গাভাস্কারের 'ওয়াকআউট' হোল্ডিংয়ের 'লাথি', ক্রিকেটের যত প্রতিবাদ

বিজ্ঞাপন
>ক্রিকেট মাঠে বিচিত্র সব প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। এরই কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো…

কখনো কখনো প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন ক্রিকেটাররা। মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে। ক্রিকেটের কোনো বিষয় নিয়ে তাঁরা যেমন প্রতিবাদী হয়েছেন, ঠিক তেমনি বাইরের বিষয়ও আছে। নিজ দেশের রাজনৈতিক বিষয়, ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ—এমন অনেক ঘটনাই আছে। প্রশংসা–সমালোচনা–বিতর্ক সবই আছে ক্রিকেটারদের এসব প্রতিবাদকে ঘিরে। প্রতিবাদের ফলশ্রুতিতে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষও হয়ে গিয়েছে অনেকের। রাজনৈতিক প্রতিবাদের কারণে বিদেশে নিতে হয়েছে রাজনৈতিক আশ্রয়। ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারদের এমন কয়েকটি প্রতিবাদের গল্প জেনে নেওয়া যাক…

default-image

সুনীল গাভাস্কারের 'ওয়াকআউট'
জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউট করতে দেখা যায়। কোনো ফোরামে বিশেষ কোনো সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়াই ওয়াকআউট। কিন্তু ক্রিকেটে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে ওয়াকআউট করার ঘটনাও আছে। যার নায়ক সুনীল গাভাস্কার। ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্ন টেস্টে ডেনিস লিলির বলে আম্পায়ার গাভাস্কারের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু সিদ্ধান্তটা একেবারেই পছন্দ হয়নি তাঁর। বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে প্যাভিলিয়নের দিকে পা বাড়ালেও ডেনিস লিলির এক কথায় তিনি আবার ফিরে আসেন। এরপর নন স্টাইকিং প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান চেতন চৌহানকে নিয়ে মাঠ ত্যাগ করতে বলেন। চৌহান অবশ্য বুঝতে পারছিলেন না, তিনি কী করবেন। শেষে অধিনায়কের নির্দেশই মানেন তিনি। তবে বাউন্ডারির কাছে এসে ভারতীয় দলের ম্যানেজার শহীদ দুররানি ও কোচ বাপু নাদকারনি গাভাস্কারকে বুঝিয়ে চৌহানকে মাঠে ফেরত পাঠান। গাভাস্কার গজরাতে গজরাতে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান।

default-image

স্টাম্পে হোল্ডিংয়ের লাথি
এটি ১৯৮০ সালের ঘটনা। ক্রাইস্টচার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টে মাইকেল হোল্ডিংয়ের বলে একটি কট বিহাইন্ডের আবেদন নাকচ করে দেন কিউই আম্পায়ার ফ্রেড গুডঅল। এর পরপরই রাগে–ক্ষোভে নন–স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেন হোল্ডিং। সেবার পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের কারণে যথেষ্ট সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন গুডঅল। সে সিরিজেই সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার কলিন ক্রফট এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে বোলিং রানআপের সময় গুডঅলকে কনুই দিয়ে গুঁতো মেরে বসেন।

default-image

কালো বাহুবন্ধনীতে প্রতিবাদ
জিম্বাবুয়ের সাবেক স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন দুই জিম্বাবুইয়ান তারকা ক্রিকেটার অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও হেনরি ওলোঙ্গা। এ প্রতিবাদের জন্য তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন ২০০৩ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মঞ্চ। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। ফ্লাওয়ার ও ওলোঙ্গা প্রতিটি ম্যাচেই বাহুতে কালো রঙের বন্ধনী পরে মাঠে নামেন। তাদের ভাষায় এটি ছিল জিম্বাবুয়েতে 'গণতন্ত্রের মৃত্যু'র প্রতিবাদ। ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইনসহ বিশ্ব ক্রিকেটের প্রায় সবাই সহমর্মিতা প্রদর্শন করেছিলেন এই প্রতিবাদে। তবে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের পর দেশ ছেড়ে ইংল্যান্ডে আশ্রয় নিতে হয় জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই তারকাকে। ওলোঙ্গা ছিলেন দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার।

default-image

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সিরিজ বর্জন
ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বেতন নিয়ে ঝামেলা চলছিল তখন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারদের। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ডোয়াইন ব্রাভোর নেতৃত্বে ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা এই ঝামেলার জেরে ভারত সফর অর্ধসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরে যায়। এই ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মারাত্মক ক্ষুদ্ধ হয়। তাঁরা ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২৫০ কোটি রুপির মামলা দায়ের করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা যেদিন সফর বর্জন করেন, সেদিন ধর্মশালায় সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল।

default-image

প্রতিবাদী সাকিব আল হাসান
২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার ৭০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল নিদাহাস ট্রফি। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে আয়োজিত এই টি–টোয়েন্টি সিরিজটি ছিল ঘটনাবহুল। গ্রুপপর্বে শ্রীলঙ্কাকে দুইবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। লঙ্কানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটির একেবারে শেষ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২ রান। ইসুরু উদানার সেই ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি নো বলের হওয়ার দাবি জানায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের বক্তব্য ছিল এ দুটি বল নো বলের উচ্চতাতেই করেছিলেন উদানা। এই দুটি বলেই কোনো রান পায়নি বাংলাদেশ। উল্টো একটি রান আউটে উইকেট খোয়াতে হয়। এই সময় ঘটনাটির প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। প্যাভিলিয়ন থেকে বাউন্ডারির দড়ির কাছে এসে সাকিব বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মাঠ ত্যাগ করতে বলেন। অনেক জল ঘোলা করে অবশ্য সমস্যাটির সমাধান হয়। মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। ঘটনাটিতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সাকিব।

default-image

অর্জুনা রানাতুঙ্গার 'খেলবই না'
১৯৯৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে এ বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। আম্পায়ার রস এমারসন লঙ্কান অফ স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিরুদ্ধে চাকিংয়ের অভিযোগ এনে 'নো' বল ডাকেন। অ্যাডিলেড ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কার্লটন অ্যান্ড ইউনাইটেড ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের সে ম্যাচে এমারসনের এই কান্ড হতবাক করে গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকেই। প্রতিবাদ জানান শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। তিনি শ্রীলঙ্কা দলকে নিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। বাউন্ডারির দড়ির কাছে রানাতুঙ্গার সঙ্গে এমারসনের কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় রানাতুঙ্গা ও লঙ্কান দলের ম্যানেজার রঞ্জিত ফার্নান্দোর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ম্যাচ রেফারি পিটার ফর ডার মারউই ও আরেক আম্পায়ার টনি ম্যাককুইলিন। মাঠ থেকেই কলম্বোতে ফোন করা হয়। পুরো ঘটনাটি দেশে জানায় শ্রীলঙ্কান টিম ম্যানেজমেন্ট। পরে অবশ্য যেভাবেই হোক মাঠে ফিরে আসেন রানাতুঙ্গা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন