default-image

ডারবান শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে গাড়িতে মিনিট বিশেক লাগে চ্যাটসওয়ার্থ ক্রিকেট ওভালে পৌঁছাতে। পাহাড় কেটে বানানো ক্লাব মাঠটিতে কোনো কিছুরই বাড়াবাড়ি নেই। একটি আদর্শ ক্রিকেট মাঠের জন্য একেবারেই যা না হলে নয়, তা দিয়েই সাজানো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বাদই দিন, প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্যের কতটুকু কোথায় বরাদ্দ করবে, সেটি তো একান্তই তার বিচার। তবু মখমলের মতো সবুজ গালিচা, ভালো উইকেট আর পানিনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা চ্যাটসওয়ার্থ ক্রিকেট ওভালকে অন্য সব মাঠ থেকে আলাদা করবেই।

কাল সকালে মাঠে ঢুকতেই দেখা গেল গেটে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। অনুশীলন শুরুর আগে মাঠে জাতীয় পতাকা হাতে ক্রিকেটাররা গাইলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...।’ স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই টেস্টের অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। তবে বৃষ্টির কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো দিন অনুশীলন করা যায়নি। সমুদ্রপারের শহরে বৃষ্টির হুটহাট আসা–যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ডারবান তো কাল প্রায় সারা দিনই বৃষ্টিতে জবুথবু হয়ে থাকল। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু পোর্ট এলিজাবেথও যেহেতু সমুদ্রপারেরই শহর, টেস্টে সিরিজে বৃষ্টির উৎপাত একটা ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে বৈকি।

চ্যাটসওয়ার্থ ক্রিকেট ওভালে গতকাল আর আজকের অনুশীলনটা মূলত ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের দেখে নেওয়া। মাঝ উইকেটের অনুশীলনে ম্যাচের মতো সাজানো ফিল্ডিংয়ের মধ্যে ব্যাটসম্যানরা জুটি বেঁধে ব্যাট করেছেন। যাঁদের ব্যাটিং হয়ে গেছে বা কাল যাঁদের ব্যাট করতে হয়নি, তাঁরা গিয়ে অনুশীলন করেছেন পাশের নেটে। বৃষ্টি না থাকলে আজকের অনুশীলনটাও হওয়ার কথা সে রকমই।

ডারবানে এসে এখনো প্রথম টেস্টের ভেন্যু কিংসমিডের উইকেট দেখেননি ক্রিকেটাররা। ম্যাচের এত আগে উইকেট দেখে লাভও নেই আসলে। তারপরও পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড একবার কিংসমিড ঘুরে এসে দলকে জানিয়েছেন, উইকেটটা নাকি তিনি একটু সবুজাভই দেখেছেন।

একসময় শন পোলককে সঙ্গী করে ডারবানের উইকেটেও ব্যাটসম্যানদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়েছেন ডোনাল্ড। গত কয়েক বছরে সেই উইকেট স্পিনারদের হয়ে কথা বললেও এবারের উইকেট দেখে ডোনাল্ডের ধারণা, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা কিংসমিডে গতি আর বাউন্সের ঝড়ই তুলতে চাইছে। অন্তত বাংলাদেশের বিপক্ষে এই উইকেটে স্পিনের ঘূর্ণি রাখাটা হয়তো তাদের কাছে আত্মঘাতী বলেই মনে হচ্ছে।

default-image

বাংলাদেশ দল অবশ্য তাতে খুব একটা চিন্তিত নয়। কাল টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের কথাতেই সেটি পরিষ্কার, ‘আমাদের বিপক্ষে ওরা বাউন্স আর পেস সহায়ক উইকেট দিতে পারে। আমরা এটা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। যেটা আমাদের জন্য সমস্যা, সেটা ওদের জন্যও সমস্যা। কারণ, আমাদেরও এখন ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারা বোলার আছে।’

খালেদ মাহমুদের মধ্য এমন বিশ্বাসের জোগানটা আসছে পেসারদের সাম্প্রতিক সাফল্য থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে পেসারদের অবদানের কথা না বললেই নয়। এর আগে বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডেও বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতেছে পেসারদের হাত ধরে। এবার হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকায়ও পেসনির্ভর বোলিং আক্রমণই দেখা যাবে। সাকিব আল হাসান যেহেতু নেই, একজন ব্যাটসম্যান বাড়িয়ে তিন পেসারের সঙ্গে থাকবেন একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার; খসড়া পরিকল্পনা থেকে ডারবান টেস্টের বোলিং আক্রমণের এমন ছবিটাই ফুটে উঠছে।

পেসারদের মধ্যে ইবাদত হোসেনের কাছে বাড়তি প্রত্যাশা থাকবে। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের জয়ের নায়কও যেন সেই প্রত্যাশা মেটাতে প্রস্তুত, ‘ফাস্ট বোলাররা সবাই চেষ্টা করছি কীভাবে নিজেদের বোলিংটা আরও ভালো করতে পারি। আমরা এখন দেশের বাইরে ভালো করছি। আমাদের প্রতি সবার যে আস্থা, সেটা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

বাংলাদেশ দলের জন্য সুখবর, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে পাওয়া মুশফিকুর রহিমের কাঁধের চোট এখন আর কোনো সমস্যা নয়। পুরোনো চোট থাকায় এমনিতেই কাঁধে টেপ বেঁধে খেলেন মুশফিক। কালও সেভাবেই মাঝ উইকেটে ব্যাটিংয়ের পর বৃষ্টি আসার আগপর্যন্ত নেটেও চালিয়েছেন ব্যাটিং অনুশীলন।

সর্বশেষ ‘টাইমলেস টেস্ট’ কিংসমিডকে অনেক যুগ আগেই ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে দিয়েছে। চ্যাটসওয়ার্থের ক্রিকেট–স্বর্গে যেন সেই ইতিহাসের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লেখারই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দল।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন