default-image

করোনার এই সময় বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করার ব্যাপারটিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। বাড়িতে বসে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকেও বসছেন অনেকেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শ্রেণিকক্ষ তৈরি করছে। পাঠদান চলছে যার যার অবস্থান থেকে। করোনা মহামারির এই সময়ে যে ‘নতুন স্বাভাবিক জীবন’ নিয়ে কথা চলছে, তাতে ভার্চ্যুয়াল ব্যবস্থার একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান যে রয়েছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। এমন একটা সময়ে খেলাধুলাতেও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর একটা পোশাকি মহড়াও হয়ে গেল সম্প্রতি। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ক্রিকেট ম্যাচে ধারাভাষ্যকাররা ভাষ্য দিয়েছেন নিজেদের বাড়িতে বসে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ম্যাচটিও অদ্ভুত। এক ম্যাচে দল তিনটি। এই ‘থ্রি টিম’ ক্রিকেটে বাড়িতে বসে ধারাভাষ্য দিয়েছেন তিন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, ইরফান পাঠান ও দীপ দাশগুপ্ত। ইরফান ধারাভাষ্য দিয়েছেন তাঁর বরোদার বাড়ি থেকে, সঞ্জয় মুম্বাই আর দীপ কলকাতায় বসে। এই ধারাভাষ্যকেই তাঁরা বলছেন ‘ভার্চ্যুয়াল কমেন্ট্রি’।

করোনা মহামারির মধ্যেই ক্রিকেট মাঠে গড়িয়েছে জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে। ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে অবশ্য ধারাভাষ্যকারেরা মাঠে বসেই ধারাভাষ্য দিচ্ছেন, বিশ্লেষণ করছেন ম্যাচের। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ‘থ্রি টিম ক্রিকেট’ সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নতুন স্বাভাবিক জীবনে ভার্চ্যুয়াল ধারাভাষ্য হতে পারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার দারুণ এক অনুষঙ্গ। কথা উঠেছে আগামী সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় আইপিএলেও দূর ধারাভাষ্য সম্ভব কি না। দক্ষিণ আফ্রিকার থ্রি টিম ক্রিকেটে কেবল ধারাভাষ্যকারেরাই নন, সম্প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত অনেকেই নিজেদের বাড়িতে বসে বিভিন্ন কাজ সেরেছেন। মোট কথা, দূরবর্তী অবস্থানে থেকে ধারাভাষ্য ও সম্প্রচার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে সফলই হয়েছেন সম্প্রচারকেরা।

ব্যাপারটি অভিনব হলেও ভার্চুয়াল ধারাভাষ্যে কিছুটা সমস্যাও খুঁজে পেয়েছেন ইরফান পাঠান, ‘সাধারণত মাঠে বসে ধারাভাষ্য দিলে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় চোখে পড়ে। দর্শক-শ্রোতাদের সে বিষয়গুলোর মধ্যে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু ঘরে নিজের ল্যাপটপের সামনে বসে ধারাভাষ্য দিলে আপনি কেবল খেলাটা নিয়েই কথা বলতে পারবেন। এর বেশি কিছু করা যাবে না।’

মনঃসংযোগের ব্যাপারটিও আছে এখানে। মনে রাখতে হবে ধারাভাষ্যকার পুরোপুরি খেলার পরিবেশে থাকছেন না এই ব্যবস্থায়। তাঁর চোখ নিবদ্ধ থাকবে কেবল ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের ছোট স্ক্রিনটার ওপরই। এতে স্ক্রিনের বাইরের নানা ব্যাপারে চোখ চলে যাওয়ার ও মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়। ইরফান বলেছেন সে ব্যাপারটিই, ‘ম্যাচের একটা গতি আছে। সেই গতির সঙ্গে নিজেকে তাল মেলাতে না পারলে ঠিকভাবে ধারাভাষ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই ব্যবস্থাটাকে মন্দ বলার কোনো উপায় নেই।’

একেকজনের বাড়ির ইন্টারনেট সংযোগ একেক মানের। এটা নিয়েও চিন্তা থেকে যাচ্ছে। ইরফানের মতে, ‘নেট সংযোগ একটা বড় ব্যাপার। কখনো বাড়ির নেট সংযোগ খারাপ হয়ে গেলে বা দুর্বল হয়ে গেলে সেটার প্রভাব পড়বেই। তবে একটা জিনিস শুরু হয়েছে, নতুন কিছুর শুরুতে অনেক সমস্যা থাকে। এরপর ঠিক হয়ে যায়।’

অভিনব এ উদ্যোগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের কর্তা ও ধারাভাষ্যকারদের বিশেষ লগ ইন আইডি ব্যবহার করতে হয়। ঢুকতে হয় নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে। ধারাভাষ্যকারেরা প্রত্যেকেই একে অন্যকে দেখতে পেয়েছেন, নিজেদের মধ্যে আলাপ করতে পেরেছেন। প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো অবশ্য প্রকৌশলীরা সেরেছেন ভালোভাবেই।

দীপ দাশগুপ্ত অবশ্য নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগতই জানিয়েছেন। নিজের টুইটারে ভার্চুয়াল ধারাভাষ্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘উদ্যোগটা সত্যিই দারুণ। সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা উদ্যোগটার সফল রূপ দেওয়ার জন্য।’

আইপিএলে এখনো পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল ধারাভাষ্যের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে আঞ্চলিক ভাষায় যেসব ধারাভাষ্য দেওয়া হয়, সেগুলো এত দিন স্টুডিওতে বসে দেওয়া হতো। এবারের আইপিএলে আঞ্চলিক ধারাভাষ্যকারদের বাড়িকেই স্টুডিও বানিয়ে ফেলার একটা পরিকল্পনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

করোনা অনেক কিছুই নতুন করে দেখিয়েছেন সবাইকে। বাড়ি থেকেও যে দিনের পর দিন অফিসের কাজ করা যায় সেটা করোনা না এলে লোকে জানত কীভাবে! করোনা ক্রিকেটেও আনছে অনেক পরিবর্তন। ভার্চ্যুয়াল ধারাভাষ্য এ পরিবর্তনের মধ্যেই জায়গা করে নেবে কি না, সেটা দেখতে অবশ্য অপেক্ষা করতে হবে আরও।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন