default-image

এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সবাই যেন উঠেপড়ে লেগেছেন রেকর্ড বইয়ে বদল আনতে। এই যেমন ধরুন আজকের খেলাটি। কি কাণ্ডটাই না করে বসল ১৯৯২-এর বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান। ৩ দশমিক ১ ওভারের মাথায় ১ রানেই ৪ উইকেটের পতন! বছর দুয়েক আগে ক্রাইস্টচার্চে যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়ে গিয়েছিল, সেটাই যেন সেই শহরেরই হ্যাগল ওভাল মাঠে আরেক দফা ভূমিকম্প করে দেখালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। যেই ভূমিকম্পে একে একে কুপোকাত হয়ে ফিরে যান নাসির জামশেদ, ইউনিস খান, হারিস সোহেল ও আহমেদ শেহজাদ।
ওয়ানডে ক্রিকেটেই এর আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্কোরবোর্ডে মাত্র এক রান তুলে চার উইকেট হারানোর নজির ছিল না আর কোনো। সেদিক দিয়ে পাকিস্তান আজ রেকর্ড বইয়ের একটা নতুন অধ্যায় সংযোজন করল। যদিও এমন ‘কীর্তি’র জন্য লজ্জাই হবে তাদের।
ক্রিকেট মাঠে এ রকম ‘ভূমিকম্প’ আগেও হয়েছে। সবচেয়ে কম রানে চার উইকেট ফেলে দেওয়ার এর আগের কৃতিত্বটি জিম্বাবুইয়ান বোলারদের। ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিদেশীয় সিরিজে ৪ রানে কানাডার ৪ উইকেট ফেলে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। কানাডার নামের সঙ্গে তবু রেকর্ডটা যায়। কিন্তু সেই লজ্জাটা যে নিজেদের দিকে টেনে নিল পাকিস্তান!
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৩ বিশ্বকাপে একই ওভারে ৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর লজ্জা বইতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে এর একটি মধুর প্রতিশোধও নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কাও থরহরি কম্পমান। স্কোরকার্ডে ৬ রান যোগ হতে হতেই হারিয়ে বসে ৫ টি উইকেট। কী চমৎকারই না দেখাচ্ছিল স্কোরটা: ৬ /৫ ! যদিও এমন চমৎকার শুরুর পরেও বাংলাদেশ হেরে যায় ম্যাচটি।
বোলারদের তোপে ব্যাটিং দেয়ালে ধস নামার আরও নজির আছে। সবচেয়ে কম রানে হল্যান্ড ৬ উইকেট ফেলে দিয়েছিল কানাডার। ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ৫০ তম ম্যাচটিতে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় হল্যান্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই কানাডাকে ক্রিজে স্থির হতে দেননি হল্যান্ডের বোলাররা। মাত্র ১০ রানের মাথায় ৬ টি উইকেট হারায় কানাডা। হল্যান্ডের ফন ডার গুটেন একাই নেন ৫ উইকেট। অন্যটি অলরাউন্ডার মুদাসসার বুখারির। সেদিন মাত্র ৬৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় কানাডা।
২০০৩ বিশ্বকাপেও কানাডা মাত্র ১২ রানে ছয়টি উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছিল শ্রীলঙ্কান বোলারদের কাছে। সেদিন তাদের সপ্তম উইকেটটি পড়েছিল ২১ রানে। এটাই সবচেয়ে কম রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার রেকর্ড। একবার তো ২৫ রানে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের আট উইকেট। আজকের ম্যাচের ভাষ্যকার রমিজ রাজাকে দিয়েই শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের ছয় ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড। পাকিস্তানের নয় ব্যাটসম্যান মিলে করেছিলেন মোটে ১১ রান, অথচ ম্যাচে অতিরিক্ত রানই ছিল ১০ !
১৯৯৩ সালে কেপ টাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই ২৬ রানে নবম উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত শেষ জুটিতে ১৭ রান আসায় ‘রক্ষা’। পাকিস্তান অলআউট হয় ৪৩ রানে। সেটাই ছিল ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। পরে রেকর্ডটি জিম্বাবুয়ের (৩৮) হাত ঘুরে কানাডার দখলে আসে। ২০০৩ সালে ৩৬ রানে অলআউট হয় কানাডা। পরের বছর শ্রীলঙ্কারই বিপক্ষে ৩৫ রানে অলআউট হয়ে রেকর্ডটা আবার ফিরিয়ে নেয় জিম্বাবুয়ে!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন