু কার্যকরী নয়, ছিলেন সময়ের অন্যতম সেরা—যদি সর্বকালের সেরা না–ও হয়ে থাকেন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বোলারদের শীর্ষস্থানে উঠেছিলেন। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে প্রায় সাত বছর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার ছিলেন তিনি।

তবে আরও সব ফাস্ট বোলারের মতোই চোট ভুগিয়েছে স্টেইনকে। ২০১৬ সালে কাঁধের চোট তো ছিল প্রায় ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার মতোই। এরপর এক বছরেরও বেশি সময় টেস্ট খেলেননি তিনি।

ক্যারিয়ারে ১২৫টি ওয়ানডে খেলেছেন স্টেইন। এর মাঝে ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ইডেন পার্কে তাঁর বলে ছয় মেরেই নিউজিল্যান্ডের প্রথম ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলেন গ্রান্ট এলিয়ট। সে ছয়ের পর স্টেইনকে সান্ত্বনা দেওয়া এলিয়টের ছবিটা হয়ে আছে ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা হয়ে। ওয়ানডেতে স্টেইনের উইকেট–সংখ্যা ১৯৬টি। পাশাপাশি ৪৭ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৬৪ উইকেট। প্রায় সবখানেই ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগ ও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগেও নিয়মিত নাম ছিলেন স্টেইন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন