বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

৬৮ রানে অলআউট হওয়ার কাণ্ড মানেই তো নানা রেকর্ডের জন্ম। এর মধ্যে প্রথম রেকর্ডটি বলে ফেলা যাক। এ টেস্টেই অভিষিক্ত স্কট বোল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪ ওভার বল করে ৭ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ম্যাচ শেষে তাঁর ফিগার দাঁড়িয়েছে ৫৫ রানে ৭ উইকেট। অর্থাৎ প্রতি ৭.৮৫ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন বোল্যান্ড।

ন্যূনতম কত ম্যাচ খেলেছেন, সেটা ধর্তব্য না হলে; টেস্ট ইতিহাসে অন্তত ৫ উইকেট পাওয়া বোলারদের মধ্যে সর্বকালের সেরা বোলার এখন বোল্যান্ড। এত দিন এ রেকর্ড ছিল চার্লস স্মিথের। ১৮৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন ইংলিশ পেসার। মাত্র এক টেস্টের ক্যারিয়ারে তাঁর গড় ছিল ৮.৭১।

পোর্ট এলিজাবেথে টেস্টে ৩৮.২ ওভার বল করেছিলেন স্মিথ। তবে ওভারের দৈর্ঘ্য ৪ বলের হওয়ায় তাঁর স্ট্রাইকরেট ছিল ২২। এত দিন এটাই তাঁকে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মেলবোর্নে প্রতি ১৪.৫ বলে একবার উইকেট নিয়ে এখানেও সেরা বোল্যান্ড।

default-image

এ রেকর্ড টিকে থাকবে কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না। সাধারণত ৭ রানে ৬ উইকেটপ্রাপ্তি যেকোনো বোলারকে পরের টেস্টের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু এবারের অ্যাশেজে পাঁচ উইকেট পাওয়া তিন অস্ট্রেলিয়ানের দুজনই খেলেছেন ভাগ্যক্রমে। দ্বিতীয় টেস্টে ঝাই রিচার্ডসন সুযোগ পেয়েছিলেন কামিন্স ও হ্যাজলউড না থাকায়। কামিন্স ফেরায় ও হালকা চোট থাকায় ছিটকে গেছেন কামিন্স। আর সে সুযোগেই সুযোগ পেয়েছেন বোল্যান্ড। আগামী টেস্টে হ্যাজলউড ফিরলে বোল্যান্ডের বাদ পড়াটাই স্বাভাবিক। ৩২ বছর বয়সে অভিষিক্ত এই পেসার আর কখনো টেস্ট না খেললেও তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এর চেয়ে যে রেকর্ড টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে, তা নিয়ে আলোচনা করাই ভালো। আজ ৭ রানে ৬ উইকেট পেয়েছেন বোল্যান্ড। টেস্টের এক ইনিংসে এর চেয়ে কম রানে ৬ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড মাত্র একটি। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে থাকার কথা। ২০০২ সালে ঢাকা টেস্টে ৩ উইকেটে ৮০ রান থেকে ৮৭ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। আর এতে ভূমিকা রেখেছিলেন ৩ রানে ৬ উইকেট নেওয়া জার্মেইন লসন। অবশ্য তাঁর ৬টি উইকেট এসেছিল ১৫ বলের মধ্যে, কোনো রান খরচ না করেই!

default-image

ব্যক্তিগত রেকর্ড থেকে দলীয় রেকর্ডে গেলেও স্বস্তি পাবে না ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড ২৮ ওভারও টিকতে না পারায় মেলবোর্ন টেস্ট শেষ হয়েছে ১০৮৪ বলে। গত ৭০ বছরে এত কম বলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো ম্যাচ শেষ হয়নি।

২৬৭ রান করেও ইনিংস ব্যবধানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৬ সালের পর টেস্টে এত কম রানে এমন জয় পায়নি কোনো দল। অ্যাশেজে এমন কিছু তো দেখা গেল ১৩৩ বছর পর! টেস্ট ইতিহাসে সব মিলিয়ে মাত্র সাতবার এর চেয়ে কম রান করেও ইনিংস ব্যবধানে জিততে পেরেছে কোনো দল। আর তাতেই হয়েছে আরেকটি রেকর্ড। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮২ রানের লিডের পরও ইনিংস ব্যবধানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ইতিহাসে এত কম নিয়ে লিড নিয়ে এভাবে জেতার রেকর্ড আছে আর মাত্র দুবার।

default-image

১৯৫৫ সালে মাত্র ৪৬ রানের লিডের পরও ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। কারণ অকল্যান্ডে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৬ রান করে ইতিহাস গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ঘটনার স্মৃতি অত পুরোনো নয়। ২০০৯ সালে জ্যামাইকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৪ রানের লিড নিয়ে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংলিশদের মাত্র ৫১ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল জেরম টেলরের অসাধারণ এক স্পেল।

স্টার্ক ও বোল্যান্ডের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে চার ইংলিশ ব্যাটসম্যান শূন্য হাতে ফিরেছেন। এতে ২০২১ সালে টেস্টে ৫৪টি ‘ডাক’ পেয়েছে ইংল্যান্ড। এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি শূন্যের নিজেদের আগের রেকর্ড ছুঁতে পেরেছে ইংল্যান্ড। তবে ১৯৯৮ সালের সে রেকর্ড একটি বেশি ম্যাচ (১৬ টেস্ট) খেলে গড়েছিল ইংল্যান্ড। সেদিক থেকে এটিই নতুন রেকর্ড। আর ২০২১ সালে সব সংস্করণ মিলে সবচেয়ে শূন্য ছিল বাংলাদেশের (৬৬টি)। আজ সে রেকর্ডেও পাশে বসল ইংল্যান্ড।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন