default-image

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পর থেকেই আলোচনায় আছেন ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার পর বাংলাদেশ দলকে একদম ধুয়ে দিয়েছিলেন সভাপতি। ক্রিকেটারদের মানসিকতা, দক্ষতা ও একাগ্রতা নিয়ে কড়া সব কথা বলেছিলেন। পরে অবশ্য সুর নরম করেছিলেন। বলেছিলেন, রাগের মাথায় বলে ফেলছেন ওসব। তবে ক্রিকেটারদের আউটের ধরন নিয়ে সমালোচনা করতে সেদিনও আপত্তি দেখাননি।

কদিন পরই আবার নতুন করে মুখ খুলতে হলো নাজমুল হাসানকে। বোর্ড সভাপতির এবারের প্রসঙ্গ অবশ্য অন্য কিছু। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি সিরিজ থেকে ছুটি চেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ সময় আইপিএল খেলতে চাইছেন এই অলরাউন্ডার। বোর্ড থেকে তাঁকে ছুটিও দেওয়া হয়েছে। সে সঙ্গে বলা হয়েছে আইপিএলে নাম লেখানো আরেক ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানও যদি ছুটি চান, তাঁকেও ছুটি দেওয়া হবে।

আজ বোর্ডে ক্রিকেটারদের চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন কর্মকর্তারা। ক্রিকেটারদের নতুন চুক্তি ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ প্রসঙ্গটা সেখানে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে। আলোচনা শেষে সভাপতি বলেছেন, ভবিষ্যতে যিনিই জাতীয় দলের বাইরে অন্য কোথাও খেলতে চাইবেন, তাঁকে খেলতে দেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের কাছে বোর্ড জিম্মি হয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি।

বিজ্ঞাপন
default-image

মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। এ সময় সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য ছুটিতে থাকবেন সাকিব। এটা আগেই জানা ছিল। তবে আইপিএলের কারণে নিউজিল্যান্ডের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি সিরিজও খেলতে চান না সাকিব, সেটা গত সপ্তাহের নতুন খবর। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়াই সিরিজ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এ ব্যাপারে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বলেছিলেন, জোর করে কাউকে খেলাতে চান না তাঁরা। আজ বোর্ড সভাপতির কণ্ঠেও সে সুর।

নাজমুল হাসানের সোজা কথা, জাতীয় দলের দায়িত্ব ফেলে অন্য কোনো লিগের হয়ে যিনিই খেলতে চান না কেন, তাঁকে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। এভাবে খেলোয়াড়দের দাবি মেনে ছুটি দিতে বাধ্য হওয়ার মানে ক্রিকেটারদের কাছে বোর্ড জিম্মি কি না এমন প্রশ্নের মুখে বলেছেন, ‘এটা একেবারে অস্বীকার করার পথ নেই। এটা যে এর আগেও হয়নি, তা না। একটা ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত, কাউকে জোর করে কোথাও পাঠাব না। যে খেলতে চায় না, সে খেলবে না। আমরা চাই সকলে খেলুক, কিন্তু কারও যদি জাতীয় দলের চেয়ে অন্য কোথাও খেলতে ভালো লাগে, তারা কোনো বাধা ছাড়াই যেতে পারে। এই বার্তাটা সবার জন্য। শুধু সাকিবের জন্য না।’

সিরিজের কিছুদিন আগে খেলোয়াড়রা ছুটি চাইলে কিছু সমস্যার জন্ম দেয়। কোচদের নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয়। দল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়। এমনিতেই বিভিন্ন সংস্করণে দল সাজানো নিয়ে ঝামেলা থাকে। এর মাঝে আচমকা নতুন করে দল সাজানোর এ সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে বিসিবি। আর এ জন্য চুক্তির খুঁটিনাটিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে তারা। ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদের চুক্তির সময়ই জানিয়ে রাখতে হবে তারা জাতীয় দলে খেলবেন নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলবেন।

default-image

নাজমুল হাসান বললেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যাব এখন। এ বছর আমরা কোনো চুক্তি করিনি। আমাদের যে চুক্তি শেষ হয়েছে আমরা এখনো তা নবায়ন করিনি। এই চুক্তিতে এখন নতুন কিছু জিনিস যোগ হবে। কে কোন ফরম্যাট খেলতে চায়, তাদের বলতে হবে। তাদের অন্য কোনো জায়গায় (ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ) কিছু থাকলে জাতীয় দলে খেলবে নাকি ওইখানে খেলবে, এটাও জানাতে হবে।’

বোর্ড সভাপতির দাবি, সে ক্ষেত্রে প্রতি টুর্নামেন্টের জন্য অনাপত্তিপত্র দেওয়ার ঝামেলাটা আর থাকবে না। ক্রিকেটারদেরও ছুটি চাইতে হবে না। তবে স্বাক্ষরিত চুক্তির মধ্যে কোথাও সুযোগ পেলে আবার চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আবেদন করাও যাবে না। বিসিবি সভাপতির ব্যাখ্যা, ‘এই চুক্তিতে যারা স্বাক্ষর করবে তাদের আমরা যেতে দেব না। এখন ব্যাপারটা খোলামেলা। আগে ছিল সেটা ব্যক্তিগত, এখন এটা আমরা কাগজে কলমে লিখিতভাবে নিয়ে নিচ্ছি। এখানে কারও বলার কিছু থাকবে না। “দিল না” বা “জোর করে নিচ্ছি”—এটা বলার কিছু থাকবে না। যে খেলবে না, সে খেলবে না।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন