তামিমদের দিনটা খুব একটা আনন্দে কাটেনি।
তামিমদের দিনটা খুব একটা আনন্দে কাটেনি। ছবি: শামসুল হক

আবারও দাঁড়িয়ে গেলেন এনক্রুমা বোনার!

ওয়ানডে সিরিজে এক ইনিংসে ৩১ রানের বেশি করতে পারেননি। টেস্ট সিরিজে এসে ভোল পাল্টে ফেলেন বোনার। চট্টগ্রাম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে পারেননি, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংস থেকে চওড়া হয়ে উঠেছে বোনারের ব্যাট।

৩৯৫ রান তাড়া করে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছিল তাঁর ২৪৫ বলে ৮৬ রানের ইনিংস। আজ মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনেও উইকেটে শেকড় গড়ে বসেছেন তিনি। বোনারের ১৭৩ বলে ৭৪ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মিরপুরে আজ দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটাকে একটা বাক্যে হয়তো বুঝিয়ে দেওয়া যায়—ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি! পুরো ৯০ ওভার খেলা হয়েছে, এমন দিনের হিসেবে মিরপুরে কোনো টেস্টে এক দিনে এর চেয়ে কম রান কখনো হয়নি। বাংলাদেশও নিতে পেরেছে মাত্র ৫ উইকেট। বাংলাদেশ স্পিনার আর মিডিয়াম পেসারদের নিয়েই নামায় গতির ঝড়ও ছিল না পিচে।

বিজ্ঞাপন

আজ তিন সেশনের মধ্যে দ্বিতীয় সেশনটা সবচেয়ে ভালো কেটেছে বাংলাদেশের বোলারদের। এ সেশনে ২৯ ওভারে ৬২ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। সে তুলনায় প্রথম ও শেষ সেশনে ১টি করে উইকেট নেওয়ার বিনিময়ে যথাক্রমে ৮৪ ও ৭৭ রান দিয়েছেন বোলাররা। উইকেটে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন বোনার ও জশুয়া দা সিলভা (২২)।

default-image

চা বিরতির পর শেষ সেশনে জার্মেইন ব্ল্যাকউডকে তুলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে ফিরতি ক্যাচ দেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে ১০৯ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাঠ ছেড়েছেন বোনার–জশুয়া।

দুই ওপেনার ক্রেগ ব্রাফেট ও জন ক্যাম্পবেলের সুবাদে সর্বোচ্চ ৬৬ রানের জুটি পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাইজুল ক্যাম্পবেলকে তুলে নেওয়ার আগে বোলারদের সহজেই খেলেছিলেন তারা।

২০তম ওভার পর্যন্তও গড়ে ৩.৩০ করে রানরেট ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ততক্ষণে পাঁচ বোলারকে ব্যবহার করেছেন মুমিনুল। সে সময় পরিকল্পনাহীন মনে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। এর মধ্যে একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচেও যান ক্যাম্পবেল। ৩৬ রান করে তাইজুলের বলে এলবিডব্লু হন ক্যাম্পবেল।

বোনার–জশুয়ার জুটিটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ইনিংসে দলীয় সংগ্রহ অন্তত সাড়ে তিন শ পর্যন্ত নিতে কাল দ্বিতীয় দিনেও দুজনকে ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাট করতে হবে। কেননা এরপর রাকিম কর্নওয়াল ছাড়া আর স্বীকৃত কোনো ব্যাটসম্যান নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

প্রথম সেশনে শুধু ক্যাম্পবেলকে হারানোর পর দ্বিতীয় সেশনে বিপদে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মধ্যাহ্নবিরতির পর পঞ্চম ওভারে আবু জায়েদের বল স্টাম্পে টেনে আনেন শেন মোজলি (৭)। এরপর পথের কাঁটা হয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ও ওপেনার ক্রেগ ব্রাফেটকে তুলে নেন সৌম্য সরকার।

১২২ বলে ৪৭ রান নিয়ে উইকেটে জেঁকে বসেছিলেন ব্রাফেট। তাঁকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর তালুবন্দী করেন সৌম্য। ক্যাম্পবেল আউট হওয়ার পর বাংলাদেশ পরের ৩টি উইকেট তুলে নিয়েছে ৫০ রানে, ২৭.১ ওভারের মধ্যে। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ ও তাইজুল। ১ উইকেট নেন সৌম্য সরকার। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত অলআউট করতে পারবে বাংলাদেশ—এমন আশাও জেগেছিল।

কিন্তু এক বোনার-জশুয়া জুটি তা আর হতে দিল কই!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন