পাল্লেকেলে টেস্টে সেঞ্চুরির পর নাজমুল হোসেন।
পাল্লেকেলে টেস্টে সেঞ্চুরির পর নাজমুল হোসেন।ছবি: এএফপি

উইকেট? সে তো বটেই। ব্যাট করার আজ আদর্শ ছিল পাল্লেকেলে টেস্টে প্রথম দিনের উইকেট। শ্রীলঙ্কান উইকেটে বল একটু থেমে ব্যাটে আসার রীতিটা আজ দেখা যায়নি।

বলের বাউন্সও খুব বেশি ওঠানামা করেনি। সারা দিনই প্রায় নির্দিষ্ট উচ্চতায় বল তুলেছেন লঙ্কান পেসার–স্পিনাররা। এমন উইকেটে আজ কেউ বড় রান করতে না পারলে সেটাই বরং অবাক করত সবাইকে।

তামিম ইকবাল সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছিলেন। ১০১ বলের ইনিংসে যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, সোজা ব্যাটে খেলেছেন। উইকেটের চারপাশে যেসব শট খেলেছেন, সবই ছিল মনোমুগ্ধকর। কিন্তু তামিম হুট করে যে খোঁচাটা মেরে আউট হলেন, সেটি প্রথম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য একেবারেই অপরিচিত দৃশ্য। সম্ভবত ওটাই একমাত্র শট, যা হতাশ করেছে সবাইকে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এর বাইরে পাল্লেকেলে টেস্টে প্রথম দিনের প্রতিবেদন শেষ করা যায় এককথায়—তামিম ইকবাল প্রথম দিনের সুর বেঁধে দিয়ে যাওয়ার পর তা ধীরে–সুস্থে টেনে দ্বিতীয় দিনে কেমন হবে, সেটি ঠিক করেছেন নাজমুল হোসেন। হ্যাঁ, দ্বিতীয় দিনে ইনিংস টানার দায়িত্বও তাঁরই কাঁধে। ২৮৮ বলে ১২৬ রানে অপরাজিত থাকা ব্যাটসম্যানেরই তো এই দায়িত্ব!

default-image

নাজমুলের ক্যারিয়ারে এই ইনিংস হিরণ্ময় হয়ে থাকবে। প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট সেঞ্চুরি, প্রথম প্রেমের মতোই তো স্মরণীয়! সেটিও দারুণ ধৈর্য ও নিখুঁত সব শটের চিত্রায়ণ করে। খুঁত বলতে ব্যক্তিগত ২৮ রানে উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলাকে ক্যাচ দিয়েছিলেন।

সেটিও অনেকে বলতে পারেন ৫০–৫০ সুযোগ। অর্থাৎ ‘জীবন’ পেলেও সেটি অনেকে অস্বীকার করতে পারেন। কারণ, ক্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু নাজমুলের কাছে ব্যাট করাটা আজ ভীষণ সহজ হয়ে উঠেছিল।

তামিমের মতো সব খেলেছেন সোজা ব্যাটে। তবে ধৈর্যের নিক্তিতে নাজমুলের ওজনই হবে বেশি। তিনে নামা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে টেস্টে ব্যাটিংয়ের যে মেজাজ আশা করেন সবাই, নাজমুল সেটাই করে দেখালেন।

তামিম যেখানে ৫৩ বলে ৫০ করেন, নাজমুল সেখানে ফিফটি তুলে নেন ১২০ বলে। অযথা কোনো ঝুঁকি নেননি।

বলের মেধা যাচাই করে খেলার কথা প্রথম দিনের খেলা শেষে বললেন বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান, ‘বল দেখেছি, খেলেছি, বলের শক্তিমত্তা বিচারে খেলেছি। রান করা নিয়ে ভাবিনি। শুধু সেশন ধরে ধরে খেলার ভাবনা ছিল।’

১ ছক্কা ও ১৪ চার মারলেও নাজমুলের ইনিংসে দেখার মতো বিষয় ছিল তাঁর বড় রান করতে চাওয়ার খিদে—উইকেট কামড়ে পড়ে ছিলেন। অফ স্পিনারকে বেরিয়ে এসে ইনসাইড আউট খেলার ঝুঁকি নেননি। কিন্তু কবজির আওতায় পেলে ছাড়েনওনি—যথার্থ তিন নম্বর ব্যাটসম্যানের মতোই।

default-image

নাজমুলের টেস্ট ক্যারিয়ার চার বছর চলছে। এর মধ্যে অবশ্য বেশি টেস্ট খেলতে পারেননি। মাত্র ৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে এর আগে একবারই ফিফটি পেয়েছিলেন। গত বছর ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭১।

সেই ইনিংস আর আজকের সেঞ্চুরির বাইরে নাজমুল যে ১০ ইনিংসে ব্যাট করেছেন, এর মধ্যে ৭ বারই দুই অঙ্কে পৌঁছে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু কী কারণে ইনিংস বড় করতে পারেনি সেটি বড় এক ধাঁধা।

বিজ্ঞাপন

কেননা, নাজমুলকে লম্বা দৌড়ের ব্যাটসম্যান ভেবেই খেলানো হচ্ছে টেস্টে। বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হলেও সেই ভাবনা যে মিথ্যে নয়, তা আজ বুঝিয়ে দিলেন তিনি। এর পেছনে আছে নাজমুলের গত কয়েক মাসের খাটুনি। নিজেকে তৈরি করার পুরস্কার পাওয়ার কথাই জানালেন নাজমুল।

default-image

‘এটা অবশ্যই দক্ষতার ব্যাপার। তবে মানসিক ব্যাপারটাও গুরুত্বপূর্ণ। আজ বেশ ফুরফুরে (রিল্যাক্সড) ছিলাম’—বলেন নাজমুল। সেঞ্চুরি পাওয়া নিয়ে তাঁর অভিব্যক্তি, ‘আসলে একটু স্বস্তি পেলাম। শেষ কয়েক মাস অনেক পরিশ্রম করেছি। শেষ দুই টেস্টে রান করতে পারিনি। তবে আত্মবিশ্বাস ছিল, রান করতে পারব। আজ হয়েছে, তাই খুশি।’

কালও হতে হবে। এই উইকেটে সেঞ্চুরি পেয়ে ‘সেট’ ব্যাটসম্যান তা ডাবলে রূপান্তর করতে না পারলে হতাশাটা নাজমুলকেই বেশি গ্রাস করবে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন