default-image

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিকাংশ খেলোয়াড় দেশে থাকলে শুধু রাতেই অনুশীলন করেন। চাকরিবাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সামলে দিনে যে তাঁরা সময় করে উঠতে পারেন না! শাইমান আনোয়ারের অবস্থাও তা-ই। কাজ করেন দুবাইয়ের একটি শিপিং প্রতিষ্ঠানে। কাজের জন্য অনুশীলন করার সুযোগ পান কেবল রাতে। তাও প্রতিদিন নয়, সাপ্তাহিক ছুটিতে। সেই শাইমান কিনা ঠাঁই করে নিলেন রেকর্ডের পাতায়!
আজ অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বিখ্যাত মাঠ গ্যাবায় ৬ নম্বরে নেমে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেললেন ৮৩ বলে ১০৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষে বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান পেলেন সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরিটা অবশ্য এসেছে ৭৯ বলে। দারুণ ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ১০ চার ও ১ ছয়ে। বাউন্ডারি দেখে মনে হচ্ছে ছক্কার প্রতি বুঝি আগ্রহ কম শাইমানের! কিন্তু উপসাগরীয় লিগে তিনি কিন্তু ‘ছক্কা শাইমান’ বলেই পরিচিত! ৩৫ বছর বয়সী এ ডানহাতি যে উড়িয়ে মারতে বেশি ভালোবাসেন!
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জন্ম শাইমানের ক্রিকেটে শুরুটা জন্ম শহরেই। নিয়মিত খেলেছেন পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটেও। কিন্তু পাকিস্তান দলে তাঁর ঠাঁই পাওয়া অনিশ্চিত জেনেই কিনা ২০০৭ সালে চলে এলেন দুবাইয়ে। তবে ক্রিকেট নয়, জীবিকার তাগিদে প্রথমেই একটা চাকরি দরকার ছিল। একটা শিপিং প্রতিষ্ঠানে পেয়েও গেলেন চাকরি। এরপর মনোযোগ দিলেন ক্রিকেটে। ২০০৯ সালে ডাক পেলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত দলে।
শাইমান কত বড় প্রতিভা তার প্রমাণ আইসিসির উদীয়মান সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে আয়োজিত বিশ্ব ক্রিকেট লিগ। ২০১৩ সালে এ লিগে ৬২৫ রান করলেন ১৪ ম্যাচে—যা সহযোগী দেশগুলোর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। শাইমানের একদিনের আন্তর্জাতিক অভিষেক স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে। প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন বিশ্বকাপেও। ১৯ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছেন ৬৭। আর আজ করলেন সেঞ্চুরি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ডেভিড মিলার, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, বিরাট কোহলিদের মতো ব্যাটসম্যানদের ছাপিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শাইমানের অবস্থান চারে! তথ্যসূত্র: এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন