বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অবশ্য মাহমুদউল্লাহ আর কীই–বা বলতে পারতেন? নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যেকোনো দলেরই বেশ কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়। অস্ট্রেলিয়া কদিন আগে সেটা বুঝেছে। এর আগে ভারত টের পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দল এবেলায় এক কাঠি সরেস। নিউজিল্যান্ড কাজটা কঠিন করে রাখলেও বাংলাদেশ দল যেন ‘মহাত্মা গান্ধী’, পাল্টা আঘাত করার কথা ভাবে না। বরং নিতান্তই সদয় হয়ে নিউজিল্যান্ডের জন্য কাজটা আরও সহজ করে দেয় নিজেদের ভুলে।

ভুলের পর খেলোয়াড়েরা অনুশোচনায়ও ভোগেন। মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যে জানা গেল অনুশোচনার কথা, ‘স্পষ্টত আমরা আশানুরূপ খেলতে পারিনি। এ কারণে আমরা খুবই আশাহত। কারণ, আমরা বুঝতে পারছি আমাদের যে যোগ্যতা, সেভাবে আমরা খেলতে পারিনি।’ তা আর বলতে!

তবে কয়েনটার হতাশা আঁকা পিঠ উল্টে আশাও দেখালেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘টি-টোয়েন্টি এমন একটা খেলা, যেখানে বড়-ছোট দল বলে কিছু নেই। র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হোক বা দশ নম্বর, নির্দিষ্ট দিনে যদি কোনো দল ভালো খেলে, এক-দুজন ব্যাটসম্যান দারুণ করে, দল হিসেবে আমরা যদি ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সেটা কাজে লাগাতে পারি, কাজে লাগানোর দক্ষতাটা যদি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারব—এটা আমাদের বিশ্বাস।’

তার মানে পথ মিলে গেছে, এখন পাথেয়টা ঠিকঠাক হওয়ার অপেক্ষা।

default-image

টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও থাকল মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে। তার আগে চাইলে যেকেউ কল্পিত এই সংবিধিবদ্ধ সতর্কতাবাণী পড়ে নিতে পারেন, ‘এই প্রতিশ্রুতির সহিত বাংলাদেশের আগের অনেক সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনের মিল পাইলে তাহা নিতান্তই কাকতাল বলিয়া গণ্য হইবে।’

এবার বাংলাদেশ দলের প্রতিশ্রুতিগুলোর বয়ান শুনুন মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে, ‘টি-টোয়েন্টিতে কোনো জড়তা না রেখে আমরা যদি ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারি, ম্যাচের ফল পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের জয়ের ক্ষুধাটা এখনো তীব্রভাবে আছে। ইনশা আল্লাহ, কালকের ম্যাচে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলব।’

তার আগে আরেকবার ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে হাহাকার ঝরল, ‘আমরা জানি যে এখানকার কন্ডিশন বরাবরই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। ওয়ানডে সিরিজে দেখেছি যে ওরা কন্ডিশনটাকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। আমরা ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো খেলতে পারিনি। যদিও আমাদের বোলাররা খুব ভালো করেছে, কিন্তু ফিল্ডিংয়ে আমাদের কিছু ভুলের কারণে আমরা ফলটা আমাদের পক্ষে আনতে পারিনি।’

টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাই করণীয় ঠিক করে দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘আমাদের ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আরও ভালো খেলতে হবে, যাতে বোলারদের লড়াই করার মতো একটা ভালো পুঁজি এনে দিতে পারি। আমাদের যে বোলিং ইউনিট আছে, মেহেদি, নাসুম, ফাস্ট বোলাররা, মিরাজ...আমার মনে হয় সেটা ওদের আটকে রাখার জন্য যথেষ্ট।’

default-image

মাহমুদউল্লাহ তার আগে মন থেকে ওয়ানডে সিরিজকে ছুড়ে ফেলার পরামর্শ দিলেন সতীর্থদের, ‘অবশ্যই ভুলগুলো মাথায় রাখতে হবে, যাতে সেগুলো থেকে শিখতে পারি, তবে (ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচের) ফলটা ভুলে যেতে হবে। এখানে জয়ের বিকল্প কিছু নেই। আপনি যদি নিউজিল্যান্ডকে নিউজিল্যান্ডে হারাতে চান, আপনার প্রথার বাইরে ভাবতে হবে। অন্য ধরনের ক্রিকেট খেলতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য আমরা সবাই উন্মুখ।’

ওয়ানডে সিরিজে যেহেতু ক্যাচ ফেলে ম্যাচ ফেলার গুরুত্ব আরেকবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ দল, মাহমুদউল্লাহ সেটিরও একটা সমাধান বাতলে দিয়েছেন, ‘ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এই কন্ডিশনে, যেহেতু এখানে অনেক বাতাস থাকে। অনেক সময় উঁচু ক্যাচ বা নিচু ক্যাচ আসবে, যেহেতু এখানে বল খুব তাড়াতাড়ি ভেসে আসে। এটার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। আমি হই বা অন্য কেউ—ফিল্ডার হিসেবে আমাদের তৎপর থাকতে হবে যে আমার কাছে সুযোগ এলে সেটা আমি ধরে ফেলব। এই ছোট ছোট সুযোগ যদি আমরা সবাই ঠিকভাবে নিতে পারে, ইনশা আল্লাহ আমরা একটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারব।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন