বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রুপ ১-এ প্রথম ম্যাচ থেকেই দাপট দেখাচ্ছে ইংল্যান্ড। শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কিছুক্ষণের জন্য অস্বস্তিতে ছিল দলটি। কিন্তু সে ম্যাচও শেষ পর্যন্ত সহজে জিতেছে তারা। ৪ ম্যাচ শেষে ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে তারা। ওদিকে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পেছনেই আছে কখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না জেতা অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এক নজরে তিন দলের অবস্থান দেখে নেওয়া যাক।

ওপরের টেবিল থেকে পরিষ্কার আজ কতটা অবস্থানে থেকে ম্যাচ শুরু করবে ইংল্যান্ড। তবু কাগজে-কলমে তাদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিন দলের জন্যই সেমিফাইনালের সমীকরণ হিসাব–নিকাশে একটু মন দেওয়া যাক।

default-image

দক্ষিণ আফ্রিকা

আজ সবচেয়ে পিছিয়ে শুরু করছে প্রোটিয়ারা। সেমিফাইনালে যেতে হলে তাদের আজ শুধু জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকবে রানরেটের দিকেও। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সুবিধা হলো, দিনের শেষে খেলবে তারা। ফলে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ফল জেনেই মাঠে নামতে পারবে তারা। অস্ট্রেলিয়া হেরে গেলে, শুধু জয় পেলেই চলবে। আর অস্ট্রেলিয়া যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেয় তবে, অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ব্যবধানের চেয়ে অন্তত ২৪ রানের বেশি ব্যবধানে জিততে হবে, অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া ২০ রান হাতে রেখে জয় পেলে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সেটা ৪৪ রানের সমীকরণ হয়ে দাঁড়াবে।

default-image

অস্ট্রেলিয়া

একটু আগে যা জেনেছেন সেটাই আবার পড়ে নিন, তবে এবার অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপট থেকে। নিজেরা জিতলে আর দক্ষিণ আফ্রিকা হারলে কোনো হিসাব ছাড়াই চলে যাবে তারা। আবার নিজেরা হারলে দক্ষিণ আফ্রিকার হারের আশায় বসে থাকতে হবে এবং সেখানেও ২৪ রানের ইতিবাচকতা কাজে লাগবে তাদের। আর অস্ট্রেলিয়া জিতলে, দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের ব্যবধান যেন বড় না হয় সে আশা করতে হবে।

আরেকটি হিসাব আছে। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যদি অন্তত ৭৫ রানে হারাতে পারে অস্ট্রেলিয়া, তবে অন্য ম্যাচের ফল নিয়ে চিন্তা করতে হবে না তাদের। কীভাবে, সেটা নিচে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

default-image

ইংল্যান্ড

একদিক থেকে চিন্তা করলে ইংল্যান্ডকে আজ কিছুই করতে হবে না। ভয়ংকর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেই চলবে তাদের। দিনের প্রথম খেলায় অস্ট্রেলিয়া হেরে গেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত তাদের। নিজেদের ম্যাচের জয়-হারের দিকে আর চেয়ে থাকতে হবে না ইংল্যান্ডকে। আর অস্ট্রেলিয়া যদি জয় পায়, তখন নিজেদের ম্যাচে অল্প ব্যবধানে হারলেও শীর্ষে থাকবেন এউইন মরগানরা। বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ইংল্যান্ডের রানরেট অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু...

হ্যাঁ, বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। তবে কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডের রানরেট দুই দলের পক্ষেই অতিক্রম করা সম্ভব। ধরা যাক, আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অস্ট্রেলিয়া ঠিক ১০০ রানে হারিয়ে দিল। তখন দলটির রানরেট হয়ে যাবে ১.৮২৫। এ রানরেট ইংল্যান্ডের বর্তমান রানরেটের চেয়ে কম। কিন্তু পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ফর্মে হাজির হয় এবং ইংল্যান্ডকে ঠিক ১০০ রানেই হারিয়ে দেয়? তখন ইংল্যান্ডের ৩-এর ওপরে থাকা রানরেটই ১.৫৪৬-এ নেমে আসবে। আর ওদিকে ইংল্যান্ডকে এত বড় ব্যবধানে হারানো ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার রানরেট ০.৭৪২ থেকে এক লাফে ১.৫৯৪ হয়ে যাবে।

default-image

এবার তিনটি রানরেট হিসাব করলেই তো দেখা যাচ্ছে, ইংল্যান্ড বাদ!

ঠিক ১০০ রানেই দুই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে, এটা মানতে ইচ্ছা না–ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জানিয়ে দেওয়া যাক, ইংল্যান্ডকে ৯৮ রানে হারাতে পারলেই আজ তাদের টপকে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর দিনের প্রথম খেলায় অস্ট্রেলিয়া যদি ৭৫ রান করে, তখন অস্ট্রেলিয়া বাকি দুই দলকেই টপকে যাবে। সমীকরণ অনুযায়ী, অন্য দুই দলের ম্যাচের ফল যা–ই হোক না কেন, অস্ট্রেলিয়া আজ ৭৫ রানের ব্যবধানে জিতলে অন্তত এক দলের চেয়ে তাদের এগিয়ে থাকা নিশ্চিত।

আর অস্ট্রেলিয়া যদি আজ ৫২ বা এর কম রানের ব্যবধানে জিতে তাহলে আজ এক বল হওয়ার আগেই ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে আজ শুধু আগে ব্যাটিং করলেই হবে ইংল্যান্ডের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন