দুবাইয়ে আইসিসির ত্রৈমাসিক বৈঠকে নিজের চার জাতির টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রস্তাব পাস করানোর ইচ্ছা রমিজ রাজার। প্রতিবছর অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা নির্দিষ্ট চার দল হলেও তাঁর দাবি, এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ সব সদস্য দলের তহবিলেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পিসিবির প্রাথমিক ধারণা সম্প্রচার সত্ত্ব থেকে ৬৫ কোটি ডলার (৫৬০০ কোটি টাকা) আয় করা সম্ভব। আর আর্থিকভাবে লাভ করার এমন প্রস্তাবে নাকি নড়েচড়ে বসছে সব বোর্ড। প্রস্তাবে রমিজ আইসিসিকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করার অনুরোধ জানাবেন।

ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হচ্ছে না বহুদিন। খেলার মাঠের প্রভাবটা সবাই টের পাচ্ছেন, কিন্তু আর্থিক ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছে পাকিস্তান। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বোর্ড বিসিসিআই তাদের ব্যবসায়িক দিকটা এত দারুণভাবে সামলে নিয়েছে যে পাকিস্তানের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে না খেললেও এর প্রভাব টের পাচ্ছে না। পাকিস্তানের তো আর তা নয়। তাই বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের বাইরে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলার উপায় বের করেছেন রমিজ। আর তা হলো বিশ্বের শীর্ষ চার ধনী ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে বার্ষিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন।

যদিও ভারত এমন টুর্নামেন্টে রাজি হবে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ আছে। তা ছাড়া ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনায় নতুন এই টুর্নামেন্ট কীভাবে জায়গা পাবে, সেটাও বিবেচ্য। এখন আইপিএল ও অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে এমনিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের দম ফেলার সময় মেলে না। বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড দল তো কিছুদিন পরপরই তাঁদের ক্রিকেটারদের বিশ্রামে পাঠাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের জন্য তাজা রাখতে। তা ছাড়া যে টুর্নামেন্টে কখনো অংশ নিতে পারবে না, এমন কিছুতে অন্য আট সদস্য দলের সায় দেওয়া কঠিন।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান তিন দেশের বেশি দেশ নিয়ে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হলে সেটা আইসিসি ইভেন্ট বলে গণ্য হবে। সে টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্য অর্থ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। রমিজ রাজা সে প্রস্তাবই দিতে চান। যদিও গত পরশু সদস্যরা চার জাতির টুর্নামেন্টকে আইসিসি ইভেন্টের বাইরে নেওয়া যায় কি না, এ প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেছেন।

ক্রিকইনফো জানিয়েছে, বেশ কিছু বোর্ড চার জাতি টুর্নামেন্টের পক্ষে আগাম সায় জানিয়েছে। পাকিস্তান বোর্ড তো প্রস্তাবই দেবে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকেও সায় দেওয়া হয়েছে। সায় দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডও। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন নিজে আলোচনায় তুলেছেন এই প্রস্তাব।

বিসিসিআই এখনো প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তবে তারা যে একদম বিমুখ, এমন নয়। ২০১৯ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী নিজেই প্রথম চার জাতি টুর্নামেন্টের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে শুধু এই পাঁচ বোর্ড সায় দিলেই হবে না, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট প্রয়োজন হবে এই প্রস্তাব পাস হতে।