২১ সেপ্টেম্বর ক্রিকেটকে বেশ কজন কিংবদন্তি উপহার দিয়েছে। দুজনকে এ প্রজন্মের কাছে চেনাতে একটুও কষ্ট হয় না। ক্রিস গেইল তো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান বনেই গেছেন। নিজেকে ইতিহাসের সর্বস্তরে জায়গা করে নেওয়ার জন্য ওয়ানডে ও টেস্টের অনন্য দুই মাইলফলক ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরিও করা হয়ে গেছে তাঁর।

আরেক কিংবদন্তিকেও পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না, শুধু স্মৃতিতে হালকা দোলা দিতে হয়। উইকেট সংখ্যায় কোর্টনি ওয়ালশ হয়তো তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু আগ্রাসী ফাস্ট বোলিং নিয়ে ভাবতে গেলে কার্টলি অ্যামব্রোসের নামই মাথায় আসে। দারুণ আমোদের সঙ্গে মাঠে ঘুরে বেড়ানো এক লোক ক্ষেপে উঠলে বল হাতে কেমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারেন সেটা বহুবার টের পেয়েছে ক্রিকেট। আর যাদের বিপক্ষে কিছু করলেই মহাকাব্য লেখা প্রায় নিশ্চিত সেই ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়াকেই প্রিয় শিকার বানানো ছিল তাঁর অভ্যাস।

default-image
বিজ্ঞাপন

তবু গেইল বা অ্যামব্রোস নয়, ২১ সেপ্টেম্বর দিনটার কাছে ক্রিকেট কৃতজ্ঞ থাকবে লিয়ারি কনস্টেনটাইনের কারণে। যখন খেলেছেন, তখন টি-টোয়েন্টি তো দূরের কথা ওয়ানডের কথাও কেউ ভাবেনি। মৃত্যুর আগে একটি ওয়ানডের দেখা পেয়েছিলেন অবশ্য। তবে সেটি যে আন্তর্জাতিক ওয়ানডের স্বীকৃতি পাবে একদিন, সেটা কেউ ভাবেনি। তাই কনস্টেনটাইনকে মাপতে চাইলে তাঁর খেলা একমাত্র টেস্টটির একমাত্র টেস্টের শরণাপন্ন হওয়া যায়। সে মাপকাঠিতে খুব একটা নম্বর মিলবে না তাঁর। ১৯০১ সালে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে হাতে গোনা ১৮ টেস্ট খেলা হয়েছে। দারুণ গতিতে বল করতে পারতেন, ব্যাটেও ঝড় তোলার ক্ষমতা কম ছিল না। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট তাঁর ক্ষমতার ছিটেফোঁটাও দেখেনি।

১৮ টেস্টে মোটে ৬৩৫ রান কিংবা চারটা পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস যে গল্পের কথা বলে সেটা গর্ব করার মতো কিছু নয়। সর্বোচ্চ ৯০ রানের ইনিংস আর ১৯.২৪ গড় সে সময়ের হিসেবেও বেশ পিছিয়ে আছে কিংবদন্তিদের তুলনায়। উইকেটের কলামে ৫৮ সংখ্যাটি হেলাফেলার মতো নয়, কিন্তু ৩০.১০ বোলিং গড় কিংবা মাত্র দুবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি তাঁকে গল্প ফাদার আস্থা দেয় না। কিন্তু কনস্টেনটাইনের গল্পটা যে শুধুই টেস্ট ক্রিকেটের নয়। তাঁর পরিধি ছিল আরও অনেক বিস্তৃত, যা দুর্দান্ত এক প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার বা কাউন্টিতে পাওয়া সাফল্যকে ছাড়িয়েও আরও বহু বহু দূর ছড়িয়ে গেছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

মাঠের কনস্টেনটাইন ছিলেন প্রাণশক্তিতে ভরপুর। বিদ্যুৎগতির, উদ্দীপ্ত, দর্শক টেনে আনার মতো ক্রিকেটার। তাঁর রক্তে নাচত নতুন চ্যালেঞ্জের আহ্বান। আকর্ষণীয় ঢঙের ব্যাটিং, যা ব্যাকরণ মানার চেয়ে বিনোদন দেওয়াতেই বেশি আগ্রহী ছিল। আবেগকে পাত্তা দিতেন বেশি, মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বদলে ফেলতেন শট, পরিস্থিতি কিংবা ব্যাটিং এর নিয়ম এর পরোয়া করতেন খুব কম। বোলিংয়েও রং ছড়াতে জানতেন। হাই আর্ম অ্যাকশন ছিল, যখন প্রয়োজন হতো ভয়ংকর গতি দিয়ে চমকে দিতে পারতেন আবার শেষ দিকে দারুণ এক স্লোয়ার বের করেছিলেন। আর ফিল্ডিং? এ জায়গাতে তাঁর তুলনা ছিল না। যে যুগে ক্রিকেটে ফিল্ডিং মানেই অনেকে ধরে নিতেন একটু আরাম করে ঢেকুর তোলার সুযোগ, সে যুগেই ফিল্ডিংটা করতেন জীবন দিয়ে। বলা হতো, কনস্টেনটাইন স্লিপে থাকা মানে এক সঙ্গে তিনজন দাঁড়িয়ে থাকা। সীমানায় ফিল্ডিং করা মানেও ভয়ে থাকা। দ্রুত ছুটে বল ধরেই ক্ষান্ত হতেন না, একজন পেসারের বাহুর শক্তির পূর্ণ ব্যবহার করে রান তোলাকে কঠিন করে তুলতেন।

সে যুগের অন্যদের চেয়ে ফিল্ডার কনস্টেনটাইনের পার্থক্য গড়ে ওঠার কারণ ছিল সেই ছোট থেকেই ফিল্ডিংয়ের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাবা লেবার্ন ও মামা ভিক্টর প্যাসকেলও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার ছিলেন। শুধু পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন বললে ভুল হবে। লেবার্ন তো এমন পর্যায়ের ক্রিকেটারই ছিলেন যিনি ১৯২৩ সালে ত্রিনিদাদের এক ম্যাচে ২২ বছর বয়সী লিয়ারির সঙ্গে ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন। ইতিহাসে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলতে নামার ঘটনা খুবই কম।

default-image
বিজ্ঞাপন

লেব্রান নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন কি না জানা নেই তবে ছেলের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হোক, এটা চেয়েছিলেন। তাই লেব্রান ও প্যাসকালের অধীনে পরিবারের সবাই নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। সেখানে বাদ পরতেন না নারীরা। আর সেখানেই ব্যাটিং বোলিংয়ের চেয়েও ফিল্ডিংয়ের গুরুত্বটা কিশোর বয়সেই লিয়ারির মাথায় গেঁথে দিয়েছিলেন। সে সঙ্গে আরেকটি বিষয়ও গেঁথে দিয়েছিলেন, যাই করুন না কেন, মাথা উঁচু করে চলতে।

উত্তর-পশ্চিম ত্রিনিদাদের পেতিত ভ্যালিতে জন্ম তাঁর। লিয়ারির ভাগ্য ভালো, তাঁর বাবা বেশ উচ্চাভিলাষী মানুষ ছিলেন। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের সুবাদে এক প্ল্যান্টেশনের (ঔপনিবেশিক মালিকের) ওভারসিয়ার পদে উঠে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে ঘটা অন্যায় কখনো ভোলেনি এই পরিবার। লিয়ারির পরিবারের দুই অংশই দাসপ্রথার ভয়ংকর রূপ দেখেছে। লেব্রানের দাদা দাদিরা দাস হিসেবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে এসেছিলেন। আফ্রিকা থেকে ভয়ংকর উপায়ে দাস তুলে আনার শেষ দিককার ভুক্তভোগী তাঁরা। এমনকি তাদের পারিবারিক নাম ‘কনস্টেনটাইন’ শব্দটার সঙ্গে লেগে আছে এক কলঙ্কিত ইতিহাস। সে সময়কার অধিকাংশ দাসের মতোই এই পরিবারটিও তাদের শেকড় থেকে উচ্ছেদ করে আনা দাস-ব্যবসায়ীর পরিচয়েই পরিচিত হয়েছে। লিয়ারির জীবনী লেখক পিটার ম্যাসনের ধারণা, এই ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে সেই কুখ্যাত ব্যক্তিটি ফ্রান্সের জ্য ব্যাপতিস্তে কনস্টেনটাইন।

default-image
বিজ্ঞাপন

লিয়ারির মায়ের পরিবারও এই ভয়ংকর প্রথার শিকার। তাঁর মা অ্যানাইজ এনা প্যাসকেল ও মামা ভিক্টরও দাস ছিলেন। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে তাঁদের দক্ষিণ আমেরিকায় দাস হিসেবে আনা হয়েছিল। অ্যানাইজ ও ভিক্টরের বাবা আলী এ দুজনকে নিয়ে ত্রিনিদাদে পালিয়ে এসেই বাঁচেন দাসত্বের বন্ধন থেকে। নিজের পরিবারের এই ইতিহাসই পরবর্তীতে কনস্টেনটাইনকে পথ দেখিয়েছে।

১৯২৩ সালে প্রথম ইংল্যান্ড সফর করা কনস্টেনটাইন আলো কেড়েছেন ১৯২৮ সালের দ্বিতীয় সফরে। তাঁর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্পটার শুরু পরের বছর। নেলসনের হয়ে তাঁর ম্যাচ জেতানো সব পারফরম্যান্স এতে প্রভাব ফেলেছে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এর চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলেছে তাঁর মাঠ ও মাঠের বাইরে বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা। ত্রিনিদাদে কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারদের এত কম সুযোগ দেওয়া হতো যে বিরক্ত কনস্টেনটাইন ইংল্যান্ডে পাড়ি জমালেন। ল্যাঙ্কাশায়ার লিগে নেলসনের হয়ে খেলতে যান কনস্টেনটাইন।

১৯২৯ সালে কনস্টেনটাইন যখন নেলসনে এলেন, পুরো এলাকায় তখন আর মাত্র একজন কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন। স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা তাঁর বাসার জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখতে চাইতেন তাঁকে। রাস্তায় তাকে দেখে থমকে যেত মানুষ। অনেকে জিজ্ঞেস করত, কনস্টেনটাইন কি কয়লার খনিতে কাজ করেন, আর করলেও সাবান দিয়ে ভালোভাবে শরীর ধুয়ে নিচ্ছেন না কেন! এমন পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামলাতেন। জবাব না দিয়ে বরং এড়িয়ে চলো নীতিতেই হাঁটতেন কনস্টেনটাইন। তবে একবার সেটা করা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে।

বিজ্ঞাপন

কনস্টেনটাইনকে নেলসন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দলে নিয়েছিল। তাঁর আগে এ জায়গাটা বরাদ্দ ছিল জিম ব্ল্যাকেনবার্গের জন্য। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার পূর্ব ল্যাঙ্কাশায়ারের কাছ থেকে আরও ভালো চুক্তি পেয়ে সেখানে চল যান। সে বছর নেলসন ও পূর্ব ল্যাঙ্কাশায়ারের মধ্যকার ম্যাচের জন্য তাই সবাই অপেক্ষায় ছিলেন। সে আমলেই ১০ হাজার দর্শক হাজির হয়েছিলেন সে ম্যাচ দেখতে। এমন ভরা মজলিশে কনস্টেনটাইনকে অপমান করার চেষ্টা করেন ব্ল্যাকেনবার্গ। ম্যাচের আগে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন উইন্ডিজ ক্রিকেটার কিন্তু সে হাত না দেখার ভান করে ঘুরে দাঁড়ান প্রোটিয়া ক্রিকেটার।

ক্ষুব্ধ , অপমানিত এবং ভয়ংকর রাগান্বিত কনস্টেনটাইন সবচেয়ে সেরা উপায় বেছে নিলেন এর প্রতিশোধের জন্য। চকচকে নতুন বলটা বুঝে নিতেই শুরু করলেন গোলা ছোড়া। নিজের সর্বস্ব দিয়ে বল ছুড়লেন, যতটা উচিত তার চেয়ে বেশি খাটো লেংথে বল করলেন। যাকে বলে একদম কুখ্যাত ‘বডি লাইন’ বোলিং, যদিও জার্ডিনের বিখ্যাত সে ‘বডি লাইন সিরিজ’ আরও দুই বছর পরে দেখা গিয়েছিল।র্ণ বৈষম্যের শিকার হওয়ায় ইমপিরিয়াল হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, সে মামলায় বিজয়ী হওয়ার পর কনস্টেনটাইন। সংগৃহীত ছবি

কনস্টেনটাইনের তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছিল ল্যাঙ্কাশায়ার। তবে ব্ল্যাকেনবার্গ মানুষ হিসেবে যেমনই হোন না কেন, খেলোয়াড় হিসেবে জাত খেলোয়াড় ছিলেন। ওই আগুনে গোলার সামনে নত হওয়ার আগে ঠিকই ৭৭ রান তুলেছিলেন। কিন্তু তাঁর সতীর্থদের কপাল অত ভালো ছিল না। ১২৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ল্যাঙ্কাশায়ার। নেলসন সে ম্যাচ জিতেছিল ৪ উইকেটে। ম্যাচ শেষে বিচার দিতে এসেছিলেন ব্ল্যাকেনবার্গ। বর্ষাতি পরে ড্রেসিংরুমে ঢোকা প্রোটিয়া এসেই খুলে ফেলেন সেটা। সারা শরীরে কালো ও নীল হয়ে থাকা বলের দাগ দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘দেখ তোমাদের এই বদমাশ পেশাদারটা কী করেছে আমার?’

default-image
বিজ্ঞাপন

কনস্টেনটাইন সেদিন ক্রিকেটীয় চেতনা বিরোধী সে পারফরম্যান্সের পরও ক্ষমা চাননি। কারণ, তাঁর চোখে এর চেয়েও বড় অপরাধ করে বসেছেন ব্ল্যাকেনবার্গ। অবশ্য এতেও তাঁর শিক্ষা হয়নি। এই ক্রিকেটার পরেও বর্ণ বৈষম্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্রিকেটার জ্যাক ইডনকে স্মরণ করে পান করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কিংবদন্তি জর্জ হেডলি থাকায় অস্বীকৃতি জানান ব্ল্যাকেনবার্গ। দম্ভভরে বলেছিলেন, ‘আমি যেখানে বড় হয়েছি, সেখানে তোমাদের সঙ্গে মিশি না আমরা।’

ক্যারিয়ার জুড়েই এমন সব মানসিকতার মানুষকে সামলেছেন কনস্টেনটাইন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে চেষ্টা করেছেন, নিজের বর্ণের মানুষদের জীবনটা পালটে দিতে। নিজে বারবার বাধার মুখে পড়েছেন , সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। ইংল্যান্ডের শ্রমবাজারে এনে ত্রিনিদাদের অসংখ্য পরিবারকে বাঁচিয়েছেন ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে। আবার এই পরিবারগুলোকে বর্ণ বৈষম্য ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের রোষ থেকে বাঁচাতে লড়ে গেছেন। পরে ত্রিনিদাদকে স্বাধীন দেখার ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেছেন। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ত্রিনিদাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রভাব রেখেছেন। নিজের প্রথম প্রেমের কথাও ভোলেননি, কোনো কৃষ্ণাজ্ঞকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নির্বাচনেও ভূমিকা রেখেছেন। কনস্টেনটাইন কে তাই নিদেন পরিসংখ্যান দিয়ে মাপতে যাওয়ার মতো ভুল আর হয় না।

‘ব্ল্যাক লাইভ মেটারস’ আন্দোলনের এ সময়টায় জাতিবিদ্বেষের শিকার সকল মানুষের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা, লিয়ারি কনস্টেনটাইন!

মন্তব্য পড়ুন 0