default-image

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ক্রিকেটাররা ব্যস্ত থাকেন অনেক কিছু নিয়ে। কেউ খেলা বিশ্লেষণ করেন, কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া করেন। আবার অনেকে মাঠেই থেকে যান ধারাভাষ্যকার কিংবা কোচ হিসেবে।

কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনি যেন এখানেও অন্য ধাতুতে গড়া! এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে টিকে থাকলেও বাকি সময়টা যেন নিজের ক্রিকেটারসত্তা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। অবসরের সময়টায় নিজেকে পাকা একজন খামারি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেও এখন তাঁর সব মনোযোগ।

ধোনির এই ‘কৃষি বিপ্লব’ কেমন চলছে, সেটা ধোনির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দেখলেই বোঝা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গল্প একটু কমই দেন। সে ক্ষেত্রে ভারতীয় সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের মেয়ে জিভা ধোনিই সবার ভরসা। পাঁচ বছর বয়সী জিভার নিজের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আছে। সেটা অবশ্য ধোনির স্ত্রী সাক্ষী ধোনিই চালান। সেখানেই নিজেদের খামারিজীবনের সাফল্যের গল্প দেখালেন জিভা ও সাক্ষী।

বিজ্ঞাপন
default-image

ইনস্টাগ্রামে জিভা রীতিমতো তারকা। ১০ লাখের ওপর ধোনিভক্ত ইনস্টাগ্রামে জিভাকে অনুসরণ করেন। মাঝেমধ্যেই বাবার সঙ্গে জিভার খুনসুটির ভিডিও দেওয়া হয় সেখানে। আর সবাই প্রগাঢ় ভালোবাসা নিয়ে সে ভিডিও দেখেন, নিজেদের ভালোবাসা জানিয়ে দেন। গতকাল এমনই এক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল জিভার অ্যাকাউন্ট থেকে।

নিজের বিশাল খামারবাড়িতে নতুন জাতের গরু উদ্ভাবন নিয়ে ব্যস্ত হয়েছেন বেশ আগে। বর্তমানে যে গরু আছে তাতেই দিনে ৪০০ লিটারের মতো দুধ উৎপন্ন হয়। এরপর বিখ্যাত কাদাকনাথ মুরগিও এনেছেন নিজের খামারে। দুই হাজার মুরগি পালন করা হচ্ছে তাঁর খামারে। রাঁচিতে তাঁর ৪৩ একরের খামার আছে। এর মধ্যে ১০ একরে সবজির চাষ হয়। সবজিগুলোর মধ্যে মূলত টমেটো, বাঁধাকপি, স্ট্রবেরি, মটরের চাহিদাই বেশি। নিজের খামার থেকে দুবাইয়েও সবজি সরবরাহ করেছেন ধোনি।

রাঁচির ফার্ম হাউসে আছে এখন ধোনি পরিবার। সেখানেই বাগান থেকে ঘুরে আসার পর জিভার সবজি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার এক ভিডিও রেকর্ড করেছেন সাক্ষী। পোস্টে লেখা ছিল, ‘সবজির প্রতি ভালোবাসা।’

default-image

ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, একগাদা সবজি নিয়ে অপেক্ষা করছে জিভা। তাকে দেখে মায়ের প্রশ্ন, ‘এগুলো কে এনেছে?’ সপ্রতিভ জিভার জবাব, ‘সব আমি এনেছি!’

মায়ের আবারও প্রশ্ন, ‘কোত্থেকে?’
‘বাগান থেকে।’

এবার সাক্ষী মেয়ের পরীক্ষা নিতে চাইলেন। শিশুদের আশপাশের জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়েই বাবা-মায়েরা যা করেন, সে পর্ব চলল কিছুক্ষণ, ‘এত সব কী? আমাকে বলতে পারবে?’
‘এটা কপি পাতা, ওটা ধনে পাতা। এটা রাই। এবং... মুলা?’

মায়ের তবু প্রশ্ন শেষ হয় না। জিভার জ্ঞানভান্ডার পরীক্ষা করা যে এখনো বাকি! ‘এগুলো তো অনেক বড় মুলা।’
‘হ্যাঁ।’
‘কোত্থেকে এনেছ এগুলো?’
মায়ের কণ্ঠে সন্দেহের সুর টের পেতেই জিভার পাল্টা, ‘আমি এগুলো বাজার থেকে কিনিনি। আমি এগুলো সব বাগান থেকে এনেছি।’

বিজ্ঞাপন

হার মানতে হলো সাক্ষীকে, 'আচ্ছা। ওগুলো কী?’
‘টমেটো।’

‘আর ওটা?’
সঙ্গে সঙ্গে মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল জিভার, ‘গাজর। আমার প্রিয়।’

‘তোমার হাতে ওটা কী?’
‘রাই।’

এরপরের কথোপকথনে ঈর্ষায় পুড়বেন যেকোনো অভিভাবক। সন্তানদের স্বাস্থ্যকর সবজি খাওয়াতে অধিকাংশ মা-বাবার রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু ধোনির মেয়ে বলে কথা। চমকে দেওয়াটাই তো স্বাভাবিক।

মেয়েকে প্রশ্ন সাক্ষীর, ‘তুমি এগুলো সব ডিনারে খাবে?’
‘আমার তো তা-ই মনে হয়।’
‘ওয়াও, দারুণ।’

পৃথিবীর যেকোনো মাকে আনন্দে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো উত্তর জিভার, ‘এগুলো কত স্বাস্থ্যকর!’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন