বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৯৩৫ সালে ইতালির মিলানে জন্ম ডেক্সটারের। কেমব্রিজে স্নাতক কোর্সে দুটি বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তবে অন্য দিকে বেশি নজর ছিল বলে পড়াশুনা আর শেষ করতে পারেননি সেখানে। কেমব্রিজের হয়েই ১৯৫৬ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ডেক্সটারের। সাসেক্সের অধিনায়ক রবিন মারলার তাঁর দলে ডেক্সটারকে কয়েকটা ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, তবে সে সবে আগ্রহী হননি তিনি। কদিন আগেই যে প্রেমিকার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল ডেক্সটারের। পরে জানিয়েছিলেন, সে সময় কোপেনহেগেনে এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। সে প্রেম বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলেন কীভাবে!

default-image

তবে কেমব্রিজের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স নজরে এসেছিল ইংল্যান্ডের। ১৯৫৭ সালেই দলে নেওয়া হত তাঁকে, সে সময় আবার চোটে পড়েন তিনি। পরের বছর ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক তাঁর, অভিষেকেই করেছিলেন ফিফটি। তবে অ্যাশেজ দলে শুরুতে জায়গা হয়নি তাঁর। অবশ্য চোটজর্জর ইংল্যান্ড দ্বারস্থ হয়েছিল ডেক্সটারের, সে সময় প্যারিসে ছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় ঠিকই গিয়েছিলেন, তবে এর আগে সেরেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ—ঘোষণা দিয়েছিলেন বাগদানের। ঘটনাবহুল ভ্রমণ শেষে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেছিলেন, তবে সেখানে শুরুতে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে রাখা হয় তাঁকে।

যে দুই টেস্টে খেলেছিলেন অ্যাশেজে, ব্যর্থ হয়েছিলেন। অবশ্য ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪১ রানের ইনিংস দিয়ে নিজের অবস্থানটা শক্ত করেছিলেন শিগগিরই। ১৯৬০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ব্রিজটাউনে ১৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ডেক্সটারের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস এসেছিল সে সফরেই। ওয়েস হলের গতিকে কোনো পাত্তা না দিয়েই করেছিলেন ৭৭ রান। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার ডেক্সটার ক্যারিয়ারে বিখ্যাত ছিলেন তাঁর ব্যাকফুটের ড্রাইভের জন্য। ইংল্যান্ড ক্রিকেটে ডেক্সটার ‘গ্ল্যামার’ এনেছিলেন, বলা হতো এমনটাই। ১৯৬১ সালে উইজডেনের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হয়েছিলেন তিনি।

১৯৬১ সালেই ইংল্যান্ডকে প্রথমবার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ডেক্সটার—পাকিস্তান ও ভারত সফরে। সে সফরেই করাচিতে ক্যারিয়ারের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন তিনি। চারটা অ্যাশেজে খেলেছিলেন, তবে জয় পাননি একটিতেও। ১৯৬১ সালে এজবাস্টনে করেছিলেন ১৮০ রান। ১৯৬৩ সালে লর্ডসে আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্বলে উঠেছিলেন ডেক্সটার। ম্যাচ বাঁচাতে ভাঙা হাত নিয়ে সেবার নেমেছিলেন কলিন কাউড্রি, ডেক্সটার খেলেছিলেন ৭৫ বলে ৭০ রানের ইনিংস।

ফ্রেড ট্রুম্যান বলতেন, অধিনায়ক হিসেবে ডারউইনের চেয়েও বেশি তত্ত্ব ছিল ডেক্সটারের। ১৯৬৪ সালের পর অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

পরের বছর ডেক্সটার পড়েন এক অদ্ভুত দুর্ঘটনায়, যেটিতে ক্যারিয়ার প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল তাঁর! এমনিতে জুয়ার নেশা ছিল ডেক্সটারের। ১৯৬৫ সালে ৩০ বছর বয়সী ডেক্সটার পুরো দিন কাটিয়েছিলেন নিউবেরিতে, ঘোড়দৌড়ের মাঠে। লন্ডনে এক ফ্লাইওভারের নিচে গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে গিয়েছিল। সেটা রাস্তা থেকে সরাতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে ফেলেন পা। সে রাতেই অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

১৯৬৮ সালে অ্যাশেজে দুই টেস্টের জন্য আবার ডাকা হয়েছিল ডেক্সটারকে, তবে তেমন কিছু করতে পারেননি। ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন এরপরই। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচক। তবে ডেভিড গাওয়ার, জ্যাক রাসেলদের বাদ দিয়ে হয়েছিলেন বিতর্কিত। অবশ্য ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে এক দিনের টুর্নামেন্ট, চার দিনের ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে ইংল্যান্ড ‘এ’ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিদেশ সফর, বিশেষজ্ঞ কোচ প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন ডেক্সটার। ২০০২ সালে হয়েছিলেন এমসিসির প্রেসিডেন্ট।

খেলা ছাড়ার আগেই ১৯৬৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে কার্ডিফে এক আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন ডেক্সটার। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া জেমস ক্যালাহানের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। রাজনীতির মাঠে ঠিক সুবিধা করতে পারেননি, নির্বাচনের পরপরই সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আর এবার বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকেই।

ডেক্সটারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে এমসিসি, আইসিসি। সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন টুইটারে লিখেছেন, ‘আশা করি, ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা আজ সেভাবেই খেলবে, যে শৈল্পিক স্টাইলকে টেড ডেক্সটার অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।’ ধারাভাষ্যকার মার্ক নিকোলাস লিখেছেন, ‘টেড ডেক্সটার চলে গেলেন। আমার ছেলেবেলার নায়ক, শিক্ষক, প্রিয় বন্ধু। ক্রিকেটকে আধুনিক যুগে নিয়ে আসার পেছনে তাঁর অবদান তো কম নয়!’

হেডিংলিতে দ্বিতীয় দিন ডেক্সটারের স্মরণে কালো আর্মব্যান্ড পরে নেমেছে ইংল্যান্ড।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন