বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তারপরও লড়াইটাকে ‘সমানে সমান’ বলা আসলে প্রথম দুই ম্যাচে দুই দলের হারের কারণেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো টি-টোয়েন্টির ‘পাওয়ার হিটার’দের নিয়েও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়েছে। দুই দলের সর্বশেষ ৬টি টি-টোয়েন্টি সাক্ষাতেও জয়ের সংখ্যা সমান তিনটি করে। এমন ম্যাচের আগে কীভাবে আপনি কাউকে এগিয়ে রাখবেন?


এবার একটু খেলোয়াড় তালিকার দিকে তাকানো যাক। একদিকে ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, লেন্ডল সিমন্সরা। টি-টোয়েন্টির সব বাঘা বাঘা নাম। ফর্মটা কখনোই তাঁদের ক্ষেত্রে বড় বিবেচ্য নয়। যেকোনো দিন যে কেউই পারেন ব্যাটে রানের ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে শেষ করে দিতে।

অন্যদিকে আছেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহদের সঙ্গে ব্যাট হাতে ধুঁকতে থাকা লিটন দাস ও তরুণ আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ নাঈমরা। আইপিএল অভিজ্ঞতার কারণে সাকিবকে এক পাশে সরিয়ে রাখলে শক্তির খেলা টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবীয়দের পাশে এই নামগুলো যেন একটু বেমানানই!


মাঠের খেলায় হয়তো শক্তিটাই সব সময় শেষ কথা নয়, কিন্তু টি-টোয়েন্টি খেলাটাই এমন যে সেখানে বাহুবলকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। সে কারণেই দুই দলের অতীত ও বর্তমান মাথায় রেখেও সম্ভাবনার দৌড়ে নিকোলাস পুরানের ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই কিছুটা এগিয়ে রাখতে হয়।

default-image

ক্যারিবীয় পাওয়ার হিটারদের কথা মাথায় রেখেও অবশ্য সেটা মানতে রাজি নন বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। তিনি আস্থা রাখতে চান টি-টোয়েন্টির সেই আপ্তবাক্যেই, যেটি অন্তত এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল এখনো প্রমাণ করতে পারেনি। কোন আপ্তবাক্য? টি-টোয়েন্টিতে ছোট দল, বড় দল বলে কিছু নেই! কাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে নুরুল গত ২-৩ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভালো খেলার প্রেরণার কথাও বলেছেন।


সংবাদ সম্মেলনটা অবশ্য হয়েছে অনলাইনে। আগের দিন আবুধাবিতে খেলা ছিল বলে দুবাই থেকে যাওয়া-আসায় পাঁচ ঘণ্টার মতো বাসভ্রমণ করতে হয়েছে। কাল ঐচ্ছিক অনুশীলনের দিনে তাই আর কেউ মাঠমুখী হননি। হোটেল থেকেই সংবাদ সম্মেলনের ক্যামেরার সামনে বসেছেন নুরুল।

default-image

সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনায় গেইল-পোলার্ড-রাসেলরা আছেন ভালোভাবেই। নুরুল বলছিলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে অনেক পাওয়ার হিটার আছে, এটাই তাদের বড় শক্তি। আমাদের টিম মিটিংয়ে এ নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা যেন ভালোভাবে পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি।’


বিশ্বকাপে এখনো ব্যর্থতার চোরাবালিতে আটকে থাকলেও এর ঠিক আগে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, টি-টোয়েন্টিতে তারাও পারে বাজে পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে। নুরুলের আশার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সেই অভিজ্ঞতাই, ‘বিগত দিনে আমরা দেখেছি, খারাপ সময় কাটিয়ে উঠে আমরা ভালো সময়েও আসতে পারি। আমরা একটা ম্যাচ জেতার জন্য অপেক্ষা করছি। সেদিক দিয়ে কালকের (আজ) ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

default-image

সাহসী ক্রিকেটার হিসেবে নুরুলের একটা খ্যাতি আছে। সুপার টুয়েলভের প্রথম দুই ম্যাচে হারার পরও কাল যেভাবে সেমিফাইনাল স্বপ্নের কথা বললেন, সেটা সেই সাহসেরই প্রতিচ্ছবি যেন, ‘কাল (আজ) যদি ভালোভাবে খেলাটা শেষ করতে পারি, তাহলে হয়তো পরের ম্যাচগুলো সহজ হয়ে যাবে। পুরো দল তখন চাঙা হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে থাকতেই বলেছি আমাদের আশা সেমিফাইনালে খেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতলে সে আশা টিকে থাকবে।’


ম্যাচ জিততে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নুরুল। ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লে কাজে লাগানো, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে পাওয়ার প্লের সুবিধা না দেওয়া, স্লগ ওভারে ভালো বল করা, আর ব্যাটসম্যানদের ডট বল যতটা সম্ভব কম খেলা—টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতার এগুলোই তো শর্ত।


এগুলো অবশ্য যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই প্রযোজ্য। সমস্যা হলো, অঙ্কের নিয়ম জেনেও ফল মেলাতে পারে কয়জন!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন