default-image

যত আইন-ই করা হোক, যত বড় শাস্তির বিধান; ক্রিকেট থেকে ফিক্সিং একেবারেই নির্মূল করা সম্ভব নয়। বিরাট কোহলি মনে করেন, কর্তৃপক্ষের পক্ষে ফিক্সিং নিয়ন্ত্রণ করাও অনেক কঠিন। এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দেরই নিজ অবস্থান থেকে হতে হবে সৎ। মুফতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পকেটে পোরার লোভ সামলাতে হবে।


ভারতীয় একটি চ্যানেলকে কোহলি বলেছেন, ‘ক্রিকেটের কর্তৃপক্ষগুলো যথাসাধ্য চেষ্টা করছে খেলাটিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে। কারও পক্ষে তো রুমে রুমে গিয়ে বলা সম্ভব না অমুকের সঙ্গে ওইভাবে কথা বলো না। তারা নিয়ম বানাতে পারে, প্রক্রিয়া ঠিক করতে পারে; এর বেশি কিছু না। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই ওপরই নির্ভর করে ওরা কী করবে না করবে। কেউ যদি অন্যায় কিছু করতে চায়, আপনি তাদের যতই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন না কেন কিছু লাভ হবে না।’

ক্রিকেটের অনেক নামীদামি খেলোয়াড়দেরও এই পাকেচক্রে পড়ে যেতে দেখা যায়। কোহলি জানালেন, এই পর্যন্ত তিনি এমন কোনো প্রস্তাব পাননি, ‘না, আমি কখনো এ ধরনের কিছুর মুখোমুখি হয়নি। এটা আমার সৌভাগ্য। আমি খেলাটাকে ভীষণ ভালোবাসি। এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ক্রিকেটার হিসেবে আপনার খারাপ লাগবেই। সৌভাগ্যের বিষয় হলো, আমি এখনো এর মুখোমুখি হইনি, ঈশ্বর চাইলে ভবিষ্যতেও হব না।’

সেই ভবিষ্যতের প্রশ্নে কোহলি বললেন, তিনি চান না রেকর্ডের জন্য মানুষ মনে রাখুক তাঁকে, ‘রেকর্ড নিয়ে আমি আসলে অতটা ভাবি না। রেকর্ডের জন্য তো কখনোই খেলিনি, দলের জয়ের জন্য খেলতে গিয়ে য​দি কোনো মাইলফলক বা রেকর্ড হয়, ভালোই। এটা আমি করতে সমর্থ্যও হয়েছি, তবে এমন না এটা আমাকে খুব তাড়িত করে। নিজেকে কখনোই রেকর্ড ভাঙার জন্য চ্যালেঞ্জ করিনি।’

তাহলে ক্যারিয়ারের কী লক্ষ্য নিয়ে খেলে যাচ্ছেন তিনি? কোহলির উত্তর, ‘যখন শেষ করব, আশা করি অনেক তরুণকে খেলাটি খেলতে অনুপ্রাণিত করতে পারব। যদি কোনো কিশোর বলে, আ​মরা ক্রিকেটটা খেলতে চেয়েছি কারণ আমরা ওনার মতো হতে চেয়েছি, তখনই মনে করব কিছু অর্জন করতে পেরেছি।’

কোহলির এই কথা নিশ্চয়ই মুগ্ধ করবে সবাইকে। সত্যি বলতে কি, শুরুতে ভারতীয় সমর্থকদের সঙ্গে খাট্টামিঠা সম্পর্ক থাকলেও কোহলি যেন সবার মন জিতে নিতে শুরু করেছেন। এতে তিনি নিজে কতটা বদলেছেন, কিংবা তাঁর সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বদলেছে? ভারতের টেস্ট অধিনায়ক বললেন, ‘ক্রীড়া জাতি হিসেবে আমাদের একটু ধৈর্যের অভাব আছে, আমরা খুব দ্রুতই কারও সম্পর্কে রায় দিয়ে ফেলি। যখন খেলতে এলাম, আমার শরীরের উল্কি, পোশাক-আশাকের ধরন, আমি যেসব করতে ভালোবাসি—এতে হয়তো প্রথাগত টেস্ট ক্রিকেটারের যে প্রতিচ্ছবি, সেটা ছিল না। কিন্তু এখন যখন আমি কোনো তরুণকে দেখি ও একটু উচ্ছ্বাসপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই ওকে নিয়ে কিছু বলছে, আমি বলি, এতে দোষের কিছু নেই।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন