স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ সৌরভের বিরুদ্ধে!
স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ সৌরভের বিরুদ্ধে!ফাইল ছবি

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি হয়েই যেন বিপদে পড়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। বিভিন্ন পণ্যের দূত হওয়া তো দূরের কথা, কোনো তরুণ ক্রিকেটারকে মামুলি ক্রিকেটীয় কোনো পরামর্শ দিলেই সেটাকে ধরা হচ্ছে স্বার্থ সংঘাত হিসেবে! ব্যাপারটা নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত ভারতের সাবেক এ অধিনায়ক।

সম্প্রতি দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েই বিতর্কটা দানা বেঁধেছে। আইপিএল শুরুর আগে সাক্ষাৎকারটিতে বলেছিলেন রিকি পন্টিং ও সৌরভ তাঁর পারফরম্যান্সের উন্নতিতে বড় অবদান রেখেছেন। এত বড় ক্রিকেট তারকাকে সামনে পেলে যেকোনো তরুণ ক্রিকেটারই চাইবে একটু পরামর্শ নিতে, নিজের কোনো দুর্বলতা নিয়ে কথা বলে সেটি ঠিক করে নিতে। শ্রেয়াস হয়তো সেটিই করেছিলেন। কিন্তু কারও কারও মতে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হয়ে কোনো নির্দিষ্ট ক্রিকেটার বা আইপিএল-ফ্র্যাঞ্চাইজির খেলোয়াড়কে পরামর্শ দেওয়া স্বার্থ সংঘাত বা নীতিবিরুদ্ধ কাজ।

বিজ্ঞাপন

সৌরভ এটা মেনেই নিতে পারছেন না। বিসিসিআই সভাপতি রীতিমতো বিস্মিত একজন তরুণ ক্রিকেটারকে যদি তাঁর খেলা নিয়ে তিনি কোনো পরামর্শ দেন তাহলে সেটি কেন স্বার্থ সংঘাত হবে, ‘আমি যে কাউকেই পরামর্শ দিতে পারি, যেকোনো ক্রিকেটারের সঙ্গেই কথা বলতে পারি। সেটা বিরাট কোহলিই হোক বা শ্রেয়াস আইয়ারই হোক। এটা স্বার্থ সংঘাত কীভাবে হয়! আমি বিসিসিআই সভাপতি হতে পারি, কিন্তু ভুলে যাবেন না আমি দেশের হয়ে ৫০০ ম্যাচ খেলেছি। তা ছাড়া আমি গত বছর আইয়ারকে সাহায্য করেছি।’ গত বছর অক্টোবরে সৌরভ বিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

বিতর্কের মুখে আইয়ার অবশ্য একটা টুইট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘একজন তরুণ অধিনায়ক হিসেবে আমি রিকি পন্টিং আর দাদার কাছে (সৌরভ গাঙ্গুলী) দারুণ কৃতজ্ঞ। অধিনায়ক ও একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমার পথচলায় এ দুজনের বড় অবদান আছে। আমি যে মন্তব্যটা করেছিলাম, তার মাধ্যমে আমি অধিনায়ক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত উন্নতিতে অবদান রাখা এ দুজনের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।’

default-image
বিজ্ঞাপন

আইয়ারকে নিয়ে বিতর্ক যা-ই হোক, সৌরভের বিরুদ্ধে স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরেই উঠছে। বিসিসিআইয়ের প্রধান হওয়ার আগে তিনি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন। গত মৌসুমে সৌরভের অধীনেই দিল্লি আইপিএলে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফল করে। বিসিসিআই সভাপতি হওয়ার পর সে দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই তিনি ছেড়ে দেন, কিন্তু অভিযোগ তাঁর পিছু ছাড়েনি। সৌরভ নিজেও এর জন্য কিছুটা দায়ী ছিলেন। মাস কয়েক আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি সিমেন্ট ব্র্যান্ডের পণ্যদূত হিসেবে পোস্ট দেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই সিমেন্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি দিল্লি ক্যাপিটালসের অংশীদার জেএসডব্লু নামের একটি ক্রীড়া বিপণন সংস্থার মালিক। স্বাভাবিকভাবেই সৌরভের বিরুদ্ধে স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ ওঠে।

সৌরভ তখনো বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অবান্তর অযথা সমস্যা তৈরি করা। তিনি দাবি করেছিলেন ওই সিমেন্ট কোম্পানি কোনোভাবেই দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে জড়িত নয়। সৌরভ যতই অস্বীকার করুন, অভিযোগ উড়িয়ে দেন, সমালোচকেরা ওত পেতে থাকবেই।

মন্তব্য পড়ুন 0