বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

চাহারের ইনিংস এবং ভারতকে এভাবে জেতানো দেখে অনেকের হয়তো ২০১৭ সালে এমনই শ্রীলঙ্কা সফরে মহেন্দ্র সিং ধোনির ইনিংসের কথা মনে পড়ে গেছে। সেটিও ছিল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে, শ্রীলঙ্কার ২৩৬ রানের জবাবে ১০৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পর আকিলা দনাঞ্জয়ার ধাক্কায় ভারতের স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৩১। উদ্বোধনী জুটি ভাঙা দনাঞ্জয়া নিয়েছিলেন এই ৭ উইকেটের ৬টিই!

সেখান থেকে ধোনির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। অষ্টম উইকেটে এই ভুবনেশ্বরকে সঙ্গে নিয়েই ১০০ রানের জুটি গড়েন ধোনি। সেখানে অবশ্য ধোনি ছিলেন 'অ্যাঙ্করের' ভূমিকায়, ভুবনেশ্বর মূলত আগ্রাসন চালিয়েছিলেন। ধোনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৪৫ রানে, ভুবনেশ্বর করেছিলেন অপরাজিত ৫৩। বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ফল দেখা ম্যাচটা ভারত ৩ উইকেট হাতে রেখেই জিতেছিল ভারত।

আইপিএলে ধোনির দল চেন্নাই সুপার কিংসে খেলা চাহারই কাল হলেন 'ধোনি।'

এর আগে বল হাতেও কাল দুই উইকেট নিয়েছিলেন মূলত বোলার পরিচয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসা দীপক চাহার। কালকের আগে চাহারের পরিচয় মূলত ছিল—বোলার, যিনি ব্যাটিংটা একটু-আধটু পারে। কালকের আগে চার ওয়ানডেতে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১২ রানের।

চার ম্যাচ দিয়ে তো আর কিছু বোঝা যায় না, সে ক্ষেত্রে চাহারের পরিচয় বলতে পারে তাঁর ‘লিস্ট এ’ ক্যারিয়ার। সেখানেও কালকের ফিফটি নিয়ে ৪৮ ম্যাচে দুটি ফিফটি তাঁর, সর্বোচ্চ ইনিংস কালকেরটিই। ব্যাটিং গড় কালকের পর দাঁড়িয়েছে ১৬.২৫! এমন একজনকে অলরাউন্ডার বলতে যদি কারও বেধে থাকে, কাল ব্যাট হাতে সেটির উত্তর দিলেন চাহার।

ম্যাচ শেষে তাই ভারতের এই ‘দ্বিতীয় দলে’র অধিনায়ক শিখর ধাওয়ানের প্রশংসা পেলেন চাহার, ‘এই ম্যাচগুলো থেকেই আমরা দল হিসেবে আরও শিখতে পারব, খেলোয়াড়রা শিখবে এই ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে সামলে নিতে হয়। প্রত্যেকেই নিজেদের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। চাহার নেটে ওর ব্যাটিং নিয়ে যে কাজ করছে সেটা তো জানতামই। ওর পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো উপস্থিত বুদ্ধি আর লেগ স্পিনারদের বিপক্ষে ওর হিসেব-নিকেশ করে খেলা দেখতে দারুণ লেগেছে। ভুবি (ভুবনেশ্বর) আর ও দারুণভাবে পরিস্থিতি হিসাব করে ব্যাটিং করেছে।’

default-image

চাহারের আগে ভারতের ইনিংসের গল্পটা ছিল উত্থান-পতনের। শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার বানিন্দু হাসারাঙ্গা ভারতের তিন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট (দুই ওপেনার পৃথ্বী শ ও ধাওয়ান আর সাতে নেমে ৩৫ রান করা ক্রুনাল পান্ডিয়ার) নিয়েছেন। নিজের প্রথম—ইনিংসের তৃতীয়—ওভারের শেষ বলে ফিরিয়েছেন পৃথ্বীকে (১১ বলে ১৩), ইনিংসের ১২তম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লু করেছেন ধাওয়ানকে (৩৮ বলে ২৯)।

এর মাঝে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে কাসুন রাজিথা এসে আগের ম্যাচে অভিষিক্ত ইশান কিষানকেও বোল্ড করে দেন (৪ বলে ১)। ধাওয়ান আউট হতে তাই ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৬৫।

আগের ম্যাচেই অভিষিক্ত আরেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান সূর্যকুমার যাদব তখন প্রথম দফায় ইনিংস মেরামতের কাজ হাতে নেন। ধাওয়ান ফেরার পর চতুর্থ উইকেটে মনীশ পান্ডের (৩১ বলে ৩৭) সঙ্গে যাদব গড়েন ৫৫ রানের জুটি। এরপর ১৮তম ওভারে পান্ডের রানআউটের পর হার্দিক পান্ডিয়াও (৩ বলে ০ রান) সান্দাকানের বলে আউট হওয়ায় আবার চাপে পড়ে ভারত। ১৮ ওভার শেষ হতেই অর্ধেক ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে, অথচ তখনো ভারতের রান ১১৬।

সেখান থেকে আবার ক্রুনাল পান্ডিয়াকে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ইনিংস মেরামতের কাজ হাতে নেন যাদব। আইপিএলের সৌজন্যে তারকা বনে যাওয়া যাদব শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৫৩ রান করে যখন আউট হচ্ছেন, ভারতের রান ৬ উইকেটে ১৬০। তখনই ক্রিজে আগমন দীপক চাহারের।

সপ্তম উইকেটে কিছুক্ষণ ক্রুনালকে পাশে পেয়েছিলেন চাহার, দুজনে মিলে সপ্তম উইকেটে আরও ৩৩ রান যোগ করেন। ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে ক্রুনাল (৫৪ বলে ৩৫) আউট হওয়ার সময়ও চাহারের রান ছিল ২৬ বলে মাত্র ৯! সেখান থেকে ভুবনেশ্বর কুমারকে নিয়ে প্রথমে দেখেশুনে শুরু করেন চাহার।

default-image

জুটিতে প্রথম ২৭ বলে কোনো বাউন্ডারি আসেনি। ৪১তম ওভারের পঞ্চম বলে সান্দাকানকে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে যখন সীমানাছাড়া করছেন চাহার, তাঁর নামের পাশে তখনো ৪৬ বলে ২৭ রান। ওই ওভার শেষে ভারতের দরকার ছিল ৫৪ বলে ৬০ রান। সেভাবে আগ্রাসী হওয়ার দরকার ছিল না, কিন্তু হাতে তো উইকেট ছিল মাত্র তিনটি!

সেখানেই চাহারের ইনিংসের বিশেষত্ব। ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন, দেখেশুনে খেলেছেন বানিন্দু হাসারাঙ্গাকে। একটা চার আর ছক্কা ছাড়া বাকি সময়ে সমঝে চলেছেন সান্দাকানকেও। দুই পেসার কাসুন রাজিথা ও দুষ্মন্ত চামিরা বোলিংয়ে এলে তাঁদের মূলত আক্রমণ করেছেন চাহার। শেষ ওভারের প্রথম বলে রাজিথাকে চার মেরে যখন ভারতকে জয় এনে দিলেন চাহার, তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৮২ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৬৯ রানের ইনিংস।

এর আগে শ্রীলঙ্কারও আটে নামা চামিকা করুণারত্নে ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন, তাতেই শ্রীলঙ্কার রান ২৭৫-এ পৌঁছেছে। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসের আগে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছেন পাঁচে নামা চারিথ আসারাঙ্কা (৬৮ বলে ৬ চারে ৬৫) ও ওপেনার আভিষ্কার ফার্নান্দো (৭১ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৫০)। উইকেটকিপার মিনোদ ভানুকার (৩৬ রান) সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৭০ রান এনে দিয়েছিলেন ফার্নান্দো।

ম্যাচ শেষে আসালাঙ্কার তাই আফসোস ঝরল বোলিং নিয়েই, ‘ভেবেছিলাম আমরা ভালো একটা স্কোর দাঁড় করাতে পেরেছি, কিন্তু শেষদিকে পথ হারিয়েছি। শ্রীলঙ্কার দলটা তরুণ, সিরিজ হেরে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের মন বেশ খারাপ, কিন্তু আশা করি এখান থেকে আমরা ফিরে আসব।’

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ আগামী শুক্রবার একই ভেন্যুতে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন